প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারীর ক্ষমতায়নে বাজার ব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করবে জয়িতা ফাউন্ডেশন

স্মৃতি খানম: নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসাবে জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বাড়াতে ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে “জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বিনির্মাণ” প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মনে করে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই ফাউন্ডেশনের আওতায় কর্মরত তৃণমূল পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তা সমিতিগুলোর ব্যবসানুকূল প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে। যার মাধ্যমে উদ্যোগী নারীদের সব প্রয়োজনীয় সহায়তা সেবা প্রদান ও ব্যবসা অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিসহ নারীবান্ধব ভৌত বাজার কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে বহুমূখী ব্যবসা উদ্যোগের জন্য নারীদের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

নারীদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টি করবে জয়িতা ফাউন্ডেশন। সেক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নারী উদ্যোক্তা সমিতি ও ব্যক্তি নারী উদ্যোক্তাদের বহুমূখী ব্যবসা, উদ্যোগ সফল ও ফলপ্রসূভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম করে গড়ে তুলতে পারে তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যার জন্য প্রয়োজন জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বাড়ানো। তাই জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বাড়াতে ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এই প্রকল্পটির বাস্তবায়নের কাজ শুর হবে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর। প্রকল্পটি রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সক্ষমতা, ভৌত অবকাঠামোগত সক্ষমতা, ব্যবসা উদ্যোগ উন্নয়ন সক্ষমতা, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন সক্ষমতা, সংস্কার ও পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বিনির্মাণ করা হবে।প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য হচ্ছে, জয়িতা ফাউন্ডেশনকে একটি অনন্য ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৈরি করা যাতে এটি বহুমুখী ব্যবসা উদ্যোগে বর্ধিষ্ণু অর্থনেতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশের নারী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এবং ক্রমান্বয়ে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাহায্য, অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতা দিতে সক্ষম হয়।
একইভাবে জয়িতা ফাউন্ডেশনকে প্রাতিষ্ঠানিক, কারিগরি ও আর্থিকভাবে সক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্দেশ্য হচ্ছে যেন প্রতিষ্ঠানটি নারী উদ্যোক্তা সমিতি ও ব্যক্তি নারী উদ্যোক্তাদের বহুমূখী ব্যবসা, উদ্যোগ সফল ও ফলপ্রসূভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম করে গড়ে তুলতে পারে একইসঙ্গে পর্যায়ক্রমে ২৮ হাজারের বেশি নারীকে সম্পৃক্ত করে নারী উদ্যোক্তা সমিতি বা ব্যক্তি নারী উদ্যোক্তাদের বহুবিধ ব্যবসা উদ্যোগের সক্ষমতা উন্নয়ন করা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি জানিয়েছেন, দেশের নারী সমাজের ব্যবসা-বাণিজ্য অংশগ্রহণ বাড়াতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা সেবা দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ জয়িতা ফাউন্ডেশন । বর্তমান আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসা বাণিজ্য তথা আয়বর্ধক বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাঠে নারীর অংশগ্রহণ উত্তরোত্তর বাড়ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। সঙ্গত কারণেই শিক্ষিত নারী সমাজের মধ্যে সম্মানজনক জীবিকায়নের প্রত্যাশাও বাড়ছে। তাই এই ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি নারী উন্নয়নে গুরত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ব্যবসা অঙ্গনে নারীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং নারীর প্রয়োজন ও চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল একটি সমান্তরাল বাজার ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সৃষ্টি করা প্রয়োজন। এই উপলব্ধি থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছে অনুযায়ী ব্যবসা –বাণিজ্যে নারী সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধমে তাদের সম্মানজনক জীবিকায়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার স্বার্থে একটি স্থায়ী ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে জয়িতা ফাউন্ডেশনকে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মূল দায়িত্ব হলো নারীদের জন্য দেশজুড়ে বাজার ব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করা।

উল্লেখ্য, ‘জয়িতা’ এখানে বিজয়ী নারীর প্রতীকী নাম। জয়িতা উদ্যোগের প্রণেতারা বিশেষ করে ব্যবসা ক্ষেত্রে নারীর বিজয়ের স্বপ্ন দেখেন। সে বিবেচনায় নারীমুক্তির একটি মহৎ স্বপ্নের নামও জয়িতা। যার প্রতিফলন জয়িতা ফাউন্ডেশনের লোগোতে রয়েছে। গত ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে সরকারের অর্থায়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত¡াবধানে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর ‘জয়িতা’শীর্ষক একটি কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন শুর করে। কর্মসূচিটির মেয়াদ ছিল তিন বছর। কর্মসূচি শুর কিছুদিন পরেই ‘জয়িতা’ কেন্দ্রিক নারীমুক্তির স্বপ্নটিকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদফতর ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ নামে একটি অভিনব কার্যক্রমের সূচনা করে। ফলশ্রতিতে জয়িতার পরিচিতি যেমন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি জয়িতাকে কেন্দ্র করে দেশের নারীসমাজের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আশাবাদ সঞ্চারিত হয়। প্রাথমিকভাবে ঢাকায় একটি নারীবান্ধব বিপণন পরিকাঠামো গড়ে তুলে তৃণমূলের নারী উদ্যোক্তাদেরকে (যাদের নিজস্ব উদ্যোগে তৈরি করা বিপণনযোগ্য পণ্য রয়েছে) পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের সুযোগ করে দেওয়া হয়। কার্যক্রমটির ধারাবাহিকতা অক্ষুণœ রাখার জন্য পরবর্তীতে “জয়িতা ফাউন্ডেশন” নামে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগী একটি অলাভজনক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। জয়িতা ফাউন্ডেশন সোসাইটিস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, এক্সএক্সআই অফ ১৮৬০ এর আওতায় জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্ম কর্তৃক নিবন্ধনকৃত প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসাবে জয়িতা ফাউন্ডেশনের সক্ষমতা বাড়ানো, জয়িতা ফাউন্ডেশনের আওতায় কর্মরত তৃণমূল পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তা সমিতিগুলোর ব্যবসানুকূল প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো, সব প্রয়োজনীয় সহায়তা সেবা দেওয়া ও ব্যবসা অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিসহ নারীবান্ধব ভৌত বাজার কাঠামো গড়ে তোলা এবং বহুমূখী ব্যবসা উদ্যোগের জন্য নারীদেরকে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও দক্ষতা দান করা। সূত্র: জাগো টিভি