Skip to main content

রিমোট কন্ট্রোল ট্রাফিক সিগন্যাল ত্রুটির কারণে দায়িত্ব নিতে আপত্তি ডিএমপির

শাকিল আহমেদ : রিমোটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হবে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা। প্রাথমিক অবস্থায় ৬টি স্পটের দায়িত্ব ডিএমপিকে বুঝিয়ে দিতে প্রস্তুত সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু ত্রুটির কারণে সিগনালগুলো বুঝে নিচ্ছেনা ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। ঢাকার দুই সিটি (উত্তর-দক্ষিণ) কর্পোরেশনে ৬৮টি সিগন্যালে রিমোটের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। প্রতিটি সিগন্যালের জন্য দুটি করে মোট ১৩৪টি রিমোট রাখা হবে। ইতিমধ্যে ১০টি সিগন্যাল প্রস্তুত করে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৬টি পুরোপুরি প্রস্তুত করে ডিএমপিকে বুঝে নিতে চিঠি দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। বাকি ১৪টি পর্যায়েক্রমে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বুঝিয়ে দেয়া হবে। এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এবিষয় পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, রিমোটের মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা একটি বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ। কোন পরিকল্পনা ছাড়া এগুলো করলে তা মুখ থুবড়ে পড়বে। কারণ এটি পরিচালনার জন্য লোকবল নিয়োগ দিয়ে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া দরকার। যার কোনটিই এখানে করা হয়নি তাই প্রকল্প শেষে এ বিষয় কারো কোর আগ্রহ থাকবে না। একারণে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ থেকে কোন সুফল আসবেনা। রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে মূলত সময় ও বাতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। গাড়ির চাপ অনুযায়ী দূর থেকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সিগন্যালের সময় ডিজিটাল ডিসপ্লেতে দেখানো হবে। ফলে চালকরা বুঝতে পারবেন কতক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করতে হবে। এছাড়া রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থাতেই সিগন্যালের বাতিগুলো নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এতোদিন পর্যন্ত এগুলো যেভাবে সেট করে দেওয়া হতো সেভাবেই চলতো। এরই মধ্যে ছয়টি ইন্টারসেকশন চূড়ান্ত ভাবে প্রস্তুত করেছে বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি)। স্থানগুলো হলো- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল ইন্টারসেকশন, কদম চত্বর ইন্টারসেকশন, মৎস্য ভবন ইন্টারসেকশন, কাকরাইল মসজিদ ইন্টারসেকশন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ইন্টারসেকশন ও শাহবাগ ইন্টারসেকশন। তবে এসব সিগন্যালে ত্রুটি রয়েছে উল্লেখ করে ডিএমপির যুগ্ম-কমিশনার ট্রাফিক (দক্ষিণ) মো. মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, রিমোট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক সিগনালগুলো বুঝে নিতে সিটি কর্পোরেশন থেকে আমরা চিঠি পেয়েছি। তবে আমরা নিজেরা একটি অ্যাসেসমেন্ট করে দেখেছি সিগনালগুলোতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে। ফলে সিগনালগুলো বুঝে নিতে দেরি হচ্ছে। আমরা সিটি কর্পোরেশনকে ত্রুটিগুলো সেরে দিতে বলবো। তিনি বলেন, সিগন্যালগুলোতে কীভাবে সময় নিয়ন্ত্রণ করা হবে। লাল, সবুজ সিগন্যাল বাতিগুলো কত সময় জ্বলবে এবং কিভাবে পথচারী পারাপার হবে এবিষয়গুলো সিগন্যালগুলোতে এডজাস্টমেন্ট করা হয়নি। এছাড়া ঠিকাদার ও সিটি কর্পোরেশনকে অন্তত ৭ দিন মাঠে থেকে যারা এটি নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে তাদের এবিষয় প্রশিক্ষণ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে হবে। ৬টি সিগনাল দিয়ে কিছু বোঝা যাবে না। এর সুফল পেতে পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থাকে এর আওতায় আনতে হবে। প্রকল্প পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা পুরো নিশ্চিত হয়েই তাদেরকে চিঠি দিয়েছি। বুঝে নেয়ার আগে তারা কিভাবে বুঝলো ত্রুটি আছে? ত্রুটির বিষয় তারা আমাদের লিখিত কোন অভিযোগ করেনি। সিগনালগুলোতে অটোসিগনালিং ও রিমোট কন্ট্রোলিং দুইভাবেই নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রয়েছে। রিমোটের মাধ্যমে লাল ও সবুজ বাতি প্রয়োজন অনুযায়ী তারা ব্যবহার করতে পারবে। সম্পাদনা : শাহীন চৌধুরী ও প্রিয়াংকা আচার্য্য

অন্যান্য সংবাদ