প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসু বুবুর গল্প : ‘হাসিনা : অ্যা ডটার’স টেল

কবীর চৌধুরী তন্ময় : ‘হাসিনা : অ্যা ডটার’স টেল’Ñ অসাধারণ এই প্রামাণ্যচিত্রটি সবার পছন্দ হবে এবং গ্রহণযোগ্যতা পাবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার জীবনীভিত্তিক, পাশে শেখ রেহানার উপস্থিতি ও তার কন্ঠ; ডকু-ফিল্মটি হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ডকু-ড্রামার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০ মিনিট। এখানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তার পরিবারের সদস্যদের দেখা যাবে। উঠে আসবে শেখ হাসিনার সাধারণ জীবনের বেশ কিছু অসাধারণ মুহূর্ত। এ ছাড়াও শেখ হাসিনার জীবনের বিজয়, বিষাদ ও নৈকট্যের দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সত্তর মিনিটের এই প্রামাণ্যচিত্রে শেখ হাসিনার দর্শন, একজন ইন্ডিপেনডেন্ট সিটিজেন হিসেবে তিনি ইতিহাসের বড় একটি অধ্যায়কে কীভাবে যতœসহকারে আগলে রেখেছেন, এটি দেখা গিয়েছে।

আরেকটি ব্যাপার আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছে, ডকু-ফিল্মটি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত, একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত নয়। এখানে শেখ হাসিনার পারসোনাল জার্নি দেখানো হয়েছে এবং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেফারেন্স হতে পারে, ইতিহাসও হতে পারে। শুনেছি, ডকু-ড্রামার আবহ সংগীতের কাজ করেছেন কলকাতার দেবজ্যোতি মিশ্র। তিনি দৃশ্যের পড়তে পড়তে অসাধারণ আবহ সংগীত যুক্ত করেছেন। আমি কিছুক্ষণ থমকে যাই! কিছুটা নীরবতা আমার মাঝেও কাজ করে। চোখ গড়িয়ে অশ্রুজল পড়ে…! বিশেষ করে পঁচাত্তরের প্রেক্ষাপট নিয়ে শেখ হাসিনার নীরবতার সাথে আমিও হারিয়ে যাই। রক্ত আমার শরীরে টগবগিয়ে ওঠে। মানুষ এতো নিষ্ঠুর হয় কী করে? আবার এই নিষ্ঠুর মানুষগুলো-এদেশে বসবাস করছে কীভাবে? রাজনীতি, রাষ্ট্রক্ষমতায় কীভাবে এই বর্বরগুলো অধিষ্ঠিত হয়েছিলো, কিছুক্ষণের জন্য আমার ভিতরেও একধরনের উত্তেজনা কাজ করে।

আমাকে মুগ্ধ করেছে-বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন দর্শনের সঙ্গে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনদর্শনের একটি চমৎকার মেলবন্ধন এই ছোট্ট চলচ্চিত্রটির মধ্যে প্রতীয়মান। শেখ হাসিনার মমত্ব সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি, কিন্তু দুইবোন টুঙ্গিপাড়া তাদের শেকড়টিকে যে এতো গভীরভাবে লালন করেন, ভালোবাসেন, মাঝে মাঝে শৈশবে ফিরে যান, এটি এই প্রথম জানা গেলো। বাংলাদেশের বাঙালিরা আমার বাবাকে মারবে, এটা তো ধারণারও বাইরে ছিলো…! শেখ রেহানার এই কথার মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি তার পরিবারের গাঢ় বিশ্বাস ছিলো; এই দেশের বাঙালিরা কখনো তাদের আঘাত করতে পারে না। ‘আমার সাধ না মিটিলো, আশা না পুরিলো…’ বঙ্গবন্ধুর পছন্দের গানটি এতোটাই মুগ্ধ করেছে, এতোটাই গভীরে স্পর্শ করেছেÑ এটি এক অন্যরকম নতুনত্ব সৃষ্টি হয়েছে। দর্শক এই ডকু-ফিল্মটি বার-বার দেখবে বলে আমার বিশ্বাস।

লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম (বোয়াফ)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ