প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পোশাকশিল্পে নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কা

বিডি-প্রতিদিনি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে তৈরি পোশাকশিল্পে নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কা করছে গাজীপুরের স্থানীয় প্রশাসন। দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পসহ শিল্পঘন গাজীপুরে প্রায় সাত হাজার শিল্প-কারখানা রয়েছে। কারখানায় চুরি, শ্রমিকদের মারধর, ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ ঘোষণা ও বেতন-ভাতা পরিশোধ না করায় শ্রমিকদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভকে নির্বাচনের আগে কাজে লাগাতে তৎপর একটি মহল। এ নিয়ে তাদের তৎপরতায় অসন্তোষ তৈরির আশঙ্কার কথা সরকারের বিভিন্ন দফতর ও তিনটি বাণিজ্য সংগঠনকে জানিয়েছে গাজীপুর জেলা প্রশাসন।

জানা গেছে, শ্রমিক অসন্তোষ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে গত ৫ নভেম্বর শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের পাঁচটি অনুশাসন প্রদানের অনুরোধ জানিয়ে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সভাপতির কাছে পত্র দিয়েছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর। এই পত্রের অনুলিপি দেওয়া হয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য সচিব, গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালক, মহাপুলিশ পরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিভাগের সচিব, শিল্প সচিব, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারসহ অন্যান্য সরকারি দফতরে।

পত্রে বলা হয়, গাজীপুরে তৈরি পোশাকশিল্প কারখানাসহ প্রায় সাত হাজার শিল্প-কারখানা রয়েছে। কোনো কোনো শিল্প কারখানায় ৩০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন। সাধারণত কারখানায় কর্মরত শ্রমিক কর্তৃক চুরি এবং তেপ্রক্ষিতে কারখানার মধ্যম পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মারধর, নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ না করা, যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন না করে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধ ঘোষণা ইত্যাদি কারণে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। দুষ্কৃতকারীরা এ সময়ে শ্রমিকদের এই অসন্তোষকে গুজবে পরিণত করে নৈরাজ্য সৃষ্টি, শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি করে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দুষ্কৃতকারীরা এ সময়ে শ্রমিক অসন্তোষকে ব্যবহার করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ গত ৩১ অক্টোবর রাতে মিতালি গার্মেন্টে কর্মরত এক শ্রমিকের মৃত্যুর গুজবে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ডেল্টা স্পিনিং মিলে কর্মরত আনসার সদস্য ভৈরব চন্দ্র দাস গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত্যু হয়। ওই পত্রে শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের পাঁচটি অনুশাসন মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়—

ক. নির্বাচনের আগে, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এ ধরনের অসন্তোষ রোধে মালিকপক্ষকে নিজ নিজ কারখানা নিয়মিত পরিদর্শন করতে হবে এবং শ্রমিকদের কল্যাণে অধিক মনোযোগ দিতে হবে।

খ. কারখানার মালিকপক্ষ বিধি মোতাবেক বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন-ভাতা পরিশোধ করবেন।

গ. নির্বাচনের আগে, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়কালে শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধ ঘোষণার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে অধিক সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন।

ঘ. কারখানাসমূহ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হলে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হবে।

ঙ. শীতকাল শুষ্ক মৌসুম এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ সময়। এই সময়ে কারখানাগুলোতে বয়লার বিস্ফোরণ বা অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ওইপত্র প্রদানের দুই সপ্তাহ পর বাণিজ্য সংগঠনগুলো কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কিনা, জানতে চাইলে গাজীপুর জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ তরফ থেকে তাদের পদক্ষেপ সম্পর্কে লিখিতভাবে কিছু জানায়নি।

কিন্তু জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে মৌখিক যোগাযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রায় কারখানায় শ্রমিকদের সাধারণ কিছু অসন্তোষ রয়েছে, তা দূর করতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচনকালীন সময়ে যাতে কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয় এবং তার গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা কেউ না করতে পারে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্প মালিকদের বিনিয়োগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারখানাগুলোতে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, শ্রমিকদেরও সচেতন থাকতে হবে। বেতন-বোনাস যাতে সময়মতো পরিশোধ হয়, সেটাও দেখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের দায়িত্ব হবে, কেউ যাতে গুজব ছড়াতে না পারে, সে জন্য সজাগ থাকতে হবে। বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই ধরনের সংকট মোকাবিলায় আমাদের একটি ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেল’ আছে। এখানকার সদস্যরা সক্রিয় হয়েছেন। আমাদেরও সতর্ক দৃষ্টি আছে। বিকেএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) হুমায়ন কবির খান শিল্পী বলেন, আমাদের দিক থেকে সতর্কতা আছে। এই সময়ে যাতে শ্রমিক ছাঁটাই না হয়, কিংবা ন্যূনতম শ্রমিক অসন্তোষ যাতে না হয়, সে জন্য বিকেএমইএ সব সদস্য কারখানাকে নির্দেশনা দিয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ