Skip to main content

বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব, সম্ভব নয়!

আশিক রহমান : এই মুহূর্তে দেশে যে রাজনৈতিক পরিবেশ আছে তাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব? দুই রকম মত প্রদান করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের রাজনৈতিক পরিবেশ এখন নেই। সেটা এখনো তৈরি হয়নি। অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাইলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উন্নত করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ একটা পরিবেশ ও শ্রদ্ধাবোধ লাগবে। বিরোধীদলগুলোকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখার মানসিকতা থাকতে হবে ক্ষমতাসীনদের। একইকথা বিরোধীদলগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এই পরিবেশটি তৈরি করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। তা নিশ্চিত করতে না পারলে নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে কীভাবে? সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণ করা দায়িত্ব পুরোপুরি সরকারের। নির্বাচন কমিশনও সঠিকভাবে চলবে যদি সরকার আন্তরিকভাবে চায়। সিপিবির উপদেষ্টাম-লীর সদস্য মনজুরুল আহসান খান বলেন, এখনো পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। নানা ধরনের দমন-পীড়ন এখনো চলছে। প্রচার-প্রচারণায় সরকার এগিয়ে আছে। এমন একটি পরিবেশ সরকার সৃষ্টি করেছে যেখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ছাড়া বিরোধীদলগুলোর সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে কিছুটা বাধ্য হয়েই। ক্ষমতা যাতে কুক্সিক্ষগত থাকে সরকার সেই পরিকল্পনাও করেছে। তবে ৫ জানুয়ারি যে একতরফা নির্বাচন হয়েছিলো, এবার তা হবে না। তবে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধীদলগুলো কিছু আসন নিতে পারবে বলে আশা করছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে দেশে যে রাজনৈতিক পরিবেশ আছে তাতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। এখনো এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি যে, সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে বা অসম্ভব বলা যেতে পারে। কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। পল্টনে একটা ঘটনা ঘটেছে বটে, কিন্তু এর বাইরে তো এমন কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই দেখছি আমি। দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই হতে যাচ্ছে। সবাই অংশগ্রহণ করলে একটা ভালো নির্বাচন হয়। ভালো নির্বাচনের জন্য প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের দায়িত্বশীলতা যেমন দরকার, তেমনি দরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা। সুষ্ঠু নির্বাচনে সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ থাকলে ভালো নির্বাচনের পথে বাধাগুলো দূর হয়ে যাবে।

অন্যান্য সংবাদ