প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একজন হৃদয় সরকার ও তার মায়ের গল্প

জুবায়ের সানি : হৃদয় সরকারের মা সীমা সরকার পেশায় একজন গৃহিণী। বিবিসির জরিপ অনুযায়ী তিনি এখন বিশ্বের ১০০ জন অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী নারীদের মধ্যে একজন।

গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ‘খ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় ছেলেকে কোলে করে পরীক্ষার হলে নিয়ে অাসেন সীমা সরকার। অনুপ্রেরণাদায়ী এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে কেউ একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে অল্পকিছুক্ষণের মধ্যে ছবিটি অনেকের কাছে পৌছে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয় হৃদয়। তবে সিরিয়াল পেছনে থাকায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীদেরই প্রতিবন্ধি কোটায় ভর্তির সুযোগ থাকার কারনে হৃদয় কোনো বিষয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় না।

হৃদয় ও তার মা সীমা সরকারের প্রচেষ্টা এবং তাদের স্বপ্নভঙ্গের কথা গণমাধ্যমে উঠে অাসলে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম পরিবর্তন করে ভর্তির সুযোগ করে দেয় হৃদয় সরকারকে। তার ভর্তি কার্যক্রম চলমান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সকল কৃতিত্ব হৃদয় তার মাকেই দিয়েছে। বিবিসির জরিপের বিশ্বের ১০০ জন অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবশালী নারীর মধ্যে নিজের মায়ের নাম দেখে দারুন খুশি হৃদয়। তিনি মনে করেন এর মাধ্যমে তার মা এক অনন্য স্বীকৃতি পেল।

এ সম্পর্কে হৃদয় সরকার বলেন, “এই স্বীকৃতির মাধ্যমে সারা বিশ্ববাসী অামার জন্য মায়ের অবদানের কথা জানতে পারবে। বিশ্বের সকল মায়েদের তার সন্তানকে লেখাপড়া করাতে অনুপ্রেরণা দেবে।”

হৃদয় মনে করেন তার এই পর্যন্ত অাসা তার মায়ের জন্যই সম্ভব হয়েছে। হৃদয় জানান, স্কুল ও কলেজসহ সবজায়গাতে মা’ই অামাকে নিয়ে যেত। বন্ধুরাও অনেক সাহায্য করেছে। কখনও তিন চার তলায় অামার পরীক্ষার সীট পরেছে। তখন মা অামাকে কোলে করে পরীক্ষার হলে নিয়ে যেত। স্কুলে যওয়ার সময় প্রায়ই রিক্সা পাওয়া যেত না। সময় থাকত না। তখন মা প্রায় ১ কিলোমিটার দূরের স্কুলে দিয়ে অাসত। মায়ের কোলে চড়েই অামি এই পর্যন্ত এসেছি।”

এবছর নেত্রকোণার আবু আব্বাস ডিগ্রি কলেজ থেকে জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন হৃদয়। এসএসসি পরীক্ষায় নেত্রকোণা জেলা স্কুল থেকে জিপিএ ৪.০৬ পেয়েছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই দূরারোগ্য ব্যাধিতে অাক্রান্ত হৃদয় সরকার। দু পায়ে ভর দিয়ে হটতে পরেন না। যে নারীর অনুপ্রেরণা ও সর্বত্মাক সহযোগিতায় এতোসব সম্ভব হয়েছে তিনি তার মা সীমা সরকার।

মায়ের জন্য বড় হয়ে কী করতে চাও জানতে চাইলে হৃদয় জানায়, নিজের মাকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ব্যক্তি হিশেবে দেখতে চায় হৃদয়। তার মায়ের মত সবাই তাদের সন্তানকে লেখাপড়ায় সাহায্য করুক এই প্রত্যাশা করেন তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ