প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বগুড়ায় হত্যা ঘটনার রহস্য উদঘাটন
নারী সংক্রান্ত ঘটনায় এই নৃশংস হত্যাকান্ডে ছাত্রলীগ নেতা সহগ্রেফতার-৫

আরএইচ রফিক, বগুড়া : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নাঈম ইসলাম (২১) নামের বগুড়া ইনফর্মেশন এন্ড টেকনোলজি (বিট) নামের বেসরকারী পলেটেকনিকের ছাত্রকে গলা কেটে ও পুড়িয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সফলতার দ্বার প্রান্তে পৌছে গেছে। শুধু মাত্র নারী ঘটিত ব্যপারে এই নৃশংস হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

ইত্বমধ্যই নিহতের রক্তাক্ত সার্ট এবং তার মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের মায়ের করা হত্যা মামলার ৬আসামীদের মধ্য ৫জনকে গ্রেপ্তারের সক্ষম হয়েছে পুলিশ ।তবে এজাহারভুক্ত অপর আসামি পলাতক রয়েছে।
নিহত নাইম বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মরিয়া গ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী ইন্তেজার রহমানের একমাত্র পুত্র এবং বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট বিট এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ।

এ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হল, সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরের বাড়ইপাড়া গ্রামের কান্টু মোল্লার ছেলে স্থানীয় পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম অনন্ত শ্রাবণ (২০), ধুনট উপজেলার গোলাইর তাইড় গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে মনির হোসেন (২০) একই উপজেলার চিকাশি দক্ষিণপাড়া গ্রামের লিয়াকত আলীর ছেলে অন্তর মিয়া (২০), সারিয়াকান্দি ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের শাহাদৎ হোসেনের ছেলে বাবু মিয়া (১৯) ও বাড়ইপাড়া গ্রামের বেলাল উদ্দিনের ছেলে আতিকুর রহমান (১৮)। আটককৃতরা প্রায় সকলেই বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট বিট এর পুলিশ এঘটনায় সাব্বির নামের নিহতের আরেক বন্ধুকে খুজছে পুলিশ ।

উল্লেখ্য , গত ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে কয়েক বন্ধু মোবাইলে ফোন করে নাঈমকে ডেকে নেয়। বগুড়া শহরের বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট বিট এর ছাত্র নাঈম ইসলামকে এরপর থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলনা।
পর দিন ১৬ নভেম্বর (শুক্রবার) ভোরে সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরের কালী মন্দিরের দক্ষিণ পার্শ থেকে স্থানীয় পুলিশ খবর পেয়ে তার জবাইকরা ও পোড়ানো মৃত দেহ উদ্ধার করে। পরে নিহত নাঈমের মা ছেলের পোড়ানো লাশ তার ছেলে নাঈমের বলে সনাক্ত করেন।

পুলিশকে দেয়া নাঈমের মায়ের তথ্যমতে শুক্রবার ভোরে উপজেলা সদর থেকে পুলিশ নিহত নাঈমের তিন বন্ধকে গ্রেপ্তার করে। নিহত নাইমের মা পুলিশকে জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন পূর্বে তারা নাঈমকে একটি এ্যাপাচি মোটর সাইকেল কিনে দিয়েছিলেন। ওই মোটর সাইকেল নিয়েই বৃহস্পতিবার বাড়ী থেকে বের হয়েছিল নাঈম। প্রথমে মোটর সাইকেলের জন্য নাঈম খুন হতে পারে এমনটি মনে করা হলেও আটক নিহতের ৩বন্ধু পুলিশ যে গুরুত্বপূর্ন তথ্য দেয় ,তাতে পুলিশ নিশ্চিৎ হয় যে, প্রেম ও নারী ঘটিত ব্যপারে নাঈমকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার নিহতের রক্তাক্ত সার্ট ও মোটর সাইকেলটি খুজে পায় পুলিশ । অভিযানে আটক করা হয় আরো ২জনকে ।

সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ নিশ্চিত করে নারী ঘটিত ব্যপারে পরিকল্পিত ভাবে ডেকে নিয়ে প্রথমে নাঈমকে জবাই করে হত্যার পর তার পরিচয় গোপন রাখতে লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বিকৃত করা হয় । সারিয়াকান্দি থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি সার্বিক)মুহা আল আমিন বলেন, হত্যাকান্ডে জড়িত সারিয়াকান্দি পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও তিন বন্ধু সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করে তাদের গতকাল কারা হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ ।

তিনি আরো জানান , নিহত নাইমকে হত্যার অভিযোগে যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা সবাই মাদকাসক্ত। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন কথা বলছে তারা। তবে তাদের কথায় জানা যায়, নারীঘটিত কারণে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। বিরোধের জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয়। রবিবার গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বগুড়া আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে । তিনি নিশ্চিত করেন আসামিদের আরও নিবির জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ