প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রার্থী চূড়ান্ত মনোনয়নের প্রতীক্ষায় সবাই

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : দলীয় মনোনয়ন লাভের আশা নিয়ে প্রায় চার হাজার প্রার্থী আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ফরম কিনেছেন। একইভাবে বিএনপিরও চার হাজারের অধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অন্যান্য জোট ও দল নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার অপেক্ষায় আছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল জাতীয় পার্টি এবং আরও কিছু সংখ্যক দল ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিবেন বলে প্রচারিত, আবার একইভাবে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোট ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে যাচ্ছে। মহাজোটের প্রার্থী দু-একদিনের মধ্যেই চূড়ান্ত হবে বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের এক সমাবেশ ডেকে দলের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যথায় দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে বলে জানিয়েছেন। এবার মনোনয়নের বিষয়টি সম্ভবত দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নিজের হাতে এককভাবে এখনও পর্যন্ত নানা বিবেচনার জন্য রেখেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এখন অপেক্ষায় আছেন কে কোন আসনে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন লাভ করতে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের বাইরে ১৪ দলের জন্য কিছু আসন, জাতীয় পার্টির জন্য উল্লেখযোগ্য আসন এবং বনিবনা হলে আরও দু-একটি দলের জন্য কিছু আসন ছেড়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা আছে বলে ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগ থেকে বলা হয়েছে যে, প্রতিটি আসনের ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তা যাচাই-করে গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকেই চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের শুভাকাক্সক্ষীরা মনে করেন যে, এবারের নির্বাচনটি বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতে পারে।

সেকারণে দলীয় এবং জোটগতভাবে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি আসনের ভোটারদের কাছে অপেক্ষাকৃত যে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বা ভোটপ্রাপ্তির সম্ভাবতা বেশি থাকবে তাকেই যদি মনোনয়ন দেওয়া যায় এবং দল ও শরীর জোটের নেতাকর্মীরা যদি কোনো ধরনের অর্ন্তঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হয় তাহলে আওয়ামী লীগের জয়লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি সহজ হবে। তবে প্রায় প্রতিটি আসনেই মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা অবিশ্বাস্যরকম বেশি হওয়ায় যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া যেমন সমস্যা একইভাবে যারা মনোনয়ন লাভে বঞ্চিত হবে তারা বিভেদ ভুলে মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীকে কতোটা সহযোগিতা প্রদান করবেন, মাঠে ভোট সংগ্রহে নামবেন সেটি দেখার বিষয়। তবে যেসব এমপি, মন্ত্রী ও স্থানীয় নেতা এলাকায় নানা কারণে সমালোচিত বা বিতর্কিত অথবা কর্মক্ষমতা হারানোর পর্যায় রয়েছেন তাদেরকে মনোনয়ন দানের বিষয়টি পরিহার করা বাঞ্চনীয়। আবার অভিজ্ঞ, যোগ্য এবং ভোটারদের কাছে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দান করা হলে বিজয়ী হওয়া অনেকটাই সহজতর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সমস্যা অন্যদিকেও রয়েছে। জাতীয় পার্টি যতোটা আশা করছে যে তারা মহাজোটের কাছ থেকে অধিক আসন পেলেই লাভবান হবেন, কিন্তু উত্তরবঙ্গের কিছু জেলা ব্যতীত ঢাকা বা অন্যান্য জেলায় লাঙ্গল প্রতীকে বিজয়ী হয়ে আসা মোটেও সহজ হবে না। সেক্ষেত্রে ওই আসনগুলো ধানের শীষ সহজে পেয়ে যেতে পারে। অথচ ওইসব আসনে কোথাও কোথাও নৌকা প্রতীকে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকতো। সুতরাং কোন দল কতো বেশি আসনে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে সেটির চাইতে বেশি বিবেচনা করা উচিত মহাজোটের নৌকা কিংবা লাঙ্গল প্রতীকে সম্ভাব্য বিজয়ী প্রার্থী একটি আসনও যেন না হারাতে হয়। সেক্ষেত্রে জয়ের সম্ভাবনাটাই বেশি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

আসন বেশি পাওয়ার মধ্যে সাময়িক আনন্দ থাকতে পারে কিন্তু বিপর্যয়ও বেশি ঘটার আশঙ্কা বেশি থাকতে পারে। সে কারণে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ১৪ দলীয় নেতৃবৃন্দ, জাতীয় পার্টি নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য জোট ও দলের নেতৃবৃন্দকে আসন ও প্রার্থী ধরে ধরে বিবেচনা করতে হবে। কোন আসনে কাকে মনোনয়ন দিয়ে জয়লাভ করে আসা সম্ভব হবে সেটিই আসন ভাগাভাগিতে একমাত্র মানদ- বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত। এর ব্যথ্যয় ঘটলে যে বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা বাস্তবে দেখা দিবে সেটি মোকাবেলা করা সহজ হবে না।

লেখক : অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, বাউবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ