Skip to main content

রেজা কিবরিয়া : পিতার রক্ত আপনাকে ছেড়ে কথা বলবে?

অজয় দাশগুপ্ত, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে: নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে চমক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পিলে চমকানো চমক না ভালো, না সুখকর। জোট বা ফ্রন্ট গঠিত হবে এটা ও মানা যায়। কিন্তু পিতার রক্তের সাথে বেঈমানী করে কেউ এমপি হতে চান এটাও মানতে হবে? আমরা তো এখন মোগলযুগে বসবাস করি না যে রাজা বাদশাদের সন্তানের মতো বাপকে কারাগারে রেখে ভাইকে হত্যা করে দেশান্তরী করে পদের জন্য লড়াই করতে হবে। তারপরও সেলুকাসের বিচিত্র দেশ ও সমাজে এমন ঘটনা আজো ঘটে। বলছি রেজা কিবরিয়ার কথা। হবিগঞ্জের এমপি মূলত দল না করা অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে তুলে এনে অর্থমন্ত্রী করেছিলেন শেখ হাসিনা। ভদ্রলোক সজ্জন শাহ কিবরিয়া তার ভূমিকা রেখেছিলেন সঠিক ভাবে। তার মতো মানুষকে নিয়মে হঠানো অসম্ভব জেনে যারা তাকে পৈশাচিক কায়দায় দিনদুপুরে খুন করেছিলো তাদের সাথে যেতে হবে পুত্রকে? কিবরিয়া সাহেব অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও সংস্কৃতিবোধ ছিলো তার ভেতরে। ভদ্রলোক মানুষ পরিমিত কথা বলার মানুষ। সে কারণে নিজের প্রিন্ট মিডিয়ার নাম ও রেখেছিলেন মৃদু ভাষণ। বিভুরঞ্জন সরকারের সুসম্পাদনায় সে কাগজে লেখাটা আমাদের মতো অনেকের কাছে ছিলো বড় পাওয়া। তার হত্যাকাণ্ডের পর পুত্র এসেছিলেন সিডনি। এ দেশে পড়াশোনা করা ছেলে আমাদের বলে গিয়েছিলেন এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে। থাকেনি। ধরে নেয়া হচ্ছে পিতার মর্মান্তিক হত্যাকা-ের বিচার বিলম্বিত হওয়ায় নাকি তার এই অদলবদল। বটে, এ দেশে কোনো হত্যাকা-ের বিচার দ্রুত করে গেছে? এমনকি জাতির জনক ও চার জাতীয় নেতার হত্যাকা-ের বিচারও কি ঠিক সময়ে করা গিয়েছিলো? তাহলে কি ধরে নিতে হবে শেখ হাসিনা তা চাননি? সব দোষ নন্দঘোষের মতো তার ওপর চাপানোর দায় আমাদের স্বভাব। রেজা কিবরিয়া সবুর করবেন না ঠিক আছে। তিনি তো স্বতন্ত্রভাবেও ইলেকশন করতে পারেন। সেটা করলে তার প্রতি সকলের যে সহানুভূতি বা ভালোবাসা থাকতো সেটা তিনি মনে রাখেননি। কেন রাখেননি তার উত্তর আপনি দেশের বহুল প্রচলিত দৈনিক পত্রিকা পড়লেই পাবেন। এরা যাদের উস্কিয়ে দলে টানে তাদের আখের ঝরঝরে জেনেও রেজা কিবরিয়া সে ফাঁদে পা দিলেন। এতে তার ব্যক্তিগত লাভালাভ যাই হোক মানুষ জানলো এমনকি এমপি পদের জন্য পিতার রক্তের ওপর হাঁটাও জায়েজ। সমাজে আদর্শ বা নীতি বা নৈতিকতা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে এ তার নির্লজ্জ উদাহরণ। রেজা কিবরিয়া ধানের শীষে মনোনয়ন পেলে এবং জিতে আসলেও মূলত নিজের কাছে পরাজিত হবেন। রাগ ক্রোধ বা প্রলোভন থিতিয়ে এলে নিজে আর নিজের চেহারার দিকে তাকাতে পারবেন না। যেমনটা মোশতাকের ছেলেপেলেরা বলে : বাবার পরিচয়ে বাঁচতে চাই না। রেজা কিবরিয়া কি তার সন্তান ও পরিবারের জন্য এমন নজির রেখে যেতে চান? আমাদের রাজনীতি কবে থেকে পিতৃহন্তারক বান্ধব হলো? কেউ কি বলবেন? লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যারয় পরীক্ষক

অন্যান্য সংবাদ