প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্ট্যালিন মার খেয়েও ঘাসে দাঁতের দাগ লাগাননি

দেবদুলাল মুন্না: ১৮৯৮ সাল ১০ জানুয়ারি। স্ট্যালিনের বয়স ২০। সেদিন জার শাসকরা জর্জিয়ার ২০ রেলশ্রমিকদের মাঠে সারিবদ্ধ করে চাবুক মারছিল যতক্ষণ তারা লুটিয়ে মাটিতে পড়ছিল না। এ লাইনে দাড়িয়ে ছিলেন স্ট্যালিন। উনিশজন লুটিয়ে পড়ার পর স্ট্যালিনের পালা। শেষজন। তাকে মারতে গেলে তিনি একটু সময় নিয়ে একটা কচি ঘাস দু দাঁতের মধ্যে আলতোভাবে চেপে ধরে মারতে বললেন।

দুজন চাবুক দিয়ে মারতে মারতে একসময় তারাই মাঠে লুটিয়ে পড়ল। স্ট্যালিন দাড়িয়ে।ক্যাপ্টেন ইভানভকে কাছে ডেকে দু দাঁতের ভেতরে ধরে রাখা কচি ঘাস বের করে বললেন, ‘ তোমরা এত মারলে কিন্তু দেখো আমি এই কচি ঘাসের ওপর দাঁতের দাগ বসাইনি।আমাকে মারতে গিয়ে তোমরা ক্লান্ত হয়ে পড়লে। আমি হইনি। আর মনে রেখো তোমাদের এ শাসন-শোষণ ভেঙে দেওয়ার নায়ক হবো একদিন। নাম আমার জোসেফ স্ট্যালিন। ’ গ্রীসীয় সাংবাদিক কাজান জাকিস ‘ রিপোর্ট টু গ্রেকো’তে এ তথ্য দিয়েছেন।জন্ম ১৮৭৮ সালে জর্জিয়ায়। বাবা শ্রমিক ছিলেন। প্রতি রাতে শৈশবে দেখতেন বাবা মদ খেয়ে এসে মাকে মারতেন।কোনদিন চুলো জ¦লত। কোনদিন না। কিন্তু কৈশোর থেকেই তিনি প্রতিদিন আট কিলোমিটার দৌড়াতেন।

১৯১৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে জারতন্ত্রের পতনের মধ্য দিয়ে বলশেভিক বিপ্লব হয়। প্রথম প্রেসিডেন্ট হন।লেনিন। লেনিনের পরের মেয়াদেই স্ট্যালিন হন এ মহারাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তিনি যখন প্রেসিডেন্ট তখন ক্যাপ্টেন ইভানভকে খুঁজে বের করেন পেত্রাগার্দের একটা বস্তিতে। ইভানভের কেউ নেই। স্ত্রী-পুত্র-কন্যাহীন। বললেন , ‘ তোমার কেউ নেই। আজ থেকে আমি তোমার সন্তান। তোমাকে দেখভাল করব। কারণ আমাকে মারার দিন আমার কথা শুনে তোমার চোখে জল দেখেছিলাম।’

এই স্ট্যালিনই আবার বন্দী শিবিরে শ্রেনীশক্রুদের নির্যাতনও চালাতেন। যারা কমিউনিজমের বিরোধী ছিল। মারা যান ১৯৫৩সালের ৫মার্চ। মারা যাওয়ার বছরখানের আগে মস্কোতে একটা ঘরোয়া পার্টিতে কৈশোরের পছন্দের তরুণী তিতিয়ানার দেখা পেলে বলেছিলেন, ‘ বিপ্লবী জীবন বেছে নেওয়ায় তোমাকে ভালবাসবার অবসর পাইনি।কিন্তু তারুণ্যে পাওয়া তোমার প্রেমের প্রস্তাব এখনো আমার হৃদয়ে পতাকার মতো দোলে।মাফ করে দিও।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত