প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনৈতিক নেতাদের দল বদলের চমক

মহসীন কবির : জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক নেতারা দলবদল করেছেন। রাজনীতির সাথে রাজনৈতিক আদর্শ ও ক্ষমতার সম্পর্ক থাকে। রাজনীতিতে যখন ক্ষমতাই মূলমন্ত্র, তখন রাজনীতিকদের দলবদল একটি রুটিন কাজ। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে রাজনীতিকদের দলবদলের তোড়জোড় বেশি দেখা যায়। মনোনয়ন পাওয়ার আশায় তারা দলবদল করেছেন।

এবারের চমকের প্রথম সারিতে আছেন রেজা কিবরিয়া। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের ছিলেন তার পিতা অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় তিনি নিহত হন । নির্বাচনী দলবদলের বাজারে দারুণ এক চমক দেখালেন সেই এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া। হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হতে চান তিনি। এ জন্য যোগ দিয়েছেন ড. কামালের গণফোরামে। তার এমন সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তোড়জোড়ের মধ্যে ২৬ অক্টোবর এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারায় যোগ দেন বেশ কয়েকজন রাজনীতিক। এদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, এরশাদ আমলের দুই প্রতিমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলন ও নাজিম উদ্দিন আল আজাদ। ২৩ এপ্রিল জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এ টি এম আলমগীর। এর আগে তিনি কুমিল্লা-১০ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) সংসদীয় আসন থেকে পঞ্চম ও ষষ্ঠ সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। গত ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টিতে ফেরেন স্বতন্ত্র এমপি রুস্তুম আলী ফরাজী। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও পরে যোগ দেন বিএনপিতে। ২০০১ সালে বিএনপির টিকিট নিয়ে সংসদ সদস্য হন। পরে ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হেরে যান। তবে আর বিএনপিতে সক্রিয় হননি তিনি। ২০১৪ সালে ফের স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করে এমপি হন। ১ মার্চ ঝিনাইদহ জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এম হারুন অর রশিদ আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

চট্টগ্রাম সিটির সাবেক মেয়র, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মঞ্জুর আলম চট্টগ্রাম-১ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন। তিনি মূলত চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি, সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর শিষ্য হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত। আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ফারুক আলম গাইবান্ধা-৫ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। ১/১১-এর আলোচিত চরিত্র লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ফেনী-৩ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কেনেন। সেখানে সাড়া না পেয়ে ভোল পাল্টে পরদিনই তিনি একই আসনের জন্য জাতীয় পার্টির মনোনয়ন ফরম কেনেন। রাতারাতি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এরশাদের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হন।

২০০১ সালে বিএনপির বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়ে আলোচনায় আসেন এম এম শাহীন। এরপর ফেরেন বিএনপিতে। কিন্তু ১/১১ রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় যোগ দেন কিংস পার্টিতে। পরে আবারো দলে ফিরে গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির শক্ত প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় দীর্ঘদিন মাঠে ছিলেন তিনি। কিন্তু রাতারাতি দল বদল করে ফের বিএনপি ছেড়েছেন এম এম শাহীন। ১৫ নভেম্বর বিকেলে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারায় যোগ দেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফন্ট থেকে মনোনয়নের অনিশ্চতার কারণে শাহীন দল বদল করেছেন বলে জানা গেছে। চাউর রয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মনসুর মনোনয়ন পাবেন- এমন আভাস পেয়ে দল বদল করেন এম এম শাহীন।

আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্সের (বিএনএ) সভাপতি ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। ৯ নভেম্বর ধানমন্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের নির্বাচনি অফিস থেকে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচনের জন্য তিনি মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেন। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা গণমাধ্যমকে বলেছেন, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়েই আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। এজন্য আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ২০০১ সালের তৎকালীন বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে যোগাযোগমন্ত্রী ছিলেন এবং বিএনপির প্রথম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি থেকে বের হয়ে তৃণমূল বিএনপি নামে একটি দল গঠন করেন। এ দলের মাধ্যমে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্স (বিএনএ) নামের একটি নতুন জোটও তার নেতৃত্বে রয়েছে। এ জোটের সভাপতি তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ