প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নীলফামারীতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত দরিদ্র মানুষ

নূর আলম সিদ্দিকী, নীলফামারী : নীলফামারী চড়াইখোলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটিতে এফডাব্লুভি ঠিকমতো না থাকা ও দুপুরের পর বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত এই গ্রামের হাজারো অসহায় গরিব মানুষ। শুধু একদিন নয় প্রতিদিন দুপুরের আযান দেয়ার পর থেকে বন্ধ করে চলে যান ওই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটির এফডাব্লুভি ও ল্যাম্পের কর্মরত সিএইচবি।

রোববার দুপুরে নীলফামারী চড়াইখোলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটিতে সরেজমিনে গেলে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত গ্রামের অসহায় গরিব মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার গরিবদের জন্য ওষুধ দিছে, আমরা সে ওষুধ পাইনা। এখানে কর্মরত এফডাব্লুভি সাবিহা বানু স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা মহিলা ও পুরুষের সাথে খারাপ আচরণ করাসহ তাদের ঔষধ দিতে গড়িমসি করাসহ নানা রকম হয়রানি করে থাকেন’।

এলাকাবাসী ফরিদ হোসেন, আতিকুল ইসলাম, জাহেদা বেওয়া বলেন, এফডাব্লুভি সাবিহা বানু স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটিতে সকাল এগারোটায় এসে বেশিক্ষণ থাকেননা আর প্রতিদিন আসেননা নিজের ইচ্ছামত আসা যাওয়া করেন। ছোট একটি বাচ্চার খুব সমস্যা ওষুধ দেন নাই। উল্টো রোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এখানে ল্যাম্পের সিএইচবি কর্মরত দুজন কোয়াটারে থাকেন। তারাও একটায় বন্ধ করে চলে গেছেন। পরে তারা দুইটার পর সংবাদকর্মীদের দেখে অফিসের পিছন দরজা দিয়ে অফিসে ঢুকে বন্ধ দরজা খুলে দেয়। ল্যাম্পের কর্মরত বিউটি মনি জানায় দুপুরে খেতে গেছি যার কারণে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির দরজা বন্ধ ছিলো।

চড়াইখোলা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেটির এফডাব্লুভি সাবিহা বানুর সাথে (০১৭১৬৭৯৭৭৩৬) সেল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সেল ফোনটি তোলেননি।

সদর উপজেলা ফ্যামিলি প্লানিং অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, সপ্তাহে ছয়দিন অফিস খোলা থাকবে, প্যারাসিটামলসহ কিছু এন্টিবায়োটিক, মা ও শিশুদের পুষ্টি বিষয়ে ধারনা, জন্ম নিয়ন্ত্রণে কাজ করা ও অফিসে ছয়দিনে সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সেবা প্রদান করবে কর্মরতরা। এফডাব্লুভি সাবিহা বানুর অফিযোগের বিষয়ে বললে তিনি কোন উত্তর দিতে রাজি হননি। কৌশলে এড়িয়ে যান।

চড়াইখোলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মানিক বসুনিয়া বলেন, ‘এদের কিছুই বুঝিনা, কখন আসে কখন যায় আমি কিছুই জানিনা’।

জেলা পরিবার পরিকল্পনার উপ-পরিচালক আফরোজা বেগম বলেন, ‘মেডিকেল অফিসার ডাঃ সামসুল আলম তদারকি করেন।তাই আমার দেখার কিছু নাই।’

জেলা সিভিল সার্জন রনজিৎ বর্মন রায় বলেন, ‘এগুলি আমার তদারকির বিষয় না’।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ