প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘নবীর শিক্ষা করোনা ভিক্ষা’

কাজী নাসরুল্লাহ আলাউদ্দিন : বর্তমানে আমাদের দেশে যে সমস্যাগুলো বিদ্যমান, তার মাঝে অন্যতম হলো ভিক্ষুক সমস্যা। সমাজে অনেক ধরনের ভিক্ষুক আছে। কেউ ভিক্ষা করে নিতান্তই পেটের দায়ে, আবার কেউ ভিক্ষা করে সম্পদ বাড়াবার উদ্দেশ্যে। ভিক্ষাবৃত্তি যদিও ইসলামে বৈধ, তবে তা হলো অত্যন্ত ঘৃণিত কাজ।

ভিক্ষাদাতা ও ভিক্ষুকের মর্যাদা সম্পর্কে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মিম্বারের উপরে বসা অবস্থায় সদকা খাওয়া ও সওয়াল বা ভিক্ষা করা হতে বিরত থাকার ব্যপারে আলোচনাকালে বলেছেন, উপরের হাত নীচের হাত অপেক্ষা উত্তম। অর্থাৎ উপরের হাত হলো দাতার, আর নীচের হাত হলো ভিক্ষুকের। (মেশকাত, বুখারী)

ইসলাম তিন ব্যক্তি ব্যতিত অন্যদের জন্য ভিক্ষাবৃত্তি হারাম ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে হযরত কাবিছা বিন মাখারেক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি দেনার জামিন হলাম, অতএব তা পরিশোধ করতে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর খেদমতে হাজির হয়ে কিছু চাইলাম। তিনি বললেন, আমাদের কাছে যাকাতের মাল আসা পর্যন্ত তুমি অপেক্ষা কর। তখন তা হতে কিছু দেয়ার আদেশ করব। অতপর তিনি বললেন, হে কাবিছা ! তিন ব্যক্তির ব্যতীত অন্যকোন লোকের জন্য সওয়াল তথা ভিক্ষা করা হালাল নয়।

তারা হলোঃ ১। ঐ ব্যক্তি যে অপরের ঋণের জামিন হয়েছে, তারপক্ষে ততক্ষণ পর্যন্ত সওয়াল হালাল, যতক্ষণ না সে দেনা পরিশোধ করে। অতপর সে নিজেকে উহা হতে বিরত রাখবে। ২। আরেকজন ঐ ব্যক্তি যার উপর এমন বিপদ পৌছেছে যা তার প্রয়োজন মিটাবে অথবা বেঁচে থাকবার জন্য কিছু অর্জন করবে। ৩। আরেকজন ঐ ব্যক্তি যে অভাবে পড়েছে। এমনকি তার স্বগোত্রীয় তিনজন প্রতিবেশি এ সাক্ষ্য দিবে যে, সত্যিই সে অভাবে পড়েছে। তার জন্যও ততক্ষণ পর্যন্ত ভিক্ষা করা হালাল, যতক্ষণ না তার জীবিকা নির্বাহের মত অথবা বেঁচে থাকবার মত কিছু মাল অর্জন হবে। এ তিন অবস্থার সওয়াল ছাড়া সকল সওয়ালই হারাম। হে কাবিছা ! ভিক্ষুক সওয়ালের মাধ্যেমে যা ভক্ষণ করে তা হারাম। (মেশকাত-মুসলিম)

এ ব্যাপারে অনত্র বর্ণিত আছে যে, হযরত হুবাশী বিন জুনাদাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, মালদার ব্যক্তির জন্য সওয়াল করা হালাল নয়। আর সবল সক্ষম ব্যক্তির জন্য হালাল নয়। তবে হ্যা ! এমন অসহনীয় দরিদ্র যা তাকে মাটির সাথে মিশায়ে দিয়াছে এবং এমন বিপদজনক ঋণ যা তাকে লাঞ্চিত করে ফেলেছে, তার জন্য সওয়াল বা ভিক্ষা করা হালাল। আর যে ব্যক্তি নিজের মাল বৃদ্ধির জন্য মানুষের কাছে হাত পাতে কিয়ামতের দিন তার মুখমন্ডল ক্ষত-বিক্ষত হবে এবং ভিক্ষালব্ধ মালগুলো তপ্ত প্রস্তর খন্ড হবে যা সে ভক্ষণ করতে থাকবে। সুতরাং চাই সে ভিক্ষা করুক বা এর চেয়ে বেশী করুক। (মেশকাত-তিরমিযী)

উল্লেখিত হাদীসদ্বয়ে ভিক্ষা করা কার জন্য জায়েজ ও কার জন্য নাজায়েজ তা আলোচনা করা হয়েছে এবং সেই সাথে ভিক্ষুকের নিন্দাও করা হয়েছে। আবু দাউদ শরীফে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হলো, কি পরিমান মাল থাকলে ভিক্ষা করা জায়েজ ? উত্তরে তিনি বললেন, সকাল-বিকাল দুই বেলার খাবার পরিমান।

যারা সম্পদ বৃদ্ধির জন্য ভিক্ষা করে তাদের জন্য রয়েছে কিয়ামতের দিন লাঞ্চনাকর শাস্তি। সর্বদা ভিক্ষাবৃত্তিতে লিপ্ত ব্যক্তির পরকালে কি অবস্থা হবে তা সম্পর্কে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, মানুষ সর্বদা লোকদের কাছে সওয়াল বা ভিক্ষা করতে থাকে অবশেষে সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার মুখে সামান্য পরিমাণেও গোশতের প্রলেপ থাকবে না। (মেশকাত-মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

ইসলাম কখনো সবল সামর্থবান ব্যক্তির জন্য ভিক্ষা করা পছন্দ করে না। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কারো কাছে হাত পাতার চেয়ে প্রয়োজনে যেকোন ছোট কর্ম করতে যেন লজ্জাবোধ না করে এ ব্যপারে হাদীসে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। বিখ্যাত সাহাবী হযরত যোবাইর ইবনুল আওয়াম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ রশি নিয়ে লাকড়ীর বোঝা স্বীয় পৃষ্টদেশে বহন করে আনবে এবং তা বিক্রি করবে, ফলে আল্লাহ তায়ালা এর দ্বারা তার ইজ্জত রক্ষা করবেন।

তার জন্য এ কাজ লোকের কাছে হাতপাতার চেয়ে উত্তম কারণ, হয়তো লোকেরা তাকে কিছু দিবে অথবা ফিরিয়ে দিবে। (মেশকাত-বুখারী)। শারীরিক সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে ভিক্ষা না দিয়ে তাকে যথোপযুক্ত কর্মপদ্ধতি শিক্ষাদানের মাধ্যমে কর্মট বানিয়ে ভিক্ষুকমুক্ত সমাজ গঠন করতে ইসলাম আমাদেরকে শিক্ষা দেয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ