Skip to main content

হ্যাশট্যাগ মি-টু ভার্সেস হ্যাশট্যাগ সুইটু

আনিস আলমগীর : গত সপ্তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ক্লাস দিতে গিয়েছিলাম। টিচার্স লাউঞ্জে মিডিয়া সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষকের সঙ্গে কফি খাচ্ছিলাম। যথারীতি #মি-টু উঠে এলো আমাদের আলোচনায়। সে-ই উদ্বেগ প্রকাশ করলো যে এটি আবার ব্যক্তিগত আক্রমণের হাতিয়ার হয়ে যায় কিনা। বাংলাদেশের নারীদের নানা আন্দোলনের সে সোচ্চার। দেশে নারী নির্যাতন মামলার পরিসংখ্যানও দিলো, যেখানে নারীদের দায়ের করা সিংহভাগ মামলা নাকি ছিলো ভুয়া এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে। আমি বললাম, #গবঞড়ড় মূলত মামলার জন্য না, ব্যক্তিগত যন্ত্রণা লাঘবের জন্য। নারীরা যৌন হয়রানির কাহিনী তুলছেন সবার কছে নির্যাতকারীর চেহারা উন্মোচনের জন্য। আগে তো সেই সুযোগ ছিলো না। তার যুক্তিÑ প্রেমে প্রত্যাখ্যাত নারীরা বা সম্পর্ক যেকোনো কারণে ভেঙে গেছে এমন নারীরা এখন তো প্রাক্তনকে ফাঁসিয়ে দিতে পারে কল্প-কাহিনী বলে। আমি বললাম, সেটা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তবে সে ক্ষেত্রে তোমাদের দুজনের যে সম্পর্ক ছিলো, তা দু’চারজন লোক তো জানবে। কেউ না কেউ তোমাদের একসঙ্গে কফিশপে দেখছে বা অন্য কোথায় দেখেছে। বলার মতো কাহিনী তো তোমার হাতেও আছে। মি-টুর ভালো-মন্দসহ সম্মতিমূলক নানা জাতের সম্পর্ক নিয়ে আমরা দীর্ঘ আলোচনা করলাম। অবেশেষে আমরা সিদ্ধান্তে আসলাম : দুটি প্রাপ্ত বয়স্কের সম্পর্ক নিয়ে অন্যের বলার, রাষ্ট্রের নাক গলানো কমাতে হবে। কারণ তারা যা কিছু করছে বন্ধ দরজায় করছে। সামাজিকতা, সভ্যতা সেখানে আছে। অসামাজিক, অসভ্য বলা যেতো তারা যদি দরজা বন্ধ না করতো। আমরা আরও একমত হলাম যে, যাদের সুইটু আছে তাদের সুইটুদের গোপন রাখা ঠিক হবে না। নইলে ঞড়ফধু’ং ‘ঝবিবঃঁ’ সধু নব ঃড়সড়ৎৎড়’িং ‘গবঞড়ড়’ কেস হতে পারে। আর জোরালোভাবে একমত হলাম যে, মি-টু কাহিনী আর সুইটু কাহিনী এক হতে পারে না। এটাকে এক করে #গবথঞড়ড় আন্দোলনকে বাঁকা করেও দেখা যাবে না। ভীতি ছড়ানো যাবে না। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

অন্যান্য সংবাদ