প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচন কমিশন কি সঠিক পথে?

রোবায়েত ফেরদৌস : নির্বাচন কমিশন শুরু থেকেই একটা প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানের মধ্যে আছে। জনগণের সংশয় দূর বা আস্থা এখনো তারা অর্জন করতে পারেনি। এটা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক একটা খবর। বাংলাদেশের বয়স ৪৭ বছর হয়ে গেলেও আমাদের নির্বাচনী কোনো আইন নেই, অনেকেই হয়তো তা জানেন না। নির্বাচনী প্রক্রিয়া কীভাবে শুরু হবে তা নিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দুই-তিন বছর আগে থেকে আমরা আলোচনা বা কথা বলতে শুরু করি। কারণ আমাদের কোনো আইন নেই।

ইংল্যান্ড বা আমেরিকার লোকজন জানে চার বা পাঁচবছর পর ওমুক দিন, ওমুক মঙ্গলবার নির্বাচন হবে। আমাদের নির্বাচনী আইন না থাকার কারণেই মূল সমস্যা হয়েছে। আইন থাকলে লেখা থাকতো যে, কাকে বা কাদেরকে আমরা নির্বাচন কমিশন প্রধান বা কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করবো। তাদের যোগ্যতা কী। কিন্তু সেরকম কোনো ধারা কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত নির্মাণ করতে পারিনি। আমরা সার্চ কমিটি করেছিলাম, এটা ওইভাবে সংবিধান বা আইনের মধ্যেও নেই।

বিএনপি শুরু থেকে নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের নিয়ে আপত্তি ও প্রশ্ন তুলেছিলেন এ যাবৎকালে নির্বাচন কমিশনের যে ভূমিকা আমরা দেখেছি সেটাও প্রশ্নবিদ্ধ। সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে অনেক অনিয়ম-জালিয়াতির খরব প্রকাশের পরও তারা কোনো অ্যাকশন নেয়নি। কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সর্বশেষ আওয়ামী লীগ ধানমন্ডি অফিসে মিছিল করে, উৎসব করে মনোনয়নপত্র কেনা হলে সাংবাদিকেরা জিজ্ঞেস করলেন একজন নির্বাচন কমিশনারকে, নির্বাচন বিধি কি লঙ্ঘিত হচ্ছে? তিনি বলেছিলেন, আমি খুব স্পষ্ট নই। আমি জানি না! কিন্তু এটা তো হতে পারে না। আগে তো আইন জানতে হবে। কিন্তু কয়েকদিন পর বিএনপির জনসভা শুরু করলে, মিছিল করে এলে বিধি লঙ্ঘন হয়। পুলিশ অ্যাকশনে যায়।

পুলিশি অ্যাকশনের পুরো দায় এখন সরকারের নয়, নির্বাচন কমিশনের। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন যেভাবে চাইবে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেভাবে কাজ করতে বাধ্য। পল্টন ঘটনায় আমি যতোটা না দোষ সরকারকে দেবো, তার চেয়ে বেশি দায় দেবো নির্বাচন কমিশনকে। নির্বাচন কমিশনের এটা ব্যর্থতা।

লেখক : অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাবি.

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ