Skip to main content

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে নানামুখী পদক্ষেপ জোরদার করতে হবে : ড. দেলোয়ার হোসেন

লিয়ন মীর : রোহিঙ্গানের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সফল করতে মিয়ানমারের সাথে দ্বিপাক্ষীয় আলোচনার পাশাপাশি নানামুখি কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদার করতে হবে তাগাদ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. দেলোয়ার হোসেন। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মিয়ানমার যাতে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে, সেজন্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনা আরো বেশি জোরদার করতে হবে এবং সেইসাথে শক্তিশালী কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোকে যুক্ত রাখতে হবে। তারা যেন নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করতে মিয়ানমারের উপর কার্যকরি চাপ প্রয়োগ করে। তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা না হলে তাদেরকে সেখানে ফেরত পাঠিয়ে কোনো সুফল আসবে না। আবার নিরাপদ পরিবেশ না হলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যেতে রাজি হবে না, সেটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কেননা রোহিঙ্গারা সেখান থেকে যে অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে তা তাদের মনের মধ্যে এখনো আছে। আমাদের মনে রাখতে হবে- রোহিঙ্গারা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে এসেছে। এখন যদি তাদের ফিরে যেতে বলা হয়, তাহলে আগে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আসবে। তাদেরকে যদি নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় তাহলে তারা সেখানে যাবে, অন্যথায় যাবে না। এক্ষেত্রে মিয়ানমারে যদি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা হয়, তখন রোহিঙ্গাদেও বোঝানোটাও বাংলাদেশের বড় একটা কাজ, এটা তেমন সহজ বিষয় নয়। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শুরু থেকেই দুইভাগে বিভক্ত। একভাগ ফেরত পাঠানোর পক্ষে অন্যভাগ পক্ষে নয়। যারা পক্ষে আছে তারা আবার ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে না। এখন যারা পক্ষে আছে, তারা যেন রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমারের উপর আরো বেশি চাপ প্রয়োগ করে সেবিষয়ে বাংলাদেশকে জোরালো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। আবার যারা পক্ষে নেই, তারা যেনো পক্ষে কাজ করে সেজন্যও কূটনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশকে এখানে ত্রিমুখি পদক্ষেপ নিতে হবে। পক্ষের শক্তি, বিপক্ষের শক্তি এবং রোহিঙ্গাদের বোঝানোর ব্যাপারে একসাথে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক যে শক্তিটা বাংলাদেশের পক্ষে আছে, তারা যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে না। তারা মুখে অনেক  কথা বলছে কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ তেমন নিচ্ছে না। মিয়ানমারের ওপর তারা যে ধরনের চাপ প্রয়োগ করতে পারতো ঠিক তেমনটা করছে না। এখানে আন্তর্জাতিক দেশগুলোর নিষ্ক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ যেহেতু সমস্যায় পড়েছে সেহেতু সব বিষয়ে বাংলাদেশকেই আগ্রহী হতে হবে।

অন্যান্য সংবাদ