প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চিড়িয়াখানায় নতুন সংযোজন
চট্টগ্রামে পক্ষীশালা

ডেস্ক রিপোর্ট : লাফিং ডাভ, ফিজেন্ট, রিং নেড প্যারোট, লাভ বার্ড, কোকাটেইল, ম্যাকাও- বিদেশি পাখির নাম এগুলো। প্রথমবারের মতো নতুন অতিথি হিসেবে বিদেশ থেকে এদের আনা হয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পর ঐতিহ্যবাহী এই বিনোদন কেন্দ্রটিতে প্রথমবারের মতো এই পাখিদের নিয়ে নির্মাণ হলো পক্ষীশালা। দৈর্ঘ্যে ৬০ ফুট আর প্রস্থে ২৫ ফুট আয়তনের এই পক্ষীশালায় রয়েছে এমন ছয় প্রজাতির ৩ শতাধিক সুন্দর ও বিরল প্রজাতির পাখি- ১০০টি লাফিং ডাভ, ২০টি ফিজেন্ট, ২০টি রিং নেড পেরোট, ১০০টি কোকাটেইল, ৪০টি লাভ বার্ড এবং দুটি গ্রিন উইং ম্যাকাও। চিড়িয়াখানার টিকিট বিক্রির নিজস্ব তহবিলের ৩৪ লাখ টাকা দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই পাখির রাজ্য। এটির অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২০ লাখ টাকা আর দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ক্রয় করতে ব্যয় হয়েছে ১৪ লাখ টাকা।

এ প্রসঙ্গে চিড়িয়াখানা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘অনেক বছর আগে এই অঞ্চলের বিনোদনপ্রেমীদের প্রিয় এই চিড়িয়াখানাটির যাত্রা শুরু হলেও ছিল না কোনো পক্ষীশালা। চিড়িয়াখানার অন্যতম একটি অনুষঙ্গ এটি। প্রথমবারের মতো দৃষ্টিনন্দন পক্ষীশালা নির্মাণ করা হলো। এর মাধ্যমে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। এটি দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবেন।’

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ রুহুল আমীন বলেন, দর্শনার্থীদের মন কাড়তে পারে এমন ছয় প্রজাতির ৩শ’রও বেশি সুন্দর ও বিরল প্রজাতির বিদেশি পাখি দিয়ে পক্ষীশালাটি নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের আগেই দর্শনার্থীদের কাছে দারুণ সাড়া ফেলেছে এটি। প্রতিদিন নানা বয়সী দর্শনার্থী এক নজর দেখতে ছুটে আসছেন এখানে।

সরেজমিন দেখা গেছে, দৈর্ঘ্যে ৬০ ফুট আর প্রস্থে ২৫ ফুট আয়তনের পক্ষীশালাটির চারপাশে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন খাঁচা। এর ভেতরে রয়েছে নানা রঙবেরঙের গাছ, লতাপাতাসহ পাখিদের সময় কাটানোর গোলাকার স্থায়ী কয়েকটি বসার স্থান। বেষ্টনীর ভেতরে এদিকে-ওদিক ছোটাছুটি করছে লাফিং ডাভ, ফিজেন্ট, রিং নেড প্যারোট, লাভ বার্ড, কোকাটেইল ও ম্যাকাওরা। তাদের একে-অপরের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো দারুণভাবে উপভোগ করছেন নানান বয়সী দর্শনার্থী। চলতি সপ্তাহে নির্মিত এই পক্ষীশালাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

খুলশী-১ নম্বর সড়ক থেকে চিড়িয়াখানায় আসা অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মৌ দত্ত বলেন, ‘চিড়িয়াখানায় আগেও কয়েকবার এসেছি। কিন্তু পাখিদের কোনো পক্ষীশালা দেখিনি। তবে বিদেশি পাখিদের নিয়ে তৈরি করা দৃষ্টিনন্দন পক্ষীশালাটি দেখে খুবই ভালো লেগেছে এবার।’

আইনুল হক নামের অপর আরেক দর্শনার্থী বলেন, ‘দল বেঁধে পাখিদের এদিক-ওদিক ছোটাছুটি দারুণভাবে উপভোগ করেছি। পক্ষীশালাটি চিড়িয়াখানায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।’

চট্টগ্রামের পাহাড় বেষ্টিত ফয়’স লেকের পাশে ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ছয় একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করা হয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হয়। চিড়িয়াখানায় বাঘ, সিংহ, ভালুক, হরিণ, কুমির, পাখি, সাপসহ দেশ-বিদেশের ৬৭ প্রজাতির প্রায় সাড়ে ৩০০ প্রাণী আছে। চিড়িয়াখানার ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ‘প্রতিদিন চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থীদের অধিকাংশই পক্ষীশালাটি মুগ্ধ হয়ে দেখেন।’
সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ