প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিন জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৪

বাংলা ট্রিবিউন থেকে: দেশের তিন জেলায় কথিত বন্দুকযুদ্ধের পৃথক ঘটনায় চার জন নিহত হয়েছে। সিলেট, মুন্সীগঞ্জ ও কক্সবাজারে বন্দুকযুদ্ধের এসব ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, নিহতরা মাদক ব্যবসায় জড়িত এবং ডাকাতি ও বিভিন্ন মামলার আসামি।

সিলেট

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মোগলাবাজার থানাধীন পারাইচক এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আব্দুস শহীদ (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত আব্দুস শহীদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে র‌্যাব। বুধবার (২১ নভেম্বর) ভোরে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আব্দুস শহীদ দক্ষিণ সুরমার তেলিবাজার আহম্মদপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান জানান, ‘র‌্যাব-৯ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পারাইচক এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় মাদক ব্যবসায়ী শহীদ র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালালে র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এসময় শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী শহীদ গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে ভোর ৪টার দিকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আবুল হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত আবুল হোসেন একজন মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে র‍্যাব। বুধবার (২১ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার সোনারং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। র‍্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক মেজর আশিক বিল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন।

মেজর আশিক বিল্লাহ জানান, বুধবার রাত ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাবের একটি দল টঙ্গীবাড়ির সোনারং এলাকায় অভিযান চালায়। সোনারং প্রধান সড়কের পাশে আবুল হোসেন তার বাহিনীর ৪-৫ জন সদস্য নিয়ে মিটিং করছিল। তারা র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালালে র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে তারা পালিয়ে গেলে আবুল হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে টঙ্গীবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের মরদেহ টঙ্গীবাড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, ১টি ম্যাগাজিন, ৫০০ পিস ইয়াবা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। নিহত আবুল হোসেন একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার নামে বিভিন্ন থানায় ১৮টি মামলা আছে।

কক্সবাজার

কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভে ইয়াবা চালান খালাসকে কেন্দ্র করে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (২১ নভেম্বর) ভোরে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা ও অস্ত্রসহ দুই জন গুলিবিদ্ধের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, নিহত নজির আহমদ ওরফে নজির ডাকাত (৩৮) সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে ও হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নয়াপাড়ার আমির হামজার ছেলে আবদুল আমিন। তাদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও মাদকসহ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ‘কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে ইয়াবা খালাসকে কেন্দ্র করে দুই ইয়াবা ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি ঘটনা ঘটেছে এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় লোকজন লাশ দু’টি নজির আহমদ ও আবদুল আমিন বলে শনাক্ত করে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে ৪টি এলজি অস্ত্র, ৯ রাউন্ড গুলি ও ১০ হাজার ১৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘ইয়াবাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের গোলাগুলির ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়েছে। দুজনই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ