প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস নাকি অন্যকিছু ?

জাকির তালুকদার : অন্তত বছরখানেক আগে থেকে আওয়ামী লীগের থিঙ্কট্যাঙ্ক বলে আসছিলেন, সংসদ সদস্যদের আমলনামার কথা। তারা বারবার বলছিলেন যে, কে কে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন, কে কে গোপনে বিএনপি-জামায়াতকে শেল্টার দিচ্ছেন, কে কে নিয়োগ-বাণিজ্য করছেন, কে কে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষ এবং নিজের দলের অপছন্দের লোকদের ওপরেও অত্যাচার চালাচ্ছেন, সেসব খবর তাদের জানা আছে। তারা আর মনোনয়ন পাবে না পরবর্তী নির্বাচনে। প্রথমে শোনা গেলো এই তালিকায় আছেন শতাধিক। তারপরে সেটি এসে দাঁড়ালো সুনির্দিষ্ট অঙ্ক ৭৪ জনে। বিভিন্ন কাগজে এবং পোর্টালে নামও বেরুলো তাদের। সেগুলো নিশ্চয়ই শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়। তবে তালিকাগুলোর সাথে সেই সেই এলাকার মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে মোটামুটি সহমতই পোষণ করেছিলো।

কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সেইসব আমলনামা সম্পূর্ণভাবেই অবহেলিত। যতোটুকু জানা যাচ্ছে, ২০১৪ সালের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিায় নির্বাচিত সেইসব বিতর্কিত এমপিরা আবারও মনোনয়ন পাচ্ছেন। যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন যে, পত্রিকাগুলোর মনোনয়ন সংবাদ ভুয়া এবং কারো মনোনয়ন নিশ্চিত বলে ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু বিভিন্ন এলাকায় যে খবরটা লিকেজ হয়ে গেছে, মিষ্টি বিতরণ চলছে এগুলো মিথ্যা নয়। প্রকাশ্যে যে ঘোষণাটি এসেছে যে ইয়াবা-সম্রাট নামে কুখ্যাত বদির পরিবর্তে তার স্ত্রীকে এবং খুনের আসামি আমানুর রহমান খানের বদলে তার পিতাকে মনোনয়নে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো প্রকারান্তরে বদি এবং আমানুরকেই দেওয়া।

এইসব এমপি, যারা পুরো পাঁচ বছর দুর্বৃত্তায়নে, দুর্নীতিতে, দুঃশাসনে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন, তারা তো ইতোমধ্যেই দলের আঞ্চলিক নেতা-কর্মী এবং ভোটারদের একাংশের বিশ্বাস হারিয়েছেন। সেই বিশ্বাস তারা ফেরত আনতে পারবে বলেও মনে করে না এলাকাবাসী। তাহলে ঝুঁকি নিয়ে তাদের আবার মনোনয়ন দেওয়ার কারণ কী? অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস? নাকি ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং বা অন্য কোনো উপায়ের নিশ্চয়তা। আওয়ামী লীগের থিঙ্কট্যাঙ্ক এতোবড় ঝুঁকি নিতে যাচ্ছে কার ভরসায়? ১০ বছর একটানা ক্ষমতায় থাকার কারণে ক্ষমতাসীন দলের কার কেমন ভূমিকা তা জনগণের মুখস্ত হয়ে গেছে।

২০০৮ বা ২০১৪ সালের মতো এবার শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে বৈতরণী পার হওয়া সম্ভব হবে না। ব্যক্তির ইমেজ এই ভোটে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন, পুলিশ বা প্রশাসন যদি এইসব প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে কিছুটা ভূমিকা পালনও করে, তবু সেটি তাদের জিতে আসার জন্য যথেষ্ট হবে কিনা সন্দেহ। কারণ ভোটার যদি ভোটকেন্দ্রে ছুটে যায়, নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাহলে আসলে কারো কিছুই করার থাকে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্নহীন একটি নির্বাচন চান। এটাকেই আমরা ধ্রুব বলে মনে করি। তাহলে এতোগুলো আসনে ঝুঁকি নিতে গেলেন কীভাবে? লেখক : কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ