প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাক্ষাতকারে রাজেকুজ্জামান রতন
দেশে এখন নির্বাচনি হাওয়া মৃদুমন্দ না ঝড়ো তা নিয়ে সংশয়

রফিক আহমেদ : বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান বলেছেন, দেশে এখন নির্বাচনি হাওয়া। এ হাওয়া মৃদুমন্দ না ঝড়ো তা নিয়ে সংশয়। অনেক জটিল পথ ঘুরে, সংলাপের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে, দাবি এবং দেনদরবার করে অবশেষে নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত হয়েছে। রোববার একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

বাসদ কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ২০১৪ সালের মতো লজ্জাজনক নির্বাচন নয় অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান সবাই কিন্তু তা অনুষ্ঠিত হবে কিভাবে? এ নিয়ে গ্রহণযোগ্য মত বা সমাধানে আসা করা যাচ্ছে না কিছুতেই। অতীত অভিজ্ঞতা বলে এ যাবত অনুষ্ঠিত ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৬টি হয়েছে দলীয় সরকারের অধীনে এবং এর সবকটিতেই ক্ষমতাসীনরা বিজয়ী হয়েছে। স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাই দাবি উঠেছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই। পরবর্তীতে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্ববাবধায়ক সরকারের বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় থাকার কুটকৌশল করতে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকেও বিতর্কিত করে ফেলা হয়েছিল আর এখন তো সেই বিধানকেই বাতিল করে দেয়া হয়েছে বলে উচ্চ কন্ঠে বলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কিছু প্রশ্ন সকলকেই ভাবিয়ে তুলছে তা হলো, আমাদের মতো বিভাজিত সমাজে, দ্বি-দলীয় রাজনীতির চক্রে আবদ্ধ দেশে তাহলে কি হবে সুষ্ঠু নির্বাচনের পদ্ধতি? নির্বাচন কমিশন কি পারবে তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে ও তার মর্যাদা রক্ষা করতে? কালো টাকা, পেশি শক্তি, প্রশাসনিক কারসাজি রুখতে সক্ষমতা ও সদিচ্ছা কি নির্বাচন কমিশনের আছে? সংসদের মেয়াদ ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত, নির্বাচন হবে ৩০ ডিসেম্বর। তাহলে এমপি হিসেবে বহাল থেকেই কেউ কেউ নির্বাচন করবেন। কেমন হবে তখন কমিশনের ভূমিকা? শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না একথা তো বলছেন, কতভাগ সুষ্ঠু করতে পারবেন বলে নির্বাচন কমিশন সাহস রাখেন? এসব প্রশ্নের সাথে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সংশয়ের পালে বাতাস দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মনোনয়নপত্র নিতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের সংঘর্ষ এবং প্রাণহানি আর বিরোধীপক্ষের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ আমরা দেখলাম। দু’ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের ভূমিকা কি নিরপেক্ষ ছিল? এসব প্রশ্নের যথার্থ উত্তর মেলে না, সংশয় কাটে না। দেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৭ বছর পার হয়ে গেল। ক্ষমতা পরিবর্তনের একটা শান্তিপূর্ণ পথ কেন বের করা যাচ্ছে না? ক্ষমতার কি এমন মধু যে তা ছাড়তে চায় না কেউ? জিতে গেলে সব পাবো আর হেরে গেলে সব হারাবো এই মানসিকতা নিয়ে লড়ছে নির্বাচনী যুদ্ধ। ফলে মারো অথবা মরো, যুদ্ধের এই নীতি আজ রাজনীতিতে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে কে জিতবে তা নিশ্চিত করে বলতে না পারলে জনগণ এবং গণতন্ত্র যে হারবে সেটা নিশ্চিত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ