প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ভুতুড়ে নয়, সহিংসতার মামলা’

রাইজিংবিডি : দলের নেতাকর্মীদের নামে থাকা মামলার তালিকা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দিয়েছে বিএনপি। এসবের মধ্যে বেশকিছু মামলার বিষয়ে জানতে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে ইসি। বিএনপি এসব মামলাকে ভুতুড়ে বললেও এগুলো সহিংসতার মামলা বলে পুলিশ দাবি করেছে।

নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতের জন্য বিএনপি দুই দফা তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তালিকা দেয় ইসিতে। এর মধ্যে প্রথম দফায় ১ হাজার ৪৬টি এবং পরের দফায় আরো ১ হাজার ২টি মামলার তথ্য দেওয়া হয়। তবে এসব মামলায় আসামি কতজন তা জানা যায়নি। পরে এগুলো যাচা-বাছাই ও পর্যালোচনা করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ৩৭২টির তালিকা তৈরি করে কমিশন। যা চলতি সপ্তাহে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার কাছে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা, দ্রুত তদন্ত এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।

সোমবার বিকেলে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘কোনো নিরীহ মানুষকে নয়, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। সুষ্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে পুলিশের হাতে। মূলত আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আর কমিশন থেকে মামলার যে তালিকা দেওয়া হয়েছে সেগুলোর অপরাধের তথ্য-প্রমাণ আছে। কোনো কাল্পনিক বা ভুতুড়ে মামলা করা হয়নি। একই সঙ্গে এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। আর কমিশনে যেসব মামলার কথা বলা হয়েছে, সেগুলো ২০১৪-১৫ সালের সহিংসতার ঘটনার মামলা।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং সহিংসতার ভিডিও পুলিশের কাছে। সেক্ষেত্রে দোষীদের শনাক্ত করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কাউকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য মামলা দেওয়া হয়নি।’

পুলিশ জানায়, ২০১৪- ১৫ সালের ৯২ দিনের সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াওয়ের অভিযোগে দায়ের করা হয় এসব মামলা। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা তালিকাভুক্ত আসামি। অগ্নিসন্ত্রাসের সময় করা এসব মামলার বেশিরভাগেরই তদন্ত এখনো চলছে। ১০ থেকে ১২টির তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তবে মামলাগুলোর সাক্ষী না পাওয়ায় বিচারকাজ শুরু হয়নি। এর মধ্যে কুমিল্লার চান্দিনায় নাশকতার একটি মামলা রয়েছে। মামলায় কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও আসামি।

অবশ্য বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, মামলাগুলোতে তাদের প্রায় আড়াই লাখ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপির বেশিরভাগ স্থায়ী কমিটির সদস্য, নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন কিংবা থানা পর্যায়ের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে আসামি করা হয়েছে। তৃণমূলের অনেক কর্মীও এসব মামলার আসামি।

গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে, মামলার সূত্র ধরেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বর্জন করে প্রতিহতের চেষ্টা করবে। এ কারণে মামলায় যাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে কেবলমাত্র তাদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা। হরতাল, অবরোধ, ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি যেন না করতে পারে সেজন্য পুলিশকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত