প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আন্তর্জাতিকভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেও জয়ী আওয়ামী লীগ!

সমীরণ রায়: নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষণা অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন। ইতোমধ্যে নির্বাচনী ট্রেনে উঠতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় মনোনয়নপত্র বিক্রি করেছেন। এমপি-মন্ত্রী হওয়ার আশায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন বড় রাজনৈতিক জোট দুটির নেতাকর্মীরা অন্তত ৮ হাজার ৪শ’ ৮৯টি মনোনয়নপত্র কিনেছেন। তবে এই দুই জোটের সঙ্গে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই নৌকা-ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনী বৈতরণী পাড় হতে চায়। এরমধ্যে নৌকা-ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে ১০ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে ১১টি দল ইসিকে চিঠি দিয়েছে। এতে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন কি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে? যদিও আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। কিন্তু বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভয় বাণী বিশ্বাস করতে পারছে না। তবে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো আর ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে থাকা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ এবার ১০ নম্বরী করলেও নির্বাচন বয়কট করা হবে না। তাহলে ধরে নিতে পারি একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে।

এদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন আশার আলো দেখা দিয়েছে, ঠিক তেমনি শঙ্কাও রয়েছে। দেশে কি আবার একটি অরাজক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে? নাকি ১/১১-এর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে? তাহলে কি সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা যাচ্ছে? এমন প্রশ্ন হাটে, মাঠে ঘাটে ও বাসে শোনা যায়। সাধারণ মানুষ এও বলছেন, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে দাড়াতে পারবে না! কেউ বলছেন, নির্বাচনই হবে না! ভোটাররা বুথে ঢোকার আগেই ভোট হয়ে যাবে! আবারও এমনও শোনা গেছে, এবার আর দেশের জনগণ আওয়ামী লীগকে সেই সুযোগ দেবে না।

তবে মোদ্দা কথা হলো-নির্বাচন হবে! তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই দিতে পারবেন। তিনি যদি মনে করেন, নিজের স্বার্থে নয়, দেশ ও গণতনেস্ত্রর স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহাড় দেবেন, তাহলেই শুধুমাত্র গণতন্ত্রের ভিত শক্ত হবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বর্ষ উদ্যাপন ক্ষমতায় থেকেই করতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি এও বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় না থাকলে এই দুটি উদ্যাপন ভালোভাবে পালন হবে না। অর্থাৎ এই কথায় বোঝা যায়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট-বিরোধী জোটকে সেই সুযোগ দেবে না। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়, দেশি ও আন্তর্জাতিকভাবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেও জয়ী আওয়ামী লীগ!

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ