প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের সীমিত সহযোগিতায় বাংলাদেশ-ভুটান বাণিজ্যে বিঘ্ন

রাশিদ রিয়াজ : চ্যাংড়াবান্ধা স্থল সীমান্ত দিয়ে ভুটানের পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশে ভারতের ধীর অনুমতিতে দেশটির বাণিজ্য হোঁচট খাচ্ছে। ভুটানের মালবাহী ট্রাকগুলোকে ছাড় দেয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ অল্প সময় বেঁধে দেয়ায় এধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে যথাসময়ে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো বাংলাদেশে বুড়িমারি সীমান্তে প্রবেশ করতে পারছে না। এরফলে অনেক পণ্য বিনষ্ট হচ্ছে যার কারণে আর্থিক ক্ষতি গুণতে হচ্ছে ভুটনের ব্যবসায়ীদের। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভুটানের এক্সপোর্টারস এ্যাসোসিয়েশন ও সিএন্ডএফ এজেন্টরা সম্প্রতি বৈঠক করেছেন। ট্রানজিট ও প্রোটকল নিয়ে বাংলাদেশ-ভুটান যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের একটি বৈঠক গত অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চ্যাংড়াবান্ধা হয়ে বাংলাদেশের বুড়িমারি সীমান্তে দুপুর ২টার পরই শুধুমাত্র ভুটানের পণ্যবাহি ট্রাকগুলো প্রবেশের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। ফলে ৩ ঘন্টার মধ্যে কাস্টমস’এর কাগজপত্র ও আনুষঙ্গিক কাজকর্ম সেরে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি করার পর একই দিন ভুটানে দেশটির রফতানিকারকদের ফিরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই ভুটান-বাংলাদেশ আমদানি-রফতানি বিঘ্ন হচ্ছে।

গত ৮ ও ৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমস’এর ১২তম সভায় বিষয়টি আলোচনা হওয়ার পরও এ জটিলতার কোনো সুরাহা হচ্ছে না। ভারতের কাস্টমস বলছে রাস্তা সরু বিধায় ভুটানের পণবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো পৃথক লেন ব্যবহারের সুযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর বর্তমান অবকাঠামোতে ভারতের পক্ষে নেপাল ও ভুটানের পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ফুলবাড়ি ও চ্যাংড়াবান্ধা সীমান্তে স্থান দেওয়ার কোনো সুযোগও নেই। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভুটান ও নেপালের ট্রানজিট পণ্য বুড়িমারি সীমান্তে প্রবেশে বিশেষ সুযোগ দেয়ার অনুরোধ জানানোর পর ভারতের তরফ থেকে শুধু আশ্বাস মিলেছে।

বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, ভারতের কাছে এ বিষয়ে জয়েন্ট গ্রুপ অব কাস্টমস’এর ১২তম সভায় সহযোগিতা চাওয়া হয়। বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমানও অল্প। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৪.৭৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করে ভুটানে। ভুটান থেকে বাংলাদেশে এসময় আমদানি হয় ২১.৬০ মিলিয়ন ডলারের পণ। অথচ গত অর্থবছরে মার্চ নাগাদ ভারত বাংলাদেশে ৬.৮ বিলিয়ন পণ্য রফতানি করে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে ভারতের রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ শতাংশ। এবং দুটি দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সর্বসময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল সাড়ে ৭ বিলিয়ন যা বৃদ্ধি পায় ১১ শতাংশে। বাংলাদেশ ভারত থেকে নবম বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ।

ভুটানে বাংলাদেশ পোশাক, কৃষি পণ্য ও জুতা রফতানি করে। আমদানি করে সব্জি, তৈরি খাবার, খনিজ পণ্য, বস্ত্র, ধাতব ও যন্ত্রাংশ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ