প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টেনশনে চট্টগ্রামে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা

ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রামের ১৬ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষ হলেও এখনও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেনি আওয়ামী লীগ। অপরদিকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুরু হয় মঙ্গলবার সকাল থেকে। ফলে সবারই অজানা রয়ে গেল কে হচ্ছেন প্রার্থী।
তবে কোনো কোনো আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের আভাস ঠিকই পাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। এরমধ্যে চট্টগ্রামের ৮ আসনে বিএনপির এবং ৯ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের আভাস মিলছে বলে জানান নেতাকর্মীরা। ফলে মহাটেনশনে রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
দলীয় দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ২৩৯ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। যাদের দলীয় সাক্ষাৎকারও শেষ হয়েছে।

কিন্তু সারাদেশের মতো এখনো চট্টগ্রামের কোনো আসনের প্রার্থীর চূড়ান্ত নাম প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ১২৫ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। যাদের সাক্ষাৎকার মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়। ফলে চট্টগ্রামের ১৬ আসনেই কোন দলের কোন প্রার্থী কোন আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা জানা কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে চরম টেনশনে রয়েছেন নেতারা।
চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরাও। যাদের মধ্যে প্রার্থীদের নিয়ে নানা রকম মন্তব্য ও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও পাওয়া যাচ্ছে প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার মতো আজগুবি স্ট্যাটাস।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে সংগঠিত হওয়ায় শরীক দল দল থেকে কাউকে প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে কি না এ নিয়ে বিএনপির প্রার্থীরা টেনশনে রয়েছেন।
একইভাবে চট্টগ্রাম-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, মহাজোটের কারনে মূল দলের কোনো প্রার্থী বাদ পড়ছেন কি না এ নিয়ে আমরা টেনশনে আছি। এভাবে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের কোনো প্রার্থীই টেনশনমুক্ত নয়।
নেতাকর্মীরা জানান, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে আওয়ামী লীগ ছাড়া জোটের তেমন উল্লেখযোগ্য প্রার্থী নেই। এরপরও দলের প্রার্থীর ব্যাপারে কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছেন না। কারন এ আসনে বিএনপির সাবেক চসিক মেয়র মনজুর আলম আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হওয়ার জন্য উঁকি মারছেন। এ কারনে টেনশনে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
একইভাবে এ আসন থেকে বিএনপির মূল প্রার্থী লায়ন আসলাম চৌধুরী। কিন্তু তিনি কারাগারে থাকায় ঐক্যফ্রন্ট থেকে অন্য প্রার্থী দিচ্ছেন কি না তা নিয়ে টেনশনে রয়েছেন আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা। অনুসারীদের দাবি, কারাগারে থাকলেও এ আসন থেকে আসলাম চৌধুরীর জেতার সম্ভাবনাই বেশি।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ২০১৪ সালে মনোনয়ন পান ১৪ দলের তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। এবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা তাদের দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। অপরদিকে নতুন করে ১৪ দলের সাথে বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট যুক্ত হওয়ায় ওই দলের পক্ষ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল হক শাহ চৌধুরীও প্রার্থী হওয়ার আশা পোষণ করছেন। ফলে ফটিকছড়ি আসনে মহাজোটের মনোনয়ন বেশ কঠিন হবে বলে জানা যায়। এ আসনে বিএনপির মনোনায়ন প্রত্যাশী রয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, সাবেক পিজিআর প্রধান কর্নেল (অব.) মো. আজিম উল্লাহ বাহার, চট্টগ্রাম পেশাজীবী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সমপাদক ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জী, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাবেক সভাপতি নুরী আরা ছাফা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সমপাদক কাদের গণি চৌধুরী, বিএনপি নেতা সরওয়ার আলমগীর, নগর মহিলা দলের সহ-সভাপতি কাউন্সিলর জেসমিনা খানম। এত প্রার্থীর ভিড়ে কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন তা নিয়েও টেনশনে নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে ২০১৪ সালের প্রার্থী জাসদের একাংশের মঈনুদ্দিন খান বাদলের জায়গায় এবার আওয়ামী লীগের তিন হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন চাচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এবং চউক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। তাই জোটের না দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান, তাঁর মেয়ে ফারিয়া খান, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান ও বিএনপি নেতা আলহাজ এরশাদ উল্লাহ মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এ আসনে ঐক্যফ্রন্টের কারো মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভবনা কম হলেও টেনশনে রয়েছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে জাতীয় পার্টির এমপি জিয়াউদ্দিন বাবলু পুনরায় মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন নাকি
আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে চলছে ব্যাপক গুঞ্জন। ফলে টেনশনে রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
এ আসনে মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সমপাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ মো. শামসুল আলম এবং তাঁর পুত্র আলহাজ মো. শোয়াইব রিয়াদ ও নগর মহিলা দলের সিনিয়র সহ সভাপতি বেগম ফাতেমা বাদশা মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন। তবে এরমধ্যে ডা. শাহাদাত হোসেনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভবানা বেশি হলেও কারাগারে থাকায় জামায়াত নেতা শামসুল আলমকে নিয়ে টেনশনে রয়েছেন নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এমএ লতিফ পুনরায় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি পুনরায় মনোনয়ন পাবেন বলে তার সমর্থক নেতা-কর্মীরা আশা পোষণ করেন। কিন্তু তাঁকে নিয়ে টেনশনে রয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। তিনিও আওযামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
তবে এ আসনে বিএনপির একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ফলে এ আসনে বিএনপির পৃষ্ঠা ১৭ কলাম ১
মনোনয়ন নিয়ে কোন টেনশন নেই নেতাকর্মীদের।
একইভাবে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনেও মহাজোটের তেমন কোনো প্রার্থী না থাকায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী পুনরায় মনোনয়ন পাবেন বলে তার সমর্থকদের অভিমত। তবে ওই আসন থেকে মনোনয়ন পাবার জন্য বিজিএমইএ সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন চেষ্টা-তদ্বির চালাচ্ছেন। এ নিয়ে টেনশনে আওয়ামী লীগ। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন- দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সমপাদক ও সাবেক সাংসদ গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান জুয়েল, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম। কিন্তু এ আসন থেকেও শরীক দলের প্রার্থী নিয়ে টেনশনে বিএনপি নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রফেসর আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী পুনরায় মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও এখনও তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত নয় বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান। কারণ আরো একাধিক দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য নীতি-নির্ধারক পর্যায়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা যায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন রূপালী ব্যাংকের পরিচালক আবু সুফিয়ান এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য আমিনুল ইসলাম। যারা নদভীকে নিয়ে রয়েছেন টেনশনে।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক বিষয়ক সমপাদক ও এএম নাজিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, যুগ্ম সমপাদক মোহাম্মদ আবদুল গাফফার চৌধুরী, প্রচার সমপাদক নাজমুল মোস্তফা আমিন, স্ব-নির্ভর বিষয়ক সমপাদক মুজিবুর রহমান এবং দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সমপাদক জান্নাতুল নাঈম চৌধুরী রিকু। এ আসনে শরীক দল জামায়াতের প্রার্থী নিয়ে টেনশনে আছেন বিএনপির মনোয়ন প্রত্যাশীরা।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান পুনরায় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু ওই আসনে এবার মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী। এলাকায় তার শক্ত অবস্থান থাকায় ওই আসন থেকে দলীয় না মহাজোটের প্রার্থী মনোনয়ন পাচ্ছেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এডভোকেট আলহাজ মো. ইফতেখার হোসেন চৌধুরী (মহসিন)। এ আসনে ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচন করতে চান হেফাজতের বিদ্রোহী নেতা মুফতি ইজাহারুল ইসলাম। তাকে নিয়ে টেনশেন আছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
এছাড়া চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী) আসনেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টেনশন রয়েছে। এ সকল আসনে নতুন প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অভিমত।
প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে বিএনপি তাদের ২০ দলীয় শরিক জোটের মধ্যে এলডিপির প্রধান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) এবং জামায়াতে ইসলামীকে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া) আসন ছেড়ে দেয়। এবারও উক্ত দুটি আসন ছাড়াও চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে কল্যাণ পার্টির প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রাহিমকে ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকের ধারণা।
সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত