প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুহিতের সাথে বিএনপি হেভিওয়েট অধ্যাপক ডা: শাহরিয়ার কে প্রার্থী চায় সিলেট- ১ আসনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা

ইসমাঈল হোসেন ইমু : সিলেট সদর নির্বাচনী আসন-১ এ দলের বাইরে থেকে নয় বিএনপির নেতাকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চান স্থানীয় নেতাকর্মীরা।তাদের দাবি দেশের অন্যতম আলোচিত ও প্রেস্টিজিয়াস আসন হিসেবে পরিচিত সিলেট-১ আসনে ধানের শীষের তথা বিএনপির কোনো নেতাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক।  জনশ্রুতি আছে,সিলেট-১ আসন থেকে যে বা যে দলের প্রার্থী নির্বাচতি হন,সেই দল সেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করার পাশাপাশি সরকার গঠন করে থাকে।তাই দেশের সবচেয়ে বড় দুই দল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও প্রধান বিরোধীদল বিএনপি সব সময় ওই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে থাকে।

অতীতে বিগত বিএনপি সরকারগুলোর সফল অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সিলেট-১ আসনে দল থেকে মনোনয়ন পেতেন।তিনি ওই আসন থেকে দুইবার নির্বাচিতও হন।সাইফুর রহমানের পর বর্তমান সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সিলেট-১আসন থেকে নির্বাচন করে আসছেন। সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি মুহিতের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে ওই মাপের নেতা নিয়ে সংশয়ে থাকলেও এবার বিএনপি থেকেই মনোনয়ন চান সিলেট-১আসনের সাধারণ নেতাকর্মীরা।
সেক্ষেত্রে এবার বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী। এ দুই প্রার্থীর বাইরে আলোচনায় আছেন সাবেক সচিব বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এনাম আহমেদ চৌধুরী। কিন্তুুত এনাম আহমেদ চৌধুরীকে নিয়ে দলের সাধারন নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। দীর্ঘদিন দরে তিনি বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতা হলেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। যোগাযোগ বিমুখতার কারনে নেতাকর্মীদের প্রতি তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তা তৈরি হয়নি বলে জানা যায় এদিকে,গত সোমবার (১২ নভেম্বর)নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়ন বিতরণের প্রথম দিনেই সিলেট-১আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী ও খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এরপরই নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয় গুঞ্জন।শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন দলের মনোনয়ন?কে হচ্ছেন দলীয় প্রতীক ধানের শীষের বাহক?

ভাড়া করা বা দলছুট কোনো নেতা নয়,আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থী চায় চায় সিলেট-১ আসনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের ভাষ্য,হঠাৎ করে দলছুট বা স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কোনো প্রার্থীকে সিলেট-১আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চাপিয়ে দেয়া হলে তা আগামী নির্বাচনে ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।সেক্ষেত্রে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি সিলেট মহানগর বিএনপির পরপর দুই বারের সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী তৃণমূল নেতাকর্মীদের অন্যতম পছন্দের প্রার্থী।তিনি ভদ্র, সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে ইতোমধ্যেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ডা.শাহরিয়ার ছাত্র জীবন থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে যে আলোচিত ও স্মরণীয় নৌ-বিহার করেছিলেন তাতে শাহরিয়ার হোসেনও অন্তর্ভূক্ত ছিলেন।এছাড়া বিগত সময় থেকে এখন পর্যন্ত ডা. শাহরিয়ারই একমাত্র নেতা যিনি সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের নির্বাচিত ভিপিও ছিলেন।
ডা.শাহরিয়ার হোসেন ছাড়াও সিলেট-১ আসনে মনোনয়নের দৌড়ে প্রতিযোগীতা করছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মুক্তাদিরের বাবা এমএ মালিক পরপর দুইবার এই আসনে বিএনপি দলীয় নির্বাচিত এমপি ছিলেন।বিএনপির রাজনীতিতে মুক্তাদিরের দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার না থাকলেও বর্তমানে তিনি দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য পদ পেয়েছেন।এর আগে তিনি দলের নির্বাহী কমিটির সদস্যও ছিলেন না হঠাৎ আগমন।

সিলেট-১আসনে নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা.শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন,আমাকে যদি দল প্রার্থী হিসেবে মূল্যায়ণ করে তাহলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করব।সেক্ষেত্রে সিলেট-১আসনের বিএনপির সকল নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়েই আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ে কাজ করে যাবে।তিনি জানান,নির্বাচনে বিজয়ী হলে আমার এলাকার গ্রাম ও শহরের সুযোগ-সবিধায় যে পার্থক্য রয়েছে তা মুছে ফেলা আমার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।
সিলেট-১আসনের দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এ্যাড. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমাদের এ আসনে কোনো প্রার্থীকে ভাড়া করে আনার প্রয়োজন বিএনপির হবে না। এ আসনে ডা.শাহরিয়ার হোসেন একজন যোগ্য প্রার্থী। অনেকেই প্রার্থীতা চাইতে পারেন। একজনের নাম শুনছি যিনি বিএনপির মনোনয়ন চান। তিনি আমাদের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যও মনোনীত হয়েছেন।যেহেতু তিনি আমাদের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমরা স্থানীয়রা তাকে সে হিসেবে সন্মানও করি।এখন দল যদি তাকেও মনোনয়ন দেয় তবে আমাদের তার জন্যও কাজ করতে হবে।

জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমেদ চৌধুরী বলেন,জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা ডা. জোবায়দা রহমান নির্বাচন করলে পুরো সিলেটে বিএনপি তথা ধানের শীষের জোয়ার সৃষ্টি হত। মানুষ আনন্দে উদ্বেলিত হত।যেহেতু ওই পরিবার হতে কেউ নির্বাচন করছেন না সেক্ষেত্রে ডা.শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিভাবক হিসেবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে আমরা মনে করি।এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এনাম আহমেদ চৌধুরীও প্রবীণ নেতা। তিনিও হতে পারেন আমাদের প্রার্থী।এর বাইরে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী।আমার মতে এই আসনে যোগ্যতাপুর্ণ হিসেবেই এগিয়ে আছেন শাহরিয়ার। দল যদি শাহরিয়ার কে মুল্যায়ন করে তাহলে ফলাফল ভাল হবে। মোট কথা দল যাকেই মনোনয়ন দেবে আমরা তার জন্যই কাজ করে যাব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ