প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনের বছর ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বাড়ছে

রাশিদ রিয়াজ : চলতি মাসেই সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে আরো ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বা ১০.৪২ বিলিয়ন টাকা ঋণ নিতে যাচ্ছে। আগামী সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের এ ঋণের পরিমান বাড়ছে বলে ব্যাংকিং সূত্রগুলো জানিয়েছে। নির্বাচনে বাড়তি ঋণ সহ সরকারের ঋণের পরিমান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২২’শ কোটি টাকা বা ২১.৫৮ বিলিয়ন টাকা। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ট্রেজারি বিল ও বন্ড ইস্যু সহ সরকারের ঋণের পরিমান দাঁড়াচ্ছে ৩ হাজার ২’শ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক অকশন ক্যালেন্ডার অনুসারে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার ঋণ নিচ্ছে সঙ্গত কারণেই কারণ ঋণের ৩২’শ কোটির ২১.৫৮ বিলিয়ন টাকা চলে যাচ্ছে সিকিউরিটিজ’এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে পড়ায় এ বাবদ পরিশোধে। অন্যদিকে গত অক্টোবরে সরকার ঋণ পরিশোধে খরচ করেছে ২৯.৫০ বিলিয়ন টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবে ২০০৮ সালের নভেম্বরে সরকারের মোট ঋণের পরিমান ছিল ৬১.৮২ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১’শ কোটি টাকার বেশি। তবে আগামী ৩০ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের ঋণের পরিমান আরো বাড়তে পারে।

একই সাথে সরকারের ঋণের বোঝা কমানোর জন্যে অর্থমন্ত্রণালয় এখন ‘শূন্যের কাছাকাছি’ অর্থাৎ নগদ ব্যবস্থাপনা কৌশল অনুসরণ করছে। নির্বাচনী খরচ মেটাতে বা অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহ করতে সরকার এখন ঋণ গ্রহণ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজেট বরাদ্দ মেটাতে সরকার সবরকম পথ অনুসরণ করছে। কোনো সিকিউরিটি ইস্যু ছাড়াই সরকার প্রতিদিনের ব্যয় মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা ধার করতে সক্ষম। এর পাশাপাশি সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ওভারড্রাফটের মাধ্যমে আরো ৪ হাজার কোটি টাকা ধার করতে পারবে। তবে এখন পর্যন্ত সরকার এধরনের ঋণ গ্রহণ করেনি।

এ বছর প্রথম প্রান্তিকে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা ধীর গতি লক্ষ্য করে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ গ্রহণ করে। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতি দাঁড়ায় ১১০ বিলিয়ন টাকা। এর ফলে বেশ কিছু উন্নয়ন বরাদ্দ কাটছাঁট করতে হয়। সরকারের বেশকিছু উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থবছরের শুরুতে প্রথম দুই মাসে বরাদ্দ হ্রাস পায় কারণ কর আদায়ে শম্বুক গতির সৃষ্টি হয়। এ বিষয়টি সম্প্রতি এনবিআর’এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভুইয়া জানান। অর্থমন্ত্রণালয় চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংকিং খাত থেকে ৪২০.২৯ বিলিয়ন টাকা ধারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।

দীর্ঘমেয়াদি বন্ড ছেড়ে সরকার ২৩৯.৬৫ ও টেজারি বিল ছেড়ে ১৮০.৬৪ বিলিয়ন টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ সমন্বয় করার জন্যে চারটি ট্রেজারি বিল নিলামে তুলে থাকে যেগুলো যথাক্রমে ১৪, ৫১, ১৮২ ও ৩৬৪ দিন মেয়াদি। এছাড়া সরকারের ৫টি বন্ড রয়েছে যা ২, ৫, ১০, ১৫ ও ২০ বছর মেয়াদি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ