প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যবসায়ীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে
রাজনীতি আর ব্যবসা একাকার হয়ে যাচ্ছে : ইফতেখারুজ্জামান

সৌরভ নূর : ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম সংসদে এমপিদের মধ্যে ব্যবসায়ী ছিল ১৭ শতাংশের মতো। দশম জাতীয় সংসদে তা বিপুল পরিমাণে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ শতাংশে। বাংলাদেশে গত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনের তথ্য যাচাই করলে দেখা যায় ধীরে ধীরে ব্যবসায়ীদের নির্বাচনে দাঁড়ানো ও সংসদ সদস্য হয়ে ওঠার হার ক্রমেই বাড়ছে।

এ বছরও ইতিমধ্যেই অনেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ও জমা দিয়েছেন। রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ রাজনীতিক ব্যবসায়ীদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়ে ওঠাকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সুশাসন নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান বিবিসিকে বলেন, ‘আমাদের দেশের রাজনীতি অনেকটাই অর্থের উপর নির্ভর করে। ভোটাররাও তাদেরকে গ্রহণ করছে। একজন আদর্শবাদী মাঠ-পর্যায়ের নেতা নির্বাচনে দাঁড়িয়ে কিন্তু পাশ করতে পারছে না। কারণ একজন ধনী ব্যবসায়ীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ সম্ভব হয় না। তবে পার্টি যখন নমিনেশন দেয় প্রথমেই ভাবে সে পাশ করতে পারবে কিনা। কারণ সব দলই তো সরকার গঠন করতে চায়।’

বিষয়টিকে উদ্বেগজনক টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে একটা উদ্বেগের জায়গা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের রাজনীতি, ব্যবসা আর বিনিয়োগ একাকার হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও রাজনীতিতে এসে ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থে নীতি-নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করছেন তিনি।

একটি নমুনা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা যেটা সম্প্রতি দেখেছি পোশাক শিল্প খাতে শ্রমিকদের অধিকার-ভিত্তিক আইনি সংস্কারের কথাগুলো যখন ওঠে তখন সংসদে পোশাক শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের এক ধরনের সক্রিয়তা দেখা যায়। অনেক সময় তাদের ইচ্ছামতো পরিবর্তন বা পরিবর্ধন হতেও দেখা যায়। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা কর ও ঋণ সুবিধার ক্ষেত্রে রাজনীতিকে ব্যবহার করে থাকে।’

তিনি আরও জানান, রাজনীতিকে যদি ব্যবসা ও মুনাফা বিকাশের উপায় হিসেবে দেখা হয় তখন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বিনষ্ট হয়। যারা মূল রাজনীতির ধারক-বাহক তারা ক্রমাগতভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।–বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ