প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিমরাডের আন্তর্জাতিক সেমিনার

স্বপ্না চক্রবর্তী : দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্লু ইকোনমি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিও লক্ষ্যে ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সেমিনার করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ মেরিটাইম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিমরাড)।

রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্ঠা মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক নিজামউদ্দিন আহমেদ।

দিনব্যাপী এ সেমিনারে ভারত যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের মেরিটাইম বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণ এবং এর সঠিক ব্যবহার, সমুদ্র দূষণ প্রতিরোধ ও জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় বিশেষজ্ঞরা সমুদ্র সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে অংশীদারিত্ব, পারস্পকির সহযোগিতার বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পৃথিবীর ৭১ শতাংশ দ্বারা আচ্ছাদিত সমুদ্র যুগে যুগে মানবসভ্যতা, সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য, অবসর যাপনের প্রধান কেন্দ্র বিন্দু। এটি ইকো সিস্টেম ও জীবমন্ডলের ভারসাম্য রক্ষা করে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং আমাদের অক্সিজেন, খাদ্য, পানীয়, শক্তি, কাঁচামাল, ঔষধ এমনকি বিনোদন ও সংস্কৃতিরও যোগান দেয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল (অব:) তারিক আহমেদ সিদ্দিক বলেন, সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় ১৯৭৪ সালে টেরিটোরিয়াল ওয়াটার এন্ড মেরিটাইম জোনস এ্যাক্ট প্রণয়ন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরবর্তীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণভাবে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। যা বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতির বিশাল সম্ভাবনাময় দুয়ারকে উন্মোচিত করেছে।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনেতিক উন্নয়নে প্রতিবেশি দেশগুলোর একযোগে কাজ করা জরুরী। এ জন্য দক্ষ নেতৃত্ব, পারস্পরিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা, কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরী।

বিমরাডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও নৌবাহিনী প্রধান বলেন, বর্তমান সরকারের চেষ্টায় বাংলাদেশ ১,১৮, ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের এক বিশাল সমুদ্র এলাকা জয় করেছে। এই সমুদ্র মাছ ও খনিজসহ বিভিন্ন সম্পদে পরিপূর্ণ। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে এই সম্পাদকে কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই।

প্রসঙ্গত, বিমরাড বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় একটি সেবাধর্মী ও অলাভজনক সামুদ্রিক গবেষণা প্রতিষ্ঠা হিসেবে গত ৩ জুলাই থেকে যাত্রা শুরু করে। দেশের সমুদ্র সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি এবং ব্লু ইকোনমি, সমুদ্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তাসহ সামুদ্রিক সকল বিষয়ে গবেষণামূলক কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী সুপারিশ প্রণয়ন প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত