প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সীরাত
শিশুদের প্রচণ্ড ভালোবাসতেন রাসূল সা.

আমিন মুনশি : রাসুল (সা.) শিশুদের সীমাহীন ভালোবাসতেন। তাদের আগে সালাম দিতেন। শিশুদের কান্না তিনি মোটেই পছন্দ করতেন না। একবার তিনি শিশু হুসাইনের কান্নার আওয়াজ পেলেন। এতে তিনি ব্যথিত হলেন এবং হজরত ফাতেমা (রা.)কে বললেন, ‘তুমি কি জানো না, শিশুদের কান্নার আওয়াজ আমাকে কষ্ট দেয়?’

একদিন প্রিয়নবী (সা.) নামাজ পড়ছিলেন। এদিকে হাসান ও হুসাইন নানাকে সেজদারত অবস্থায় পেয়ে একেবারেই পিঠে চড়ে বসে পড়লেন। তিনি সেজদা দীর্ঘায়িত করলে এবং স্বেচ্ছায় নামা পর্যন্ত তাদের নামিয়ে দিলেন না। নামাজ শেষে সাহাবায় কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তো সেজদায় দীর্ঘায়িত করেছেন।’ রাসুল (সা.) জবাবে বললেন, ‘আমার সন্তানদ্বয় (নাতী) আমাকে সওয়ারি বানিয়ে আনন্দ করছিলো, তাই তাদের নামিয়ে দেয়াটা আমার পছন্দ হয়নি।’

মহানবী (সা.)- এর শিশুপ্রীতি, তাদের প্রতি দয়া ও মমতার দিকটা ফুটে ওঠে এমন আরও অসংখ্য হাদিসে। মানবতার মুক্তি দূত বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক শিশুদের অধিকারের বিষয়টি পর্যালোচনা করলে এ কথা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, শিশুর অধিকার, মর্যাদা, সুষ্ঠু বিকাশ ও সুশিক্ষা সম্পর্কে তিনিই সর্বপ্রথম এগিয়ে আসেন। নিজের জীবদ্দশায় তিনি শিশু অধিকার ও সামাজিক অবস্থান সুনিশ্চিত করেন। সুতরাং তারই প্রদর্শিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থায় একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক সুস্থ বিকাশ সম্ভব।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি দু’সন্তানের একজনকে চুমু দিলেন, অন্যজনকে দিলেন না। রাসুল (সা.) তাৎক্ষণিক তাকে বললেন, ‘তুমি উভয়ের মাঝে সমতা বিধান করলে না!’ (বোখারী শরীফ)

ইসলাম এভাবেই আদর, স্নেহ এমনকি চুমুর ব্যাপারেও সমতার নির্দেশ দেয়। হজরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, একবার এক ব্যক্তি নবী কারিম (সা.)- এর কাছে উপস্থিত হলেন। লোকটির সঙ্গে একটি শিশুও ছিলো। নবীজী লোকটিকে বললেন, ‘তুমি কি এই শিশুর প্রতি দয়া করো?’ তিনি হ্যাঁ সূচক উত্তর দিলেন।। প্রিয় নবীজি বললেন, ‘তাহলে এই শিশুর প্রতি তুমি যতটুকু দয়া করবে তারচে বেশি আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করবেন। তিনি দয়ালুর মধ্যে সবচে বড় দয়ালু।’ (আল আদাবুল মুফরাদ: ৩৭৭)

অপরদিকে কন্যা সন্তানদের বিশেষ মর্যাদায় আধিষ্ঠিত করত মহানবী (সা.) বলেন, ‘পর্দানশীন কন্যারাই উত্তম সন্তান। তোমাদের সন্তানদের মধ্যে মেয়েরাই উত্তম। তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান, যার প্রথম কন্যা সন্তান। যে ব্যক্তি একটি কন্যা সন্তানকে সঠিকভাবে ভরণ-পোষণ করেছে, তার জন্য বেহেশত অবধারিত।’