প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গোবিন্দগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম-দুর্নীতি, জরাজীর্ন বিদ্যালয় পাশেই আলিশান বাড়ি

রফিকুল ইসলাম গাইবান্ধা : গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শালমারা ইউনিয়নের কলাকাটা হামছাপুর দ্বি-মুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ কমিটির মাধ্যমে নানা অনিময়-দুর্নীতি করে লাখ-লাখ টাকা আত্বসাৎ করে অর্ধ-কোটি টাকার বিলাশ বহুল (আলিশান) বাড়ী করায় বিদ্যালয় জরাজীর্ন, বিদ্যালয় সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনার লক্ষে তদন্ত পূর্বক প্রতিকার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে দায়ের হয়েছে অভিযোগ।

অভিযোগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা শালমারা ইউনিয়নের কালিতলা অবস্থিত কালাকাটা হামছাপুর দ্বি-মুখী বালিকা বিদ্যালয় ১৯৯৪ সালে এলাকাবাসীর সহায়তায় অবকাঠামো তৈরী করে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তীতিতে ১৯৯৭ সালে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়(এমপিও)ভূক্ত এবং ২০০০সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে এমপিও ভূক্ত হয়। ওই সময় একই ইউনিয়নের কলাকাটা হামছাপুর গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলাম এলাকাবাসীর প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ দেখে১৯৯৫ সালে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই বিদ্যালয়টি উপজেলা শহর থেকে ২৫কিলোমিটার দূরে বগুড়া সোনাতলা উপজেলা সংলগ্ন হওয়ায় সরকারী উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কিছুটা আড়ালে থাকে। তাই প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অবকাঠামো উন্নয়নের নামে সরকারী-বে-সরকারী প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ নিলেও বিদ্যালয়ে কাজ না করায় লাগেনি কোন উন্নয়নের ছোঁয়া। উপবৃত্তি চালু হওয়ার পর থেকেই অনুস্থিত শিক্ষার্থীদের নামে বিভিন্ন সময় উত্তলোন করেন মোটা অংকের উপবৃত্তির টাকা। আর এই বিদ্যালয়ের এমপিও ভূক্ত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় ভাই-ভাতিজাকে সভাপতি করে অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটরসহ ৭টি পদে শিক্ষক নিয়োগ করে হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের টাকা। এর পরেও এলাকার সন্তানদের পড়াশুনার সুযোগ যাতে থাকে তাই বিদ্যালয়ের মায়া করে মুখ বুঝে সয়ে গেছেন এলাকাবাসী।

এর পরে ২০১৩ সালে একটি কমিটি গঠন করেন যাহা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদন হয়। যাহার স্মারক নং-২/এস/১১৫৩/২৮৫৭(৪)উক্ত কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ন হওয়ার পর অবৈধ ভূয়া কমিটি দ্বারা বিদ্যালয় পরিচালনা করে বর্তমানে ফরম পূরনে ২৫’শ ৩হাজার টাকা করে নেয়া ও ফেল কৃত শিক্ষার্থীদের ৮থেকে ১০হাজার টাকা করে নেয়ার ফুঁসে উঠে এলাকাবাসী। অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়,উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়,দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এবিষয়ে সরেজমিনে গেলে দেয়া যায়, বিদ্যালয় স্থাপন করা সেই কালের জরাজীর্ন ভবন,উপরের টিনের চালে অসংখ্য ফুটা।

মেঝে ও দেয়ালের খাল বাকল উঠে গেছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ইতিপূর্বের নিয়োগ কৃত শিক্ষকদের নিয়োগ বানিজ্যের সামান্য টাকার ইট,বালু লাগেনি বিদ্যালয়ের গায়ে। এলাকাবাসী জানান, প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বিদ্যালয়কে পুজিঁ করে অর্ধ-কোটি টাকার বিলাশ বহুল বাড়ী করেছেন। এবং তার নামে গোবিন্দগঞ্জ পোষ্ট অফিসে ২০লাখ টাকার ডিপোজিট ও নামে বে-নামে এফ-ডি আর করেছেন,এলাকায় কিনেছেন ১৫ বিঘা জমি কিনেছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, বিদ্যালয়টির টিনের চাল ফুটা থাকায় ক্লাসে বৃষ্টির পানি ধর-ধর করে পড়ে বই ও শারীরের পোশাক ভিজে যায়, মেঝেতে পানি জমে যায়, পড়াশুনার পরিবেশ নষ্ট হয় ।এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, আমি বাড়ী,পোষ্ট অফিসে ডিপোজিট ও কিছু জমি সব চাকুরীর অর্থ দিয়েই করেছি,দূর্নীতি করিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ হাতে পেয়েছি। এ অভিযোগটি শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে। এবং তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মর্কতা এনায়েত হোসেন জানান, বিদ্যালয়টির সুষ্ঠ ভাবে পরিচালনা করে শিক্ষার পরিবেশ বাজয়ে রাখার স্বার্থে অভিযোগটি তদন্ত করে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পাঠানো হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ