প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পারবেন কি মাহমুদুর রহমান মান্না জয়ী হতে?

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, স্টকহোম: মাহমুদুর রহমান মান্না স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জাসদ সমর্থিত ছাত্রলীগের একজন তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। নিজস্ব জনপ্রিয়তায় ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচনে বার বার জয়ী হয়েছেন। পরবর্তীতে জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ওইসময় ছাত্র রাজনীতির মাঠ মানেই মাহমুদুর রহমান মান্না। পরবর্তীতে একসময় এই ছাত্রনেতার পথচলা শুরু হয় জাতীয় রাজনীতিতে। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে ১৯৬৯ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সূর্যের আশা নামক একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে জড়িত ছিলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্নার সাথে আমার সাক্ষাৎটা ছিলো একটু ভিন্ন। সময়টা ১৯৭৪ সাল। আমি তখন ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক। আর তিনি ছিলেন জাসদসমর্থিত ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা আইডিয়াল কলেজ জাসদ ছাত্রলীগের এক কর্মী সভায় তিনি প্রধান অতিথি। জাসদসমর্থিত ছাত্রলীগের কলেজ শাখার নেতা জাহিদ মান্না ভাইয়ের সভায় যেনো কোনো গোলমাল না হয়, এ ব্যাপারে আমাকে অনুরোধ করে। কারণ ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আইডিয়াল কলেজের নেতাকর্মীরা মাহমুদুর রহমান মান্নার কলেজ প্রাঙ্গনে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

এ ধরনের একটা পরিস্থিতিতে কী করবো আর কী করবো না তা ঠিক করে বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তবে সভা করার অধিকার তো তার আছে। কিন্তু কী ভাবে উত্তেজিত ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে আনা যায়. সে ব্যাপারে চিন্তা করে জাহিদকে ডেকে বললাম, তোমাদের নেতা এখানে সভা করতে পারবেন। কোনো রকম গণ্ড গোল হবে না। তবে শর্ত একটাই, তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে কোনো অশালীন বক্তব্য কিংবা কটু কথা বলতে পারবেন না। যদি বলেন তাহলে আমার পক্ষে উত্তেজিত ছাত্রদের দমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। সে আমার কথায় রাজি হলো। ওই সময় ছাত্রলীগ (আ স রব – শাহজাহান সিরাজ) নেতারা সব সময় বঙ্গবন্ধুকে গালিগালাজ করে বক্তব্য রাখতেন। আমি নিশ্চিত ছিলাম তিনি তার ব্যতিক্রম হবেন না। বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি একসময় করলেনও তাই। সেইসাথে সভা হলো প-। ওনাকে কলেজ ছাত্রলীগের উত্তেজিত নেতাকর্মীরা কলেজ প্রাঙ্গন থেকে বের করে দেয়। এইসময় আমি কলেজের আম্রকাননের নিচে বসে ছিলাম। কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় তিনি বার বার আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। আমাকে অবশ্য তার চেনার কথা নয়।

মাহমুদুর রহমান মান্না পরবর্তীতে বাসদ ও বর্তমানে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক। তবে আশ্চর্য হলেও সত্য যে, এক সময়ের কট্টর বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনৈতিক নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না সবাইকে অবাক করে শেখ হাসিনার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। পরবর্তীতে প্রথমবার জনতা মুক্তি পার্টি ও দুইবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে বগুড়া থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। শুনেছি বার বার বগুড়ায় পরাজিত হয়ে তিনি শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করেছিলেন তাকে ঢাকা থেকে নমিনেশন দেয়ার জন্য। কিন্তু শেখ হাসিনা নমিনেশন না দেয়ায় তিনি অসন্তুষ্ট হন। এখানেই শেষ নয়, তার শেষ আবদার ছিলো, ঢাকা থেকে মেয়র নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন। সেই আবদার থেকেও বঞ্চিত হন তিনি। তবে শেখ হাসিনা তার অতীত কার্যকলাপ ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে মাহমুদুর রহমান মান্নাকে আওয়ামী লীগের মতো বিশাল সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক করেছিলেন। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনার ওই সভায় তিনিও উপস্থিত ছিলেন এবং এইসময় তার চোখে স্পিন্টার লাগায় এখনো তিনি নিয়মিত লেন্স ব্যবহার করেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক থাকাকালীন মাহমুদুর রহমান মান্নার সাথে ঢাকায় সাক্ষাৎ হয়। এইসময় তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, আওয়ামী লীগ এবং মুক্তিযুদ্ধের শক্তির পক্ষে অনেক কথা বলেন। সেদিন তার বক্তব্যে আমি ধারণা করেছিলাম, খুব শিগগিরই তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার খুব কাছাকাছি আসার সুযোগ করে নিতে পারবেন। কিন্তু আমার ধারণা হলো, সম্পূর্ণ উল্টো। আবারো তিনি জাতীয় রাজনীতিতে দিলেন ডিগবাজি। আর এবার হাতে নিলেন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ধানের শীষ প্রতীক।

এখন আসছে নির্বাচনে ডক্টর কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সম্ভবত বগুড়ার আসন থেকে নির্বাচন করবেন মাহমুদুর রহমান মান্না। এই নির্বাচন এলাকাটা বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। আগামী নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের সমর্থন কাজে লাগিয়ে হয়তোবা এই যাত্রায় তার জয়ী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবে শোনা যাচ্ছে, এই আসনে বিএনপির শরিক দল জামায়াতের প্রার্থী দেয়ার কথা। যেখানে ধানের শীষ নিয়ে তার এগিয়ে থাকার কথা, সেখানে জামায়াত প্রার্থী সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে জামায়াত আর মান্নার দ্বন্দ্বে মাঝখান থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ধানের শীষের প্রতি তার ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে তিনি ইদানিং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়ে চলছেন। তার দৃঢ় বিশ্বাস আসছে নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে বসার সুযোগ পাবেন। বার বার রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করে শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পারবেন কি মাহমুদুর রহমান মান্না জয়ী হতে? সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত