Skip to main content

খাসোগজি হত্যা : মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ

ডা. জাকির হোসেন: অস্থিরতা গ্রাস করেছে সমগ্র বিশ্বকে। ক্ষমতা লিপ্সু শাসন ব্যবস্থার করালগ্রাসের অন্ধকারে নিমজ্জিত নিপীড়িত মানুষের হাহাকার। নব্যরূপে পৃথিবীতে ফিরে এসেছে আদিম সমাজের কালিমাখা অধ্যায়। প্রযুক্তির বিপ্লবের এ যুগেও বাকরুদ্ধ হচ্ছে বিপ্লবী লেখকের কন্ঠস্বর, হুমকিতে প্রতিনিয়ত ভোতা হচ্ছে স্বাধিকারে লড়াইরত লেখকের শাণিত কলম। বেশির ভাগ সময়ই সবচেয়ে বড় হুমকি আসে বিশ্বের সব ক্ষমতাসীন দেশের পক্ষ থেকে কিংবা একটি রাষ্ট্রের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সরকার পক্ষ থেকে। বিশ্বের মোড়ল রাষ্ট্রগুলো অন্য রাষ্ট্রকে শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট  করার জন্য কিংবা একটি দেশের সরকার তার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে অপ্রিয় সত্য প্রকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সাংবাদিকদের লেখনি বন্ধে হাজারো পায়তারা চালায়। এই সকল অশুভ শক্তির অশুভ ইঙ্গিত না শুনলেই লেখক, লেখনি কিংবা লেখকের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রটির উপর নেমে আসে অত্যাচার জুলুম আর নির্যাতন। এমনকি স্বার্থের কারণে হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করা হচ্ছে না। বিশ্বব্যাপী যেমন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ঘুনে ধরেছে, তেমনি আদিমরূপ থেকে একটুও পরিবর্তিত হতে পারেনি একনায়কতন্ত্র কিংবা পরিবারতন্ত্র। সাংবাদিক কিংবা লেখকের লেখনি বিদ্ধ হয়েছে যুগ থেকে যুগান্তরে। প্রাণ ঝরে পড়েছে অগণিত। এই সকল হত্যার বিচার করার কেউ নেই, দেখারও কেউ নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই সকল হত্যাকা-ের বিচার করা হয়নি। কারণ কখনও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত সরকার চায়নি আবার কখনও বিশ্বের মোড়ল রাষ্ট্রগুলো চায়নি সাংবাদিক হত্যার বিচার হোক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষমতার কলকাঠিতে পুলিশ তদন্তে অপারগতা প্রকাশ করছে। বিচারপতি বিচার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। সাংবাদিক হত্যার বিচার নিভৃতে কাঁদছে। এই কান্নার সবশেষ উদাহরণ সৃষ্টি করেছে আমিনাদের পবিত্র ভূমির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতরা। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর খুন হন শাণিত লেখনির সাংবাদিক এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একজন সমালোচক জামাল খাসোগজি। কূটনৈতিক আইনের অপব্যবহার করে আরেকটি মুসলিম দেশে এই হত্যাকা- সংঘটিত করে সৌদি যুবরাজ সালমান। হত্যাকা-ের পর যে সকল নৃশংস, মর্মান্তিক বিভৎসতার চিত্র বিশ্ব মিডিয়ায় তুলে ধরা হয় তা দেখে সকলেই হতভম্ব হয়ে পড়ে। যে পৈশাচিক কায়দায় হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে তা মুসলিম,অমুসলিম প্রতিটি কোমলপ্রাণ হৃদয়কে বেশ সজোড়ে নাড়া দিয়েছে। আজকের জ্ঞান বিজ্ঞানের এই যুগে উন্নতির স্বর্ণশিখরে আরোহন করেছে।তবে উন্নতি ঘটেনি আমাদের মানবিক মূল্যবোধের। মন ও মননে। আমরা এখনও সেই আদিম অবস্থানেই রয়েগেছি। প্রযুক্তির বিপ্লবের এ যুগেও আমরা অনায়াসে, নির্দ্বিধায় নির্বিঘেœ ভেঙ্গে ফেলছি কলম, হত্যা করছি কলম।  লেখক : চিকিৎসক ও কলামিস্ট

অন্যান্য সংবাদ