Skip to main content

‘আবারও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সচল করতে চান রোজিনা’

মহিব আল হাসান : চিত্রনায়িকা রোজিনা। আশির দশকের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা। অসংখ্য জনপ্রিয় ছবি তিনি দর্শকদের দীর্ঘ সময় উপহার দিয়েছেন। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। চলচ্চিত্রে তার অবদান অনেক। তবে তিনি সর্বশেষ ২০০৫ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় মতিন রহমান পরিচালিত ‘রাক্ষুসী’ সিনেমায় অভিনয় করছিলেন। ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন ফেরদৌস। মাঝে বেশকিছু ফ্যাশন শোতে অংশগ্রহণ করলেও সিনেমায় দেখা যায়নি তাকে।এরপর থেকে তিনি দেশের বাহিরে সময় বেশি কাটাচ্ছেন। চলতি বছরে দেশে বেশকিছুদিন থাকার পর আবারও লন্ডন পাড়ি জমান। সেখানে পাঁচ মাস থাকার পর আবারও দেশে ফিরছেন গত ১১ই নভেম্ববর। দেশে ফিরলেই সবার সঙ্গে তিনি যোগাযোগ রাখেন এবং ইন্ডাস্ট্রি সামনে এগিয়ে যাক এটাই প্রত্যাশা করেন। দেশে ফিরে নিজের কাজসহ নানা পরিকল্পনার কথা জানালেন তিনি। রোজিনা বলেন , ‘এবার আমি লন্ডনসহ, কানাডা, আমেরিকা ঘুরেছি। ভ্রমণ করতে আমার খুব ভালো লাগে। তবে এবার দেশে এসেছি সিনেমার টানে। সিনেমার সাথে নিজেকে আবার মানিয়ে নিতে বেশকিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমি দীর্ঘদিন ধরে আমার লেখা গল্পে একটা সিনেমা বানানোর জন্য সরকারি অনুদান চেয়েছিলাম। কিন্তু যোগাযোগ না করায় তা হয়নি। তবে এবার নিজের প্রযোজনায় ছবি বানানোর পরিকল্পনা করছি।’ নিজের প্রযোজনায় কয়টি ছবি বানাবেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রোজিনা ফিল্মস থেকে ‘জীবন ধারা’ এবং ‘দোলনা’ নামে দুটি ছবি প্রযোজনা করেছি। যার একটি ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। আমি আবারও আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান চালু করতে চাই। আমার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েকটি ছবি বানাতে চাই। দেখা যাক কয়টি বানাতে পারি। তবে আমার প্রতিষ্ঠান থেকে সিনেমা বানাতে বেশ আগ্রহী আমি। নিজের এলাকা নিয়ে এই চিত্রনায়িকা বলেন, ‘আমার অনেকদিনের একটা স্বপ্ন আমার নিজ এলকায় একটা মসজিদ নির্মাণ করে দেব। মসজিদ নির্মাণের জন্য জায়গা রেজিষ্ট্রি করতে গ্রামে যাবো। মায়ের নামে মসজিদটি করার ইচ্ছে । রোজিনার পারিবারিক নাম রেনু। বড় পর্দায় তাকে রোজিনা নামেই দর্শকরা চিনেন। তিনি ১৯৭৬ সালে ‘জানোয়ার’ সিনেমাতে সহনায়িকা হিসেবে অভিনয়ের সুযোগ পান রোজিনা। এরপর নায়িকা হিসেবে এফ কবীর চৌধুরী পরিচালিত ‘রাজমহল’ ছবিতে অভিষেক হয় তার। এ ছবিতে তার নাম পরিবর্তন করে রোজিনা রাখা হয়। পুরো আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি ছিলেন ঢালিউডের চাহিদাসম্পন্ন নায়িকা। রোজিনার বেশির ভাগ ছবিই পোষাকী। সুঅভিনয়ে ও গ্ল্যামার দিযয়ে তিনি প্রথম শ্রেণীর নায়িকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। চলচ্চিত্রে আসার আগে তিনি ঢাকায় মঞ্চ নাটক করতেন। রোজিনা ১৯৮৬ সালে ‘হাম সে হায় জামানা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি পাকিস্তান থেকে নিগার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন পাকিস্তানের জনপ্রিয় নায়ক নাদিম। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ ছোট-বড় ১৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।