Skip to main content

রোহিঙ্গা গণহত্যার কারণে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্থানে ‘রুবি’র দর

আসিফুজ্জামান পৃথিল : এ বছরের গ্রীস্মে সিঙ্গাপুরে অকাটা রুবির এক নিলামে ৭ কোটি ১৮ লাখ ডলারে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ক্যারেট রুবি বিক্রি হয়েছে। গত ৪ বছরের তুলনায় এবারের নিলামে এই রতœটির দর বৃদ্ধি পেয়েছে এক চতুর্থাংশ। এর মধ্যে সেরা রুবিগুলো বিক্রি হয়েছে প্রতি ক্যারেট ১ লাখ ডলারে! যা প্রায় হীরার সমান দর। ব্লুমবার্গ বিজনেসউইক আপার মিয়ানমারের মোগক ভ্যালিতেই উৎপাদিত হয় বিশে^র সেরা রুবি। মান্দালয় অঞ্চলের এই এলাকাই বিশে^র রুবি চাহিদার বড় অংশের যোগান দেয়। এছাড়াও মিয়ানমারের অন্যান্য এলাকাতেও উৎপাদিত হয় বিপুল পরিমাণ রুবি। ইদানিংকালে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে জাতিগত সংঘাত এবং দমন-পীড়নের কারণে ব্যহত হচ্ছে রুবির উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণ। গত বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এ ঘটনায় ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এ ঘটনাকে গণহত্যা বলে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রভাব পড়েছে রুবির বাজারেও। বড় বড় ক্রেতারা নিজেদের প্রতিষ্ঠার সম্মান রক্ষার জন্য মিয়ানমারের রুবি কিনতে চাচ্ছেন না। ক্রেতারাও অলঙ্কার কেনার আগে জেনে নিচ্ছেন, রুবিটি রোহিঙ্গাদের রক্তে রঞ্জিত কিনা! রুবির বাজারের আরেক বড় বিক্রেতা চীন। তবে চীনের রুবির মান ভালো নয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজোরে এ রুবির চাহিদা খুবই কম। আর পক্ষান্তরে মিয়ানমারের রুবির চাহিদা বাজারে আকাশচুম্বি। তবে ২০০৮ সাল থেকে ১৬ সাল পর্যন্ত বার্মিজ রুবির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিলো যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এরপরেও মিয়ানমারের রুবি বিক্রি থেমে থাকে নি। তবে রোহিঙ্গা নির্যাতনের একটি ঘটনাই পুরো বাজারকে ওলটপালট করে দিয়েছে। রুবির দর কতটা বেড়েছে, সে ব্যাপারে উদাহরণ দিচ্ছিলেন সিঙ্গাপুরের নিলামঘর ফরচুনার সহ-প্রধান নির্বাহী সেথ হোলহাউজ। তিনি বলেন ১ দশক পূর্বে যদি কেউ রুবি কিনে রাখতো তবে তা গুগলের বাজারে তালিকাভক্তির ৩য় বছরে শেয়ার কিনে রাখার সমতূল্য হতো! এই মূল্যবান রতœপাথরটি বহু জুয়েলার্স এর প্রতিকে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হ্যারি উইন্সটন, বুলগেরি, টিফেনি এবং কার্টিয়ারের মতো কোম্পানি।

অন্যান্য সংবাদ