প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনের সময় মৌসুমী ব্যবসা

ম. র. ম. আবদুল্লাহ: বাংলাদেশে যে কোনো নির্বাচনে বিশেষত জাতীয় সংসদ এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয় । আর নির্বাচনী পরিবেশ যদি হয় শান্তিপূর্ণ; তাহলে শুধু ভোটার নয়ম শিশু কিশোররা পর্যন্ত আনন্দ উল্লাসের সাথে সভা-সমাবেশ আর মিছিলে অংশগ্রহণ করে থাকে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করার পরপরই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তোড়জোর ও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়ে যায়। প্রার্থীরা যে যত পারে সমর্থক নিয়ে ‘শো-ডাউন’ করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ও জমা দেয়। প্রার্থী নির্বাচন চূড়ান্ত হলে শুরু হয় সভা-সমাবেশ আর পাড়ায় পাড়ায়, ঘরে ঘরে জনসংযোগ। আর এ সময় আমাদের দেশে অনেক মৌসুমী ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

আমাদের দেশে নির্বাচনী সংস্কৃতি হলো পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট দিয়ে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ঢেকে ফেলা। ভোট এলে তাই মুদ্রণ শিল্পের ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি গতি সঞ্চার হয়। এমনকী অনেক মুদ্রণ-প্রতিষ্ঠান এ সময় তাদের নিয়মিত বইপত্র ছাপার কাজ বাদ দিয়ে শুধু নির্বাচনী পোস্টার-লিফলেট ছাপার কাজ করতে থাকে। আগে নির্বাচনের সময় পোস্টার-লিফলেট ছাপা হত প্রেসে, প্রচলিত কাগজে। সাম্প্রতিককালে এর সাথে যুক্ত হয়েছে কম্পিউটারে তৈরি এবং বিশেষ ধরনের কম্পিউটার প্রিন্টারে মুদ্রিত রঙিন ব্যানার আর পোস্টার। বাজারে এগুলো ডিজিটাল ব্যানার ও পোস্টার নামে পরিচিত।

এ সব ব্যানার-পোস্টার প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থে তৈরি হওয়ায় বৃষ্টি-বাদলে নষ্ট হয় না; দেখতেও অনেক সুন্দর। কাগজে মুদ্রণের ক্ষেত্রে প্রেসে একবারে অধিকসংখ্যক মুদ্রণ করতে হয়। কিন্তু ডিজিটাল পোস্টারের ক্ষেত্রে স্বল্প খরচে মাত্র একটিও মুদ্রণ করা যায়। সঙ্গতকারণেই সনাতন প্রেসের পাশাপাশি এ সময় ডিজিটাল সাইন, ব্যানার-ফেস্টুন তৈরির ব্যবসায় ব্যস্ততাও বেড়ে যাবে।
ভোট আসলে রমরমা হয় মাইকের ব্যবসা। পাড়ায় পাড়ায গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প করে সেখানে সারাক্ষণ মাইকে প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চলতে থাকে। তাছাড়া সভা-সমাবেশ ও মিছিলেতো মাইকের ব্যবহার আছেই।

বাড়বে রাস্তার মোড়ে মোড়ে আর ফুটপাতের চায়ের ব্যবসা, সাথে রুটি-বিস্কুট আর কলার ব্যবসাও। প্রার্থীর নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মী সমর্থকদের চাহিদা মেটাতে হবে তাদের । গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকবে এ সব দোকান। চায়ের দোকানের মতো অতটা বৃদ্ধি না হলেও হোটেল রেস্টুরেন্টের ব্যবসাও বৃদ্ধি পাবে। নির্বাচনের কাজে অনেক শহরবাসী গ্রামে যাবেন। এ সময় গ্রামে অর্থপ্রবাহ বেড়ে যাবে। সঙ্গতকারণে দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্যের চাহিদা ও সরবরাহ গ্রামাঞ্চলে বাড়বে। নির্বাচন উপলক্ষে তাই বাড়বে এ সব ব্যবসায়ীদের ব্যবসা। তবে সবই মৌসুমী, নির্বাচন শেষ ব্যবসারও অবসান। লেখক : সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ