প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্ব বাণিজ্য যুদ্ধে অবকাঠামো উন্নয়নে যেভাবে লাভবান হতে পারে বাংলাদেশ

রাশিদ রিয়াজ : চলমান বিশ্ব বাণিজ্য যুদ্ধেও অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত নজর দিলে লাভবান হতে পারে বাংলাদেশ। এজন্য অবকাঠামো উন্নয়ন নীতিনির্ধারকদের বিশেষ মনোযোগের তাগিদ দিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, ব্যবসা সহজতর করতে উৎপাদন খরচ কমানোর সুযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় নীতি নির্ধারকদের প্রস্তুতির দক্ষতার ওপরও মনোযোগ দেয়ার আহবান জানান তারা। ঢাকায় ‘ ট্রেড ওয়ার এন্ড ইটস ইম্পিকেশনস ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে রোববার বাণিজ্য বিশ্লেষকরা এ অভিমত দেন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং বাংলাদেশ ফরেইন ট্রেড ইনস্টিটিউট এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শুভাশীষ বোস বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধ দীর্ঘ হতে পারে এবং অনেক চীনা কোম্পানি এশিয়ার সম্ভাবনাময় দেশগুলোতে বিনিয়োগ করার চিন্তা করছে। দ্রুত প্রস্তুতি নিতে পারলে এ সুযোগ আমরা নিতে পারি। তা না হলে আমরা ট্রেন মিস করব। ব্যাপক শ্রম নির্ভর শিল্প হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ পেতে যে দক্ষ লোকবল প্রয়োজন তার ঘাটতি আছে তা স্বীকার করে বোস বলেন, প্রযুক্তি নির্ভর দক্ষতা অবিলম্বে বৃদ্ধি করতে প্রস্তুতি জরুরি। বিশেষ করে রোবটিক্স, সফটওয়্যার ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে বিশেষ মনোযোগ দেয়ার তাগিদ দেন বোস।

সেমিনারে বক্তারা ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, আমদানি-রফতানির চেয়ে আমদানি বেশি হলে মুদ্রাস্ফীতি ও উৎপাদন খরচ উভয়ই বেড়ে যায়। তবে উৎপাদনশীলতায় বৈচিত্রকরণ আনতে পারলে শিল্প বিপ্লব বাংলাদেশের জন্যে অপেক্ষা করছে। কারণ বাণিজ্য যুদ্ধের মাঝে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প বৃদ্ধির সমুহ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে যা গ্রহণ করতে সরকার ও বেসরকারিখাতকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিএফটিআই’এর প্রধান নির্বাহী অফিসার আলী আহমেদ বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধ অবশ্যই বাংলাদেশের আমদানি, রফতানি ও বিনিয়োগের ওপর প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশে পোশাক খাতে যে পরিমান বিনিয়োগ আসছে তারচেয়ে বেশি বিনিয়োগ চলে যাচ্ছে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এমনকি মিয়ানমারে। অথচ বাণিজ্য যুদ্ধে বাংলাদেশের পণ্যের অপেক্ষাকৃত কম মূল্য অধিক বিনিয়োগ ধরতে ব্যর্থ হচ্ছে। তুলা ও সয়াবিন আমদানির পর তা পণ্য উৎপাদনের পর পুনঃরফতানির সুযোগ থাকলেও এক্ষেত্রে সস্তা চীনা পণ্য আমদানি হুমকি হিসেবে কাজ করছে। একই সঙ্গে আলী আহমেদ দেশীয় পণ্য ব্রান্ডিংএর দিকে মনোযোগ বৃদ্ধি করে অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন যাতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ দেশে সহজতর হয়ে ওঠে।

ঢাকা চেম্বারের প্রেসিডেন্ট আবুল কাশেম খান বলেন, চীন আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাসের সুযোগ দিতে যেসব দেশের তালিকা দিয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, লাওস ও শ্রীলঙ্কা অন্যতম। কিন্তু ব্যবসা প্রক্রিয়া সহজতর করে পরিকল্পিত বিপণন ও ব্রান্ডিং প্রক্রিয়ার অভাবে বিনিয়োগ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ বাণিজ্য যুদ্ধ চলার মধ্যেই পণ্য সরবরাহ ও যোগান দ্রুত করে বাজার দখলে নেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সদস্য মোস্তফা আবিদ খান বলেন, অবকাঠামোর অভাবে দেশে ইলেক্ট্রোনিক পণ্য উৎপাদন ব্যর্থ হচ্ছে। বিশ^ব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ এম মাসরুর রিয়াজ বাণিজ্য সংস্কার, দক্ষ জনশক্তি, প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন খরচ, উদার বাণিজ্যের প্রতি মনোযোগী হবার পরামর্শ দেন। এনার্জি পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের এমডি ও সিইও হুমায়ুন রাশিদ বলেন, সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশ এখনো বাণিজ্য যুদ্ধ থেকে লাভবান হবার জন্যে প্রস্তুত নয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ