প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মনোনয়ন নিয়ে কৌশলী মহাজোট-ঐক্যফ্রন্ট

মহসীন কবির : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কৌশলী অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট। উভয় জোটে বেশিরভাগ আসনে কার বিপরীতে কে পাচ্ছেন দলীয় প্রতীক তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ নিয়ে দুজোটেই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। এক জোট আরেক জোটের প্রার্থী দেখে যেমন প্রার্থী ঘোষণা করার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা হচ্ছেন নৌকা ও ধানের শীষের প্রার্থী, সে বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও ২/১ দিন। বিএনপি সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৭০টি আসন ছাড়ার চিন্তা করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য। সম্প্রতি দুই জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা সংগ্রহ করে নিজ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জরিপ চালায় দলটি।

বিএনপি দীর্ঘদিন সরকারের কঠোর অবস্থানে কোণঠাসা নেতাকর্মীরা খোলস ছেড়ে বের হচ্ছেন। যার নজির মিলেছে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময়। ধানের শীষের কাÐারি কারা হচ্ছেন, সেটা নিশ্চিত না হলেও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের অন্তত ৫টি বার্তা দিচ্ছে বিএনপির হাই-কমান্ড। এর মধ্যে সবচেয়ে জোরালো বার্তা দেয়া হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকা এবং বিদ্রোহী হলে ব্যবস্থার বিষয়ে। সাক্ষাৎকার দিতে আসা নেতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে লিখিত অঙ্গিকারও নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু মহাজোটের শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছে। জোটের সঙ্গে আসন সমঝোতার পর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আগামী দুই তিনদিনের মধ্যে জোটের শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করা হতে পারে। আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়োর কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমকে বলেছেন, দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত। মহাজোটের শরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৭০টির মতো আসন রেখে বাকি আসনগুলোতে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১৮ নভেম্বর রাতে দলের সংসদীয় বোর্ডের সভায় সবগুলো আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়। এর আগে গত কয়েক দিন ধরে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য সংসদীয় বোর্ডের ধারাবাহিক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, জোট শরিকদের ৬০টি আসন ছাড়তে চায় আওয়ামী লীগ। যদিও শরিকদের দাবি অনেক বেশি। তাই অনেক হিসাব-নিকাশ মিলাতে হচ্ছে দলটিকে। জোটের স্বার্থে দর কষাকষিতে এই সংখ্যা বাড়তেও পারে। সেক্ষেত্রে এই সংখ্যা বেড়ে ৬৫ থেকে ৭০টিতেও দাঁড়াতে পারে। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে তা নির্ভর করছে জোটের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ওপর।