প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাক্ষাতকারে আব্দুল লতিফ জনি
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে রায় হয়েছে, সেটা চুড়ান্ত রায় নয়

মাছুম বিল্লাহ: ‘বর্তমান তারেক রহমান বিএনপির প্রধান। তিনি দলের নেতকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতেই পারেন। তার বিরুদ্ধে সাজার রায় হয়েছে। এটাই তো চুড়ান্ত রায় নয়। এখনো তো সুযোগ আছে হাইকোর্টে আপিল করার। ওনি (তারেক রহমান) দেশে এসে আত্মপসর্মন করতে পারেন এবং সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন’।

সোমবার আমাদের সময় ডটকমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ জনি।

তিনি বলেন, বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ওনি (তারেক রহমান) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। আর এখন তিনিই আমাদের বিএনপির প্রধান ব্যাক্তি। সুতারাং ওনি যেহেতু দেশের বাইরে আছেন। সেক্ষেত্রে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে টেলিযোগাযোগ। এটা যদি বাংলাদেশের সংবিধানে অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আওয়ামী লীগ সরকার বলুক কোন আইনে এটা অপরাধ। সাজা হলেই কি কথা বলেতে পারবেন না সেটার আইনি ব্যাখ্যা আওয়ামী লীগ দিক। যারা জেলে থাকে তারাও তো জেল থেকে যোগযোগ করতে পারে। সংবিধানের কোন জায়গায় লেখা আছে যে, ওনি (তারেক রহমান) দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না।

খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমানে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এ দেশে বিরাজ করছে। সেই প্রেক্ষাপটে ও ঐক্যফ্রন্ট ও ২৩ দলীয় জোট সম্মলিতভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এবং দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ও স্বাধীনতা-সার্বভৌম রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের লক্ষে যাচ্ছে সেখানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তারা সোচ্চার। গত পরশু আইনজীবীদের সমাবেশে ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিতেই প্রমাণ হবে সরকার যেভাবে তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছিল তা সঠিক নয়।

সাত দফা দাবির বিষয়ে জনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই গণতন্ত্রের পক্ষে, নির্বাচনের পক্ষে এবং নির্বাচনই ক্ষমতা পরিবর্তনের একমাত্র পথ; সেটা ২৩ দলীয় জোট ঐক্যফ্রন্ট মনে করে। ৭ দফা দাবি এবং যে ১১টা পয়েন্ট তারা আন্দোলন করছে, সেখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা একটি অংশ। সেখানে ৭ দফা দাবি মানা হল কি না, সেটার বিচার করবে জনগন। কিন্তু এটা নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ থেকে বিরত থাকলে জনগনের কাছে আমাদের জবাবদীহি করতে হত। সে কারণে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি আমরা।

তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যফন্ট্রের নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, যদি ১০ নম্বর বিপদ সংকেতও আসে তারপরেও আমরা নির্বাচন থেকে সরে দাড়াবো না। যে কোন প্রতিকুল পরিবেশে আমরা নির্বাচনে যাবো এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবো। নির্বাচন সুষ্ঠু করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তারা যদি জনগনের নিরাপত্তা না দিতে পারে, নির্বাচন সুষ্ঠু না করতে পারে তাহলে জনগন তাদের ক্ষমা করবে না।

বিএনপি নেতা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও মনবাধিকার পুনরুদ্ধারে আন্দোলন করছি। মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে আমরা জনগনের কাছে যাবো, ভোট চাইবো।

ঐক্যফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হবেন? এ প্রশ্নের জবাবে আব্দুল লতিফ জনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট যদি সংগরিষ্ঠতা পায়, তাহলে সংগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যরাই নির্ধারণ করবেন কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, কে রাষ্ট্রপতি হবেন। বিএনপি এখনো এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করেনি। তবে বিএনপি এখন এককভাবে কোন চিন্তা করছে না। বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের সব দলকে নিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। রাষ্ট্রপতি কাকে করা হবে সে বিষয়ে বিএনপির নীতি নির্ধারক এবং ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ  নেতারা বসে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত জনগন। আমরা ভোটের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেবে। তারা যদি পেশিশক্তি দেখাতে চায়, সেটা জনগন প্রতিহত করবে। কিভাবে জনগন প্রতিহত করবে সেটা ভোটের আগে ও পরের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

ফেনী-৩ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির এই নেতা বলেন, আমি ফেনীর সন্তান। ফেনীর মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক। ফেনী-৩ আসন থেকে নির্বাচনে আগ্রহী। এ জন্য আমি দলের মনোনয়ন তুলেছি। স্বাধীনতার পরে আমার এলাকায় বরাবরই ধানের শীষের প্রার্থীকে বারবার নির্বাচিত করেছে জনগন। সেখানকার জনগন যোগ্য,বিশ্বস্ত, সৎ ও মাঠের কর্মীকে মুল্যায়ন করে। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে জনগন আমাকে নির্বাচিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস। আমার আসনে দলের সিনিয়র নেতা মোশাররফ হোসেন বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তার উত্তরসূরী হিসেবে আমি নির্বাচন করতে চাই। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগন যদি আমাকে নির্বাচিত করে তাহলে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত আমি জনগণের পাশে থাকবো। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণীর জনগনের মধ্যে ভার্তৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে আপ্রাণ চেস্টা করবো। এলাকার সব ধরণের উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো। শিশু সুরক্ষা ও নারীদের জন্য বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেস্টা করবো।

দলের মনোনয়ন না পেলে কি করবেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ১৯৮২ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী আদর্শে যুক্ত হই। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হই এবং প্রচন্ড শারিরিক নির্যাতনের কারণে মেরুদন্ডের দুইটা হাড় ভেঙ্গে যায়। এ কারণে আমাকে শক্ত বিছানায় অথবা মাটিতে ঘুমাতে হয়। দলের প্রতিটি সংকটে আমি ছিলাম। আছি এবং থাকবো। আমার অতীতের কর্মকান্ড, কর্মীদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক, দলের প্রতি আমার যে আনুগত্য, বিশ্বস্ততা রয়েছে তা বিবেচনায় করে দল যদি মনে করে তৃণমূলের একজন বিশ্বস্ত কর্মীকে দল মনোনয়ন দেবেন সেক্ষেত্রে আমার এলাকায় একমাত্র যোগ্যব্যাক্তি বলে মনে করি। তারপরেও দল যদি মনে করে এই সংকটময় মুহুর্তে বৃহত্তর স্বার্থে অন্য কাউকে বা যোগ্য কাউকে মনোনয়ন দেবেন। তাহলে দলের সিদ্ধান্ত আমি মাথা পেতে নেব। আমি জীবনের শেষদিন পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্তকে মাথা পেতে নিয়ে রাজনীতি করবো।