প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অপ্রয়োজনীয় নতুন ব্যাংক

আদম মালেক : লাইসেন্স নিয়ে নতুন ব্যাংকগুলো আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ে জড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক আকার বিবেচনায় এসব ব্যাংকের কার্যক্রমের সুযোগ খুবই সীমিত। অপ্রয়োজন মনে করে অতীতেও অনেকে ব্যাংক খোলার আবেদন করে অনুমতি পাননি। তাই বর্তমানেও নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

সূত্র জানায়, ২০০১ সালে সরকার নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সমীক্ষা চালিয়ে বলেছিল, দেশের অর্থনীতিতে আর নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। যেসব ব্যাংক আছে সেগুলোকেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানের নীতিমালায় এনে পরিচালিত করা কঠিন চ্যালেঞ্জ। কেননা ওই সময়েও ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার বেশি ছিল। মূলধন ঘাটতিও ছিল ব্যাপক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই মতামতকে গুরুত্ব¡ দিয়ে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী (প্রয়াত) এম সাইফুর রহমান বেসরকারি খাতে আর কোনো নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছিলেন। ফলে ঐ সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত কোনো নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া হয়নি। যদিও ওই সময়ে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন চেয়ে ১০৬টি আবেদন পড়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১২ সালে নতুন ৯টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছিল। দেশের অর্থনীতির বিবেচনায় নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স না দেয়ার পক্ষে মতামত দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ার পক্ষে অর্থমন্ত্রীর মতামতের ভিত্তিতে তখন ৯ ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। তখন অনেক উদ্যোক্তাই ব্যাংক পাওয়ার জন্য নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেনি। এর মধ্যে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মহীউদ্দীন খান আলমগীর লাইসেন্স পাওয়ার আগেই ফারমার্স ব্যাংকের অফিস খুলে কার্যক্রম চালিয়েছিলেন। আরেকটি ব্যাংক লাইসেন্সে নিয়ে আমানত নিলেও প্রথম এক মাস বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বাধ্যতামূলক নগদ অর্থ সংরক্ষণ বা সিআরআর সংরক্ষণ করেনি। প্রভাব খাটিয়ে অনেকেই অধিক হারে ব্যাংকের শাখা খোলার লাইসেন্স নিয়েছিলেন। যেমন ১০ বছর বয়সী একটি ব্যাংকের যেখানে শাখা রয়েছে ৬০টি, সেখানে নতুন এ ৯ ব্যাংকের কোনো কোনোটির শাখা খুলেছে ৬০টির ওপরে। জালজালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ বিতরণ, নানা অনিয়ম জড়িয়ে পড়েছে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুন এ চার ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়ায় অখুশি হয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

গত ১ নভেম্বর অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সংগঠন ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি। এর পরও চারটি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। তিনি বলেছেন, এভাবে ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ায় আমি (ভেরি আনহ্যাপি) খুবই অখুশি। এর আগেও গত ২৪ অক্টোবর সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ব্যাংকিং খাত খুব বেশি বড় হয়ে গেছে। অনেক ব্যাংক অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটা মনে হয় একটু সীমিতকরণ (কনসুলেশন) দরকার হতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ