প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের বর্জ্য অপসারণ পরিদর্শনে যাচ্ছে ডিএসসিসি

শাকিল আহমেদ: ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) এলাকায় শতভাগ বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা করেছেন মেয়র সাঈদ খোকন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এ প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য বিভাগের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চার দিনের সফরে ভারতের কলকাতা ও ব্যাঙ্গালোর শহর পরিদর্শনে যাচ্ছে।

জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) অভ্যান্তরীণ এক জরিপে দেখা যায়, ডিএসসিসি এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৮৯ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করা হয়। বাকি ১১শতাংশ বর্জ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে বিভিন্ন এলাকা। বর্তমানে ডিএসসিসি এলাকার বাসা বাড়িতে দৈনিক তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৩০০ টন বর্জ্য উৎপাদন হয়। এ থেকে মাত্র দুই হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার টন বর্জ্য সংগ্রহ করে ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হয়। বাকি ৩০০ থেকে ৬০০ টন বর্জ্য প্রতিদিন নগরীতে থেকে যাচ্ছে। এছাড়া নতুন করে ৮০০টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১১ মেট্রিক টন মেডিক্যাল বর্জ্য যুক্ত হচ্ছে। এসব বর্জ্য অপসারণে সংস্থার পাঁচ হাজার ২৪৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। কিন্তু তারা পুরোপুরি বর্জ্য অপসারণ করতে পারছেন না। এসব বর্জ্য ড্রেন ও স্যুয়ারেজ লাইন হয়ে নগরীর নিচু জায়গাগুলো ভরাট করছে।

এছাড়া, ড্রেন ও নর্দমা ভরাট হয়ে বর্ষা কালে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি জমে থাকা বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও রোগ-ব্যাধি। এজন্য নগরবাসীর অসচেতনতার পাশাপাশি সংস্থার জনবল সংকটকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ৪৩টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০টির নির্মাণ কাজ শেষে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৩টি এসটিএস-এর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসটিএস গুলো নির্মিত হলে বর্জ্যে দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধানমন্ডি রাসেল স্কয়ার এলাকায় ডিএসসিসি’র অত্যাধুনিক একটি এসটিএসটি। বাইরে থেকে সুন্দর অবকাঠামো থাকলেও সামনে গেলে দুর্গন্ধে থাকা টেকা দায়। এসটিএসটি’র ভেতরে জায়গা না থাকায় সামনের ফুটপাতজুড়ে ময়লা ফেলে রাখা হচ্ছে। এছাড়া, ময়লাবাহী ভ্যানগাড়িগুলো সড়কের ওপরে অবস্থান করায় যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি তীব্র দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে। মেরাদিয়া বাজার রামপুরা খাল সংলগ্ন বিশাল এলাকাজুড়ে ময়লার স্তুপ জমে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এখানে যত বর্জ্য ফেলা হয়, সবগুলো খালে গিয়ে পড়ে। মাঝে-মধ্যে রাতে সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়ি দেখলেও বর্জ্য নেয় না। ফলে বর্জ্যরে কারণে খালটি ভরে যাচ্ছে। এছাড়া বাসাবো খেলার মাঠ সংলগ্ন এলাকায় এবং বাসাবো আল শিফা মেডিক্যাল সার্ভিসের সামনে ডিএসসিসি’র বেশ কয়েকটি খোলা কনটেইনার থাকলেও তার আশপাশে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা পড়ে আছে। একই চিত্র পুরান ঢাকার বাংলা বাজার ফুটওভার ব্রিজ, নগরভবনের পেছনে দেয়াল, সিদ্দিক বাজার, বংশাল, নাজিরাবাজার, পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার ও চকবাজারের বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির বর্জ্য সড়কের পাশে ফুটপাতজুড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এদিকে, রাত ১০টা থেকে সকাল ছয়টার মধ্যে বর্জ্য ও ময়লা অপসারণ করার নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। পাশাপাশি ঢাকনাযুক্ত গাড়ি ব্যবহারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশও মানা হচ্ছে না। গত কয়েকদিন রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় দিনের বেলায় ঢাকনা ছাড়াই ট্রাকে বর্জ্য অপসারণ করতে যায়। তবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বলছে, রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত নগরীতে পরিবহনের আধিক্য থাকা এবং ঢাকনাযুক্ত ট্রাকের স্বল্পতার কারণে তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করতে পারছে না।

ডিএসসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী (বর্জ্য) আ হ ম আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, ‘সম্প্রতি আমরা আমাদের এলাকা নিয়ে একটি সার্ভে করেছি। এতে দেখা গেছে, যে পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদন হয়, তা থেকে ৮৯ ভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়। বাকি ১১ ভাগ বর্জ্য থেকে যায়। আমরা একে শতাভাগে উন্নীত করার জন্য কাজ করছি। মেয়র আমেরিকায় একটি কনফারেন্সে যোগ দিয়ে জানতে পেরেছেন, ভারতের কলকাতা ও ব্যাঙ্গালোর শহরে শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়। তাই অভিজ্ঞতার জন্য আমাদের এই শহর দুটি পরিদর্শনে পাঠানো কথা বলেছেন। তবে এখনো দিনক্ষন ঠিক হয়নি। সি ফরটি নামে একটি আর্ন্তজাতিক সংস্থার আমন্ত্রনে আমরা সেখানে যাচ্ছি। এ সংস্থাটি বর্জ্য ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বের প্রায় ৮০টি বড় শহর নিয়ে কাজ করে। সফরে থাকছেন পরিবহনের মহা ব্যবস্থাপক নিতাই রায়, প্রধান বর্জ্য কর্মতর্কা এয়ার কমোডর মো. জাহিদ হোসেন ও অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা মিল্টলাতুল ইসলাম। আশাকরি এ সফর শেষে আমরাও শতভাগ বর্জ্য অপসারন করতে পারবো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ