প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নয়পল্টনে সংর্ঘষের ঘটনায় রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চেয়েছিল বিএনপি: মনিরুল ইসলাম

সুজন কৈরী: রাজধানীর নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত ৬জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ঢাকার ১১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি প্রার্থী মোহাম্মদ এইচ কে হোসেন আলী, শাহাজানপুর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহাগ ভ‚ইয়া, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. আব্বাস আলী, ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রবিন, ছাত্রদলের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন, তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে হোসেন আলী হেলমেট পরে শার্ট খুলে পুলিশের গাড়ির ওপর উঠে লাফিয়েছিলেন, সোহাগ শার্ট খুলে লাঠি হাতে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন, আব্বাস আলী গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলা করেছেন, আশরাফুল ইসলাম পুলিশের পিকআপ ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলা করেছে। এছাড়াও উজ্জ্বল ও মাহবুবুল পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সড়ক অবরোধ করেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, সোমবার রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে যে ব্যক্তি দিয়াশলাই জ্বেলে পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগিয়েছিল তাকে এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি। যাদের নাশকতার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক বিষয় আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। তথাপি তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের যে পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো আমরা বলেছি। মনিুরল বলেন, গত ১৪ নভেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর পল্টন থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। এরপর তদন্তে নেমে আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমের তোলা স্থিরচিত্র, ভিডিও ফুটেজ, ঘটনাস্থলসহ আশেপাশের সিসি টিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। তা থেকে আমরা হামলাকারীদের শনাক্ত করেছি, হামলায় কার কী ভ‚মিকা ছিল তাও দেখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, বড় নেতারা হেলমেট পরে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল, যাতে শনাক্ত করা না যায়। তিনি বলেন, মামলার তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য ও আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পরিকল্পিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এজন্য আগে থেকেই লাঠি মজুত করে রাখা হয়েছিল। হামলার পরিকল্পনাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল উসকানি দিয়ে পুলিশকে অ্যাকশনে যেতে বাধ্য করা। পুলিশকে টার্গেট করে হামলার কারণ হিসেবে মনিরুল ইসলাম বলেন, তারা (বিএনপি) চেয়েছিল পুলিশের ওপর হামলার পর, পুলিশও নির্বিচারে অভিযান চালাবে। সেই ভিডিও ফুটেজ বিভিন্ন মহলে দেখিয়ে তারা রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেদিন পুলিশ কোনো অ্যাকশনে যায়নি। ডিএমপির যে সক্ষমতা রয়েছে, তাতে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিতে সর্বোচ্চ ৫/৭ মিনিট সময় প্রয়োজন হতো।

তফসিলের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানির বিষয়ে করছে পুলিশ। বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, যেখানে ফৌজদারি অপরাধ হবে সেখানেই পুলিশ তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। ফৌজদারি অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। নয়াপল্টনে হেলমেট পরে হামলাকারীরা গ্রেফতার হয়, কিন্তু নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় গত ৫ আগস্ট সায়েন্সল্যাবে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীরা কেন গ্রেফতার হয় না-এর জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। যেখানেই ফৌজদারি অপরাধ ঘটবে সেখানে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মোহাম্মদপুরে রাজনৈতিক সহিংসতায় দুই তরুণ নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্তের অগ্রগতির বিষয় তিনি বলেন, ওই ঘটনায় মামলা হয়েছে, পুলিশ তদন্ত করছে। একজন গ্রেফতার হয়েছিল, আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ