Skip to main content

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে পতন হতে যাচ্ছে সাংবাদিকতার?

আসিফুজ্জামান পৃথিল : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যভহারের নতুনতর সংযোজন হিসেবে এবার চীন বানিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংবাদ পাঠক। ইংরেজি এবং ম্যান্দারিন ভাষা ব্যবহারে সম্ভব দুটি আলাদা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে দেশটির বার্ষিক ইন্টারনেট সম্মেলন উপলক্ষে উন্মোচিত করা হয়। এই দুই রোবটিক সংবাদ উপস্থাপকের কোন বিরতি, প্রয়োজন নেই। তারা দিনের ২৪ ঘন্টাই টানা সংবাদ উপস্থাপনে সক্ষম। এই ভার্চুয়াল উপস্থাপকরা ভিডিও দেখেই শিখতে সক্ষম। দুজন উপস্থাপকই পুরুষ। হিন্দুস্তান টাইমস বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিনহুয়ার এই দুই সংবাদ পাঠককে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা হলেও অনেকেই এর ফলে সাংবাদিকতার স্থায়ী ক্ষতি হবারও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। অনেকের প্রশ্ন, সাংবাদিকতাই কি পরবর্তী বর্মক্ষেত্র হতে চলেছে যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে চলে যাবে? চালকহীন গাড়ি বহু গাড়ি চালকের চাকরি কেড়ে নিতে পারে। সয়ংক্রিয়তা বহু দোকানকর্মীর চাকরি ছিনিয়ে নিয়েছে, অনুবাদে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বহু অনুবাদকের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে। খুব সম্ভবত এ কারণে ক্ষতিগ্রস্থ পরবর্তী পেশা হতে যাচ্ছে সাংবাদিকতা। একটি ক্লান্তিহীন ম্যাশিন, যাকে কোন অর্থ দিতে হয়না, যে কখনই ছুটি চায়না এবং যার কোন নীতি নৈতিকতা নেই। মানুষের বিপরীতে সে অবশ্যই গণমাধ্যম মালিকদের কাছে লোভনীয় হতে পারেন। তবে তার প্রচুর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এই ম্যাশিনের নিজস্ব কোন ভাবনাশক্তি নেই। কোন সমস্যার মুখে তড়িৎ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম নয়। সে শেখে মানুষের কাছ থেকেই। এটি সত্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ জানাবে। কিন্তু সত্যকারের সাংবাদিকতার মান স্পর্শ করা এই ম্যাশিনের পক্ষে কখনই সম্ভব নয়।

অন্যান্য সংবাদ