প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুমিল্লায় মামলা জটিলতায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার গাড়ি-মোটর বাইক

মাহফুজ নান্টু: দীর্ঘ বছর ধরে কুমিল্লা জেলার সতেরটি থানা কমপ্লেক্সের ভেতরে একটি সাধারণ দৃশ্য। রং চটা ঝং ধরা অবস্থায় চোখে পরে শত-সহস্রাধিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোটর বাইক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস। যেগুলোর অধিকাংশ বৃষ্টি পড়ে- রোদেপুড়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মামলার জটিলতার সাথে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আটক হওয়া যানবাহনগুলো নিলাম করতে পারছেনা সংশ্লিষ্ট থানার কর্তৃপক্ষ। এতে করে কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। স্থান সংকুলান না হওয়ায় ব্যহত হচ্ছে থানার স্বাভাবিক কার্যক্রম ।

কুমিল্লা কোতয়ালী থানার উত্তর ও পূর্বপাশে গেলে দেখা যাবে বিভিন্ন ব্যান্ডের মোটর বাইক একটার সাথে আরেকটাকে কোন রকমে গুজে রাখা হয়েছে।। ধুলাবালু পরা মোটর বাহনগুলোতে বছরের পর বছরজুড়ে রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে আছে। শুধু মোটর বাইক নয় কোতয়ালী থানা কম্পাউন্ডে রয়েছে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস-ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা। এগুলো দীর্ঘ বছর ধরে পুলিশের বিভিন্ন অভিযানে আটক হওয়ার বাহন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বাহনগুলোর মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করে থানায় রাখা হয়েছে। তবে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ার কারনে নিলামে তুলতে পারছেনা সংশ্লিষ্টরা।

একই অবস্থা জেলার সদর দক্ষিণ, বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া,মুরাদনগরসহ সবকটি থানা কমপ্লেক্সে। বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় খুব সহজে অবৈধ উপায়ে দেশের ভেতরে মোটর বাইক নিয়ে আসছে চোরাকারবারীরা। এসব বাহন আবার বিভিন্ন সময়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার পর বৈধ কাগজপত্র না থাকায় আটক হওয়া বাহন ফেরত নিতে আসেনা বাহন মালিকরা। এছাড়াও বৈধ কাগজপত্র থাকা স্বত্বেও বাহন মালিকদের মামলা থাকার কারনে আটক হওয়া বাহন নিতে থানায় আসেন না।

এদিকে কুমিল্লা পুলিশ লাইনে গিয়েও একই অবস্থা চোখে পড়ে। পুলিশ লাইন দিয়ে প্রবেশ করে কিছু দূর গেলে পূর্বপাশে ট্রাফিক বিভাগের অফিসের সামনে পেছনে দেখা যাবে অসংখ্য মোটর বাইক,ব্যাটারি-সিএনজি চালিত অটোরিক্সা,পিকআপ ভ্যান। যেগুলোর বেশির ভাগেরই নিবন্ধন নেই কিংবা বাহনের নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ট্রাফিক বিভাগ থেকে জব্দ করা বাহনগুলো অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বাহন মালিকরা তাদের বাহনগুলো আর ফেরত নিতে আসেনা।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, থানাগুলোর পাশাপাশি পুলিশ লাইনসেও অবৈধ বাহনগুলো রাখার জন্য পর্যাপ্ত স্থান নেই। যার কারনে আটক হওয়া বাহনগুলো নষ্ট হচ্ছে। আর এভাবে পড়ে থাকলে একটা সময় বাহনগুলোর যন্ত্রাংশগুলোও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

বিভিন্ন থানায় আটক হওয়া বাহনগুলোর বিষয়ে কথা বলেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, থানার ভেতরে যেসব বাহন রয়েছে তার মধ্যে সিংহভাগ বাহনই মামলার আলামত হিসেবে থানায় পরে রয়েছে। আর তাই এখানে মামলার বিষয়টি দেখার এখতিয়ার আদালতের। আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আটক বাহনগুলো কি নিলামে তোলা হবে নাকি নষ্ট করা কিংবা বাহন মালিকের হাতে তুলে দেবে সম্পূর্ণ বিষয়টি আদালতের উপর নির্ভর করে। পুলিশ তো মামলার আলামত হিসেবে বাহনগুলো রক্ষানাবেক্ষনের কাজ করে। তাই এক্ষেত্রে পুলিশের কিছু করার নেই। সব কিছুই মূলত আদালতের উপর নির্ভর করে।

মামলা জটিলতার কারনে যথা সময়ে নিলাম না হওয়ায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচেছ সরকার। এ বিষয়ে কথা হয় কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাস্তাফিজুর রহমান লিটনের সাথে।

তিনি জানান, এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ অযত্ন -অবহেলায় পড়ে থাকার বিষয়টি খুবই দু:খজনক। সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করার পরও কেন এর কোন সুরাহা হচ্ছে না-তা বুঝতে পারছি না। দ্রুততার সাথে এসব মামলা নিষ্পত্তি করলেই আমাদের সম্পদগুলো রক্ষা পাবে। সরকারও রাজস্ব পাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ