প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিটু’র অপব্যবহারে নিরাপরাধী যেন দণ্ডিত না হয় : রোজিনা রহমান

অনলাইন ডেস্ক : একজন নারী হয়ে #Me too র প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন আছে। নিপীড়ক যেই হোক না কেন অবশ্যই তার উপযুক্ত শাস্তি আমারও কাম্য। পাশাপাশি #Me Too র অপব্যবহারের শিকার হয়ে একজন নিরাপরাধীও যেন দণ্ডিত না হয় এটা আমার দাবী।

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের কূটনৈতিক সংবাদদাতা রেজাউল করিম লোটাস যিনি একই সঙ্গে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন DCAB এর নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। তার সঙ্গে আমি বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ সুদীর্ঘ ২৪ বছর এবং আমাদের দুটি সন্তানও আছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে তারই সাবেক সহকর্মী আলফা আরজু নভেম্বরের ৪ তারিখে একটি পোস্টের মাধ্যমে কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন। যার একটিতে তিনি বলেছেন “বছর দশেক আগে এক ইংরেজি পত্রিকার চীফ রিপোর্টার একজন জুনিয়র নারী সহকর্মীকে রাতের বেলা বাড়ি পৌঁছে দেবার নাম করে যেখানে যেখানে হাতিয়েছিলেন (ওয়াক থু থু) না কোন প্রতিবাদ করতে পারেননি সেই জুনিয়র সাংবাদিক কারণ চাকরিটা খুব প্রয়োজন ছিল। ঘরে অসুস্থ বাবা যার চিকিৎসার ভার সেই নারীর উপর ছিল। অল্প বয়সী সন্তানদের দেখভাল ঢাকা শহরে টিকে থাকার প্রাণান্ত যুদ্ধ। সেই সাংবাদিক ওই ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন।“
এরপর ১৪ নভেম্বর আলফা আরজু রেজাউল করিম লোটাসের নাম উল্লেখ করে সেই অভিযোগটিই করেছেন। তার এই লেখাটি পড়ে আমি বিস্মিত, হতবাক ও যারপরনাই চিন্তিত।

 

তার অভিযোগের সূত্র ধরে আমি বলছি তার সাথেও আমার হৃদ্যতা ছিল এবং তিনি আমার বাসাতেও এসেছেন । এমন একটি ঘটনা তিনি আমাকেও সরাসরি জানাতে পারতেন। ঠিক আছে মানবিক কারনে হয়ত তিনি তখন আমাকে বলেননি। কিন্তু এরকম একটা ঘটনা ঘটলে তিনি নিশ্চয়ই তার কাছের কোন বন্ধুকে এই ১০ বছরেও একবার শেয়ার করতেন কারণ তার খুব কাছের বন্ধুরাও আমার খুব কাছের মানুষ। তাদের সাথে কথা বলেও আমি জানতে পারলাম এধরণের কোন কথাই তারা কখনও আলফা আরজুর কাছ থেকে শোনেননি। তিনি বলেছেন এই ঘটনার পরদিন সকালেই তিনি অন্য একটি পত্রিকায় চাকরি ঠিক করে বাসায় ফিরেছেন। এখন আমার প্রশ্ন হল আগের রাতে এধরণের একটি অপ্রীতিকর ঘটনার স্মমুখীন হয়ে থাকলে এতো অল্প সময়ের বাবধানে এমন একটি মানসিক trauma থেকে বের হয়ে কিভাবে তিনি আরেকটি চাকরির খোঁজার জন্য মানসিকভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন!!! ধরেই নিলাম উনি মানসিকভাবে খুব শক্ত আধুনিক একজন মেয়ে ছিলেন তাহলে কেন Daily Star থেকে resign দেবার সময় resignation এর কারণটি উল্লেখ করেননি। এমনকি চাইলেই তিনি পত্রিকার সম্পাদক শ্রদ্ধেয় মাহ্ফুজ আনামকে বিষয়টি বাক্তিগতভাবে জানিয়ে যেতে পারতেন কারণ শ্রদ্ধেয় সম্পাদক সুস্থ কাজের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এ ধরণের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ও দায়িত্ববান একথা সবার জানা। আমি অবাক হচ্ছি কারণ তখন তো আর তাহলে তার এখানে চাকরি রক্ষা করার বিষয় ছিলনা। আরও অবাক হচ্ছি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী যিনি সাংবাদিক হিসেবে তখন ভালোই পরিচিত তিনি এমন একটা অপ্রীতিকর ঘটনা কাউকেই বলতে পারলেন না?? তারপরও মেনে নিচ্ছি তিনি #Me Too র মতো একটা প্লাটফর্ম পেয়ে এখন ঘটনাটি প্রকাশ করতে পারলেন।

এবার আমার প্রশ্ন ওইদিন তিনি যে বিভীষিকাময় ছোঁয়ার (আলফা আরজুর ভাষ্যমতে) কথা বলছেন তারপর উনার কিছু করার ছিল না কাউকেও বলতেও পারেননি লজ্জায়। কিন্তু যার প্রতি তার এতো ঘৃণা জন্ম নিয়েছিল তাহলে কিভাবে তিনি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে তার (আলফা আরজুর ভাষায় নিপীড়ক) সাথে বন্ধুত্ব রেখে চলেছেন!!! শুধু তাই নয় প্রতিনিয়ত তিনি রেজাউল করিম লোটাসের পারিবারিক এমনকি তার একক ছবিতে লাইক, লাভ এবং ওয়াও সাইন দিয়ে যাচ্ছেন। যাকে এতো ঘৃণা করছেন তার সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করে প্রতিনিয়ত এসব সাইন ও কমেন্ট করাটা কি ঘৃণার একটি বহিঃপ্রকাশ কি-না তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। তার সেই মন্তব্যর দুএকটি এখানে উল্লেখ করা হল।

**নভেম্বর ১৩, ২০১৭ রেজাউল করিম লোটাসের প্রফাইল পিকচারে ওয়াও সাইন দিয়ে উনি মন্তব্য করেছেন …… “অনেকদিন পর বসকে দেখলাম” এবং আরেকটি মন্তব্য


**ডিসেম্বর ৩১,২০১৭ এ লাভ সাইন দিয়ে লিখেছেন congratulation boss!!! পাশে ফুলের Emoji.
আশ্চর্য যার দ্বারা নিপীড়িত হয়ে এতটা বছর তিনি হৃদয়ে পাথর চেপে ঘুরে বেরাচ্ছেন তাকে বস সম্বোধন করা যায় আবার ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো যায় কি??? এমনকি আরও কিছু উদাহরণ—-
জানুয়ারী ১, ২০১৮ তে আমাদের যুগল ছবিতে লাভ সাইন দেয়া , অগাস্ট ২২, ২০১৬ তে আমার মেয়ের জন্মদিনের ছবিতে লাভ সাইন দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো, ফেব্রুয়ারী ৬, ২০১৮ এ আমার ছেলের জন্মদিনের ছবিতে লাভ সাইন দিয়ে শুভেচ্ছা ও সর্বশেষ জুলাই ৯,২০১৮ এ রেজাউল করিম লোটাসের বর্তমান প্রোফাইল ছবিতে ওয়াও সাইন দেয়া আমার কাছে অসামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়েছে। এমন আরো উদাহরন আছে। এভাবে প্রতিনিয়ত আলফা আরজু রেজাউল করিম লোটাসের সাথে এতো বছর ধরে বন্ধুত্ব বজায় রেখেছেন। আসলেই আমি তার আনীত অভিযোগ আর তার আচরণের মধ্যে কোন সামঞ্জস্য পাচ্ছিনা। এতসব কথার অবতারণা করার উদ্দেশ্য হল অতি বিব্রতকর লজ্জাজনক এই অভিযোগ।

অভিযোগ এলেই কি তাকে দোষী সাব্যস্ত করা ঠিক?? যেখানে অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান চলছে সেখানে একটু ধৈর্য না ধরে লাগামহীন প্রচারণা সত্যিই খুব দুঃখজনক।

পত্রিকাটির অনলাইনে একটি নোটিশ দেয়া হয়েছে যেখানে সর্বসাধারণকে জানানো হয়েছে যে ডেইলি স্টার এ ব্যাপারে তদন্ত করছে এবং যেহেতু অভিযোগের প্রথমদিনেই এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তাই এখন পর্যন্ত আমার স্বামী রেজাউল করিম লোটাস এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য প্রদান করেননি। আমিও ধৈর্য ধরে ছিলাম কিন্তু সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিনিয়ত অকথ্য, অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য দেখে আমি আর চুপ থাকতে পারছিনা। আমাদের এ কদিনের সৌজন্যবোধ ও ধৈর্যকে আমাদের দুর্বলতা ভাবাটা ভুল হবে।
সম্মান অর্জন করতে একজীবন কেটে যায় আর নস্যাৎ করাটা কি এক মুহূর্তের বিষয় মাত্র??? কিন্তু সত্য উন্মোচিত হোক। সকল অসামনঞ্জস্য দূর হোক। কিন্তু তা যদি না হয় সত্য প্রতিষ্ঠায় আমি কাউকে না কাউকে সাথে পাবোই।
Facebook থেকে কিছু screenshot এখানে সংযোজন করা হল।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ