প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইতিহাসের কঠিন নির্বাচনের মুখোমুখি ইসি : মনজুরুল ইসলাম

মো: মারুফুল আলম: ডিবিসি নিউজএর প্রধান সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সবচেয়ে কঠিন নির্বাচন ফেইস করছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পরের ইতিহাসে এত কঠিন চাপের মধ্যে কোন ইলেকশন কমিশন পড়েনি, ভবিষ্যতেও পড়বে কি না জানি না। বুধবার ডিবিসি নিউজ এর টকশো’তে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে তিনটি প্যাটার্নে ইলেকশন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর সময়ে সে সময়কালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন থেকে শুরু করে ’৯০-এর ইলেকশন ছাড়া আধা-সামারিক, পুরা-সামরিক এবং একরকম একতান্ত্রিক সরকারের অধীনে এ দেশে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু দেখা গেছে, তিনটি প্যাটার্ণের মধ্যে এটি একেবারে অভিনব প্যাটার্ন। নির্বাচন হচ্ছে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে এবং সামগ্রিক অগ্রগতির ফলে মিডিয়ার চোখ, পর্যবেক্ষকের চোখ, জনগণের সচেতনতা মিলে এই নির্বাচনে একটি অন্যরকম চাপ কাজ করছে নির্বাচন কমিশনের উপর।

‘গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের রেস্ট্রিকশন’ প্রসঙ্গে মনজুরুল ইসলাম বলেন, ১১৮টি পর্যবেক্ষণ সংস্থার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সমাজ যেমন বিভক্ত, তেমনি আমাদের পর্যবেক্ষকরাও বিভক্ত। তাদেরও একটি লেভেল আছে। পর্যবেক্ষকদের নাম বললেই আইডেন্টিটি পরিস্কার চলে আসে। তদ্রুপ মিডিয়াও বিভক্ত, তবে মিডিয়ার বিভক্তির মধ্যে সুবিদা হচ্ছে, মিডিয়া পরস্পরের সঙ্গে কমপিট করে, বিধায় পলিসিগতভাবে বিভক্তি থাকলেও সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে অভিন্ন। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ব্যাপ্তির কারণে কে কার আগে দর্শকদের চাহিদা পূরণ করবে সে চেষ্টায় থাকে মিডিয়া। নিউজ বন্ধ রাখলে দর্শক ঐ চ্যানেলই দেখবে না। এটার বাস্তবতায় বলি, মিডিয়াকে রেস্ট্রিকশনে রাখা ঠিক নয়। মিডিয়াকে রাইট দেওয়া দরকার। মিডিয়া মূলত ইলেকশন কমিশনের কাজ সহজ করে দেয়। এই বাস্তবতায় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকেও তদন্ত করে সার্টিফাই করে দেওয়া হোক। কিন্তু সার্টিফাই করে দেওয়ার পরে ইন্টারন্যাশনাল পর্যবেক্ষক বিধিনিষেধ এর সাথে মিল না রাখলে প্রশ্ন উঠবে।

মনজুরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেহেতু একটি নতুন ধারার নির্বাচন বাংলাদেশকে উপহার দিতে চান, সরকারি দল এভাবে কল্পনা করতে পারেন যে, উনারা বিরোধী দলে থাকলে একটি নির্বাচনকালীন সরকারের কাছ থেকে কী কী চান না। এটাকে মাথায় রেখে সরকারি মন্ত্রীদের আচরণবিধি নূন্যতম সীমিত রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যেহেতু নির্বাচনকালিন সরকারের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে, এই বিষয়গুলো নিয়ে আলাদাভাবে বসে খোলাসা করা দরকার। কারণ এই সরকারতো শেষ সরকার না। তাই নির্বাচন কমিশনকে মাঝখানে রেখে সরকারি দল চাইলে ঐক্যফ্রন্টসহ বিরোধীদলের কয়েকজন প্রতিনিধি নিয়ে একটি প্রস্তাবনার মাধ্যমে এটি করা যায়। নিষ্পত্তি তাড়াতাড়ি করা গেলে নির্বাচনটা সুন্দর হবে। গ্রহণযোগ্য বেশি হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এর যে সমালোচনা সেটাও শেষ হবে।

মনজুরুল ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনারদের এটা বুঝা উচিত, এটাই জীবনের সর্বশেষ চাকরি বা অবস্থান। তার আজকের কর্মকান্ডের উপর নির্ভর করবে আগামি জীবনে জনগণের কাছে তার সম্মান থাকবে কি থাকবে না। এটা যদি তারা মাথায় রাখেন এবং কোন ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত দায়বদ্ধতা না রাখেন তাহলে তারা বিচারকের আসনে আসীন থাকবেন। সকলের আকর্ষণ কিন্তুনির্বাচন কমিশন এর উপর। তারা তাদের অবস্থানকে বিতর্কিত করবেন কি না এটা তাদের ভূমিকার উপর নির্ভর করছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ