প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জীবননগরে ২৫ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ আশাতীত মূল্য না পাওয়ায় চাষীরা বিপাকে

জামাল হোসেন, খোকন : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় চাষীরা তাদের উৎপাদিত ফুল বিক্রি করতে না পারায় চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফুল ব্যবসায় ধস নামায় ব্যবসায়ীরা ফুল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এ অবস্থায় ফুল চাষীরা রীতিমত বিপাকে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ঢাকা-চট্ট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ফুলের চাহিদা না থাকায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফুলের দাম না পেয়ে চাষীরা ফুল চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

জীবননগর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামসুজ্জামান বলেন,উপজেলার একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে ২৫ হেক্টর জমিতে গাঁধা ও রজনী গন্ধা ক্যাকটাস জাতীয় ফুলের আবাদ হয়েছে। সারা বছরই ফুলের আবাদ করা যায়। ফুল চাষ লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছর ফুলের আবাদ বাড়ছে। কিন্তু অতি সম্প্রতি ফুলের বাজারে ধস সৃষ্টি হওয়ায় চাষীরা বিপাকে পড়েছেন। বাজারে ন্যায্য ফুল না থাকায় লাভের জায়গায় চাষীরা এখন লোকসানের শিকার হচ্ছেন। তবে এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে তা ঠিক নয়। আশা করা হচ্ছে আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ফুলের বাজারে দাম আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। উপজেলার বাঁকায় সবচেয়ে বেশী ফুলের আবাদ হয়ে থাকে।

সরজমিনে জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফুল চাষী ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়,আগের যে কোন সময়ের তুলনায় এলাকায় ফুল চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আগে এক বিঘা জমিতে ফুল চাষ করতে যে খরচ হত,বর্তমানে তার চেয়ে তিনগুন বেশী খরচ হচ্ছে। ফুল চাষে যে হারে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে,সে হারে বাজারে ফুলের দাম বাড়েনি। বর্তমানে বাজারে প্রতি ঝোপা ফুল ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার বাঁকা গ্রামের ফুল চাষী হায়দার আলী বলেন,এবছর আমার দু’বিঘা জমিতে গাধা ফুলের চাষ করেছি। প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা এবং বাজারে ভাল দাম থাকলে বিঘা প্রতি আয় হবে ৬০-৭০ হাজার টাকা। কিন্তু এবার বাজারে ফুলের দাম না থাকায় লাভ তো দুরের কথা খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঘোষনগর গ্রামের ফুল চাষী আলী আহমেদ বলেন,বীজ বপনের তিন মাসের মধ্যে ফুল উৎপাদন শুরু হয়। এক বিঘা জমি থেকে প্রতিদিন ছয় মাস পর্যন্ত ২০-৩০ ঝোপা ফুল তোলা। এক বিঘা জমি থেকে পুরো মওসুম জুড়ে ১০০০-১২০০ ঝোপা ফুল উৎপাদন করা সম্ভব।

জীবননগর বাঁকা ব্রিক ফিল্ড ফুল বাজারে ফুল ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম ও শ্যামল বলেন,আমরা জীবননগর বাজারে এলাকার চাষীদের নিকট থেকে পাইকারী দামে ফুল কিনে তা রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফুল মার্কেটে পাঠাই। বর্তমানে ওই সব বাজারে ফুলের দাম নেই বললেই চলে। আমাদের একটি ধারণা ছিল স্কুল-কলেজের ছেলে মেয়েদের পরিক্ষা শেষ হলে বাজারে আবার ফুলের দাম উঠবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার কোন আভাস দেখছি না। অন্যদিকে এখন বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাতে ফুলের আবাদ হচ্ছে। আর তার সব মার্কেটও ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম। এসব বাজারে আর কতই বা ফুলের চাহিদা থাকতে পারে!

জীবননগর উপজেলা সহকারী কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা মুন্সী আব্দুস সালেক বলেন,ফুল চাষের জন্য জীবননগরের মাটি ও আবহাওয়া অত্যন্ত অনুকল। এক সময় উপজেলা অল্প সংখ্যক চাষী বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুলের আবাদ করলেও বর্তমানে ফুল চাষ লাভজনক হওয়ায় ব্যাপক হারে চাষ শুরু হয়েছে। বর্তমান বাজারে ফুলের দাম একটু কম হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজার আবার চাঁঙ্গা হবে বলে আমার বিশ্বাস।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ