প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এরশাদের লুকোচুরি, আসন নিয়ে দুশ্চিন্তায়

মহসীন কবির : আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির আসন বণ্টন চূড়ান্ত না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন দলীয় নেতা ও নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের অনেক প্রার্থী। ৩০০ আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা নেয়ার পর এ দুশ্চিন্তা বেড়েছে। গত শনিবার রাতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে ছাড়া পেয়ে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবনে ফেরেননি এরশাদ। হঠাৎ আড়ালে যাওয়ায় কারণে রাজনৈতিক অঙ্গণে গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।

নিজের আসন নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন এরশাদ। জাপার দুর্গখ্যাত রংপুর বিভাগের বাইরে গিয়ে এই প্রথম নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) ও সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন এরশাদ। এ দুই আসনেই আওয়ামী লীগের শক্তিশালী ও জনপ্রিয় প্রার্থী আছেন। এ ছাড়া এবার ঢাকা-১৭ আসনটিও জাপাকে ছাড় দিতে চায় না স্থানীয় আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিন ধরে এরশাদের এই আসনটি আওয়ামী লীগের উচ্চ পর্যায়ের কাউকে দেয়া হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এরশাদ।

পার্টি ও জোট নেতাদের অনিশ্চয়তা আর নিজের দ্বিধাদ্ব›দ্ব কাটাতেই আসন বণ্টনের বিষয়টি দ্রæত নিষ্পত্তি করতে চায় জাপা। এ ব্যাপারে আলোচনার জন্য সময় চেয়ে গত শনিবার রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন এরশাদ। চিঠিতে আসন বণ্টনে সমঝোতার বিষয়ে বৈঠকে বসা ও দ্রæততম সময়ে তা ফয়সালা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দলীয় সূত্র মতে, বৃহত্তর রংপুরের ২২টিসহ হেভিওয়েট প্রার্থীদের জন্য ঢাকার আসনগুলো নিশ্চিত করতে চায় জাপা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ঢাকা-৪ আসনে পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৫ আসনে মীর আবদুস সবুর আসুদ, ঢাকা-৬ আসনে এডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদ, ঢাকা-৭ আসনে হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন ও ঢাকা-১৩ আসনে সফিকুল ইসলাম সেন্টুর মনোনয়নের নিশ্চয়তা চায়। পাশাপাশি হঠাৎ জাপার প্রেসিডিয়াম পদ পাওয়া লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে উপহার হিসেবে ফেনী-৩ আসন ও পীরজাদা শফিউল্লাহ আল মনিরের জন্য টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনও চূড়ান্ত করতে চায়। তা ছাড়া ৩০০ আসনে মনোনয়ন সংগ্রহকারীদের অনেকেই স্থানীয়ভাবে পার্টির চেয়েও বেশি জনপ্রিয়। তাদের মনোনয়নও নিশ্চিত করার দাবি আছে পার্টিতে। এসব বিষয় মাথায় রেখে দাবি করা ১০০ আসনের মধ্যে অন্তত ৭০টি আসনের নিশ্চয়তা চান এরশাদ। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ ৪০টির বেশি আসন দেয়া হবে না বলে আলোচনা চলছে। এতে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে।

এদিকে বার্ধক্যজনিত রোগের পাশাপাশি নির্বাচনী কর্মকাÐে ক্লান্ত হয়ে পড়া জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিয়মিত মেডিকেল চেকআপের জন্য গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক (সিএমএইচ) হাসপাতালে যান।
এরপর শনিবার রাতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে ছাড়া পেয়ে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবনে ফেরেননি বলে জানা গেছে। ভোটের আগে দলীয় কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে এরশাদের অসুস্থতার খবর গোপন রাখা হয়েছে। রাজধানীর গুলশানে নিজ বাড়িতে বিশ্রামে আছেন এরশাদ।

বিএনপির সঙ্গে জোট করেও ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে চার দল ছাড়েন এরশাদ। আবার বিএনপির সঙ্গে আলাপ চালিয়েও ২০০৬ সালে ভোটের আগে যোগ দেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে। তিন দিন ‘আত্মগোপনে’ থাকার পর ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর পল্টনে আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দেন তিনি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগের কয়েক মাসে এরশাদের ভূমিকা ছিল নাটকীয়তায় পূর্ণ। ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর তিনি মহাজোট ছাড়েন। নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু পরের মাসেই নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দিয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ১৫ দিনের মধ্যে মত বদলে নির্বাচনকালীন সরকার থেকে দলীয় মন্ত্রীদের পদত্যাগ করে ভোট বর্জনের নির্দেশ দেন।।

নির্বাচন বর্জনকারী এরশাদকে ২০১৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর সিএমএইচে ‘ভর্তি’ করে র‌্যাব। জাপার একাংশ রওশন এরশাদের নেতৃত্বে বিএনপিবিহীন নির্বাচনে অংশ নেয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন শেষে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত সিএমএইচে ‘চিকিৎসাধীন’ ছিলেন এরশাদ। হাসপাতাল থেকে এসে সংসদ সদস্যের শপথ নেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হয়ে বাসায় ফেরেন।

গত ৫ নভেম্বর গণভবনে সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপা চেয়ারম্যানকে বলেন, আর ডিগবাজি না দিতে। তবে নির্বাচনের আগে এরশাদের অসুস্থতা এবং তিনি বাসায় না থাকায় নতুন গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। এরশাদ মহাজোট ছাড়তে পারেন এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। ৭৬ আসনে মহাজোটের মনোনয়ন চেয়েছে জাপা। আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়। প্রত্যাশিত আসন না পেলে এরশাদ বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যেতে পারেন, এমন গুঞ্জনও রয়েছে।

এরশাদের ছোট ভাই জাপার কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের এসবকে গুজব বলে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এসব গুঞ্জন শতভাগ মিথ্যা। দলের শত শত মনোনয়নপ্রত্যাশী এরশাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রতিদিন তার বারিধারার বাসায় ভিড় করছেন। তাই তিনি বিশ্রাম নিতে পারছেন না। অন্য একটি বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ