প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্যফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন, জানা কেন প্রয়োজন?

এম জসিম আলী চৌধুরী : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী ইশতেহার দেবে এবং সেখানে নানা ধরনের সাংবিধানিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রস্তাবনা থাকবেÑ সেটিই স্বাভাবিক। তবে আমার মতে, রাজনৈতিক দিকটিই মুখ্য বিবেচ্য হওয়া উচিত। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের অর্থনৈতিক নীতি-কাঠামো বিশ্ব পরিমন্ডলে প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশের খুব দ্রুত বিকাশমান ও দৃঢ ভিত্তি পেয়ে যাওয়া অর্থনীতি সমর্থক-নিন্দুক সর্ব মহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নটি এতো স্পষ্ট যে সরকারের ঘোর সমালোচকেরাও উন্নয়নের প্রসঙ্গ এলে ব্যাপারটাকে হাল্কা করার জন্য বলেন উন্নয়নের চেয়ে সুশাসন বড় বিষয়।

যেহেতু সমালোচক বুদ্ধিজীবী মহলে সুশাসনই প্রধান বিবেচ্য সেহেতু ঐক্যফ্রন্টের আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন সেটাও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ইতিমধ্যেই পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। এটি চকচকে কিছু অর্থনৈতিক কর্মসূচির মোড়কে ঢাকা। অনেক ভালো কথা বলা আছে। কিন্তু ওইসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে সামর্থ্য ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার পার্থক্যটি ততোক্ষণ পরিষ্কার হবে না যতোক্ষণ না মানুষ জানতে পারছে যে আসলে সরকারটি কার নেতৃত্বে গঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সে প্রশ্নটি ঐক্যফ্রন্টের নিজেদের গোপন সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। দুটি কারণে প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ :

এক. প্রথম প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের। মানি আর না মানি, জাতীয় নির্বাচনে মানুষ সংসদ সদস্য নির্বাচন করেন না! সরকার নির্বাচন করে। যেকোনো দলকে ভোট দিতে যাওয়া মানুষের এটুকু জানার অধিকার আছে তারা আসলে কাকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করাচ্ছেন। ব্যাপারটা যদি শেখ হাসিনা-ড. কামাল হয় তাহলে একরকম জনমত হবে। এটা যদি শেখ হাসিনা-বেগম জিয়া হয় তাহলে আরেক রকম জনমত হবে। এটা যদি শেখ হাসিনা- হাওয়া ভবন/২১ আগস্ট হয় তাহলে জনমত আরেক রকম হবে।

‘প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সেটা আমরা পরে বলবো’ বলাটা বাংলাদেশের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাওয়া সাধারণ মানুষ বিশেষত তরুণ প্রজম্মের সাথে সরাসরি প্রতারণার শামিল। ‘ড. কামাল’-এর মুখ বেচে জনগণকে ‘ড. তারেক’-এর সরকার দেবেন, এটা কেমন কথা? আমি মনে করি, এই একটি বিষয় নিয়ে লুকোচুরি করলেই জনগণের ধরে নেয়া উচিত হবে যে ঐক্যফ্রন্টের বাকি সব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি একেকটা নির্জলা ধাপ্পাবাজি। দুই. দ্বিতীয় প্রশ্নটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী শিক্ষিত-সচেতন তরুণ প্রজন্মের। আমাদের আসলেই জানার অধিকার আছে ঠিক কোন রাজনৈতিক নীতি-আদর্শের মেলবন্ধনে ড. কামাল হোসেন স্যারসহ এক ঝাঁক মুজিব কোটধারী নেতার হঠাৎ বিএনপিতে জোট পাকানো সম্ভব হলো। কারণ নতুন প্রজন্মকে যদি কেউ ‘নীতির রাজনীতি’র সবক দিতে চায়, তাহলে নতুন প্রজম্মের এটা জানার সুস্পষ্ট অধিকার আছে যে, কোনো ধর্মপুত্র আমাদের মতো ভূমিপুত্রদের সেই ‘নীতিবান সরকার’ দিতে যাচ্ছেন।

সুতরাং বিদেশি কূটনীতিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশের ‘সুশীল সমাজ’-এরও ড. কামাল স্যারকে এ প্রশ্নটি বারবার করার সময় এসেছে। ‘স্যার, সরকারটি আসলে কার হচ্ছে?’

লেখক : সহকারী অধ্যাপক , আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম  বিশ্ববিদ্যালয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ