প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি এগিয়ে!

বিভুরঞ্জন সরকার : জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাদ-প্রতিবাদ এবং ব্লেম গেম জমে উঠেছে। রাজনীতির প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি একে অপরকে ঘায়েল করার জন্য ওঠেপড়ে লেগেছে। এমনকি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগও এক পক্ষ আরেক পক্ষের বিরুদ্ধে তুলছে। কে কাকে কতোটা চাপে রাখতে পেরেছে বা পারছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলে বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় আছে বলে যেমন ধারণা করা হচ্ছিলো তা এর মধ্যেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

নানামুখি সরকারি চাপ ও তাপের মধ্যে থেকে সারাদেশে বিএনপি নেই হয়ে গিয়েছে বলে যে প্রচারণা চালিয়ে আওয়ামী লীগ এতোদিন আত্মসুখে মগ্ন ছিলো তাতে একটি বড় ধাক্কা দিতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের অনেকের ধারণা ছিলো, বিএনপি হয়তো এবারও নির্বাচনে অংশ নেবে না। কিন্তু পরিস্থিতি চরম প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আওয়ামী লীগের ঘরে নাড়া দিতে পেরেছে বিএনপি। ড. কামাল হোসেনের মধ্যস্থতায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনও ছিলো বিএনপির একটি ভালো কৌশল। বড় দলের অহমিকা ভুলে বিএনপি যে ছোট দলের প্রভাব বলয়ে যেতে পারলো এটা তাদের একটি সাফল্য। এই ফ্রন্ট নিয়ে অনেকে হাসি-তামাশা করলেও সরকারের কানে ঠিকই পানি ঢুকেছে।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বসার সম্মতি বিএনপির জন্য স্বস্তির কারণ হয়েছে। এই আলোচনায় বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্টের প্রধান কোনো দাবি মানা না হলেও বিষয়টি বিএনপির জন্য ভালো হয়েছে। বিএনপি যে নিঃশ্বাস ফেলার স্পেস পেয়েছে তাতেই দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। এই চাঙ্গা মনোভাবের প্রতিফলন লক্ষ করা গেছে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যা দেখে।

আওয়ামী লীগ আগে দলীয় মনোননয়নপত্র বিক্রি শুরু করে বিপুল সাড়া পেয়ে ধরে নিয়েছিলো যে তারা ক্ষমতায় যে ফিরে আসছে তা বোঝা যাচ্ছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে। কিন্তু বিএনপি মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরে করলে দেখাতে গেলো সেখানে উৎসাহ-উদ্দীপনা আরো বেশি। নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে কদিন ছিলো উৎসবের আমেজ। কারো কারো মনে হয়েছে, বিএনপি বুঝি ক্ষমতায় এসে গেছে!

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে চার হাজারের কিছু বেশি। তাতেই অনেকের উৎসাহের সীমা ছিলো না। কিন্তু বিএনপির মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে পাঁচ হাজারের কাছাকাছি। বিএনপি এতে এতোই খুশি যে তার কোনো তুলনা নেই। বিএনপি এবং তার সঙ্গী-সাথীরা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে, আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপি এগিয়ে আছে। নির্বাচন পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় থাকবে বলেই অনেকে মনে করছেন।

বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে না বলে যে শঙ্কা ছড়ানো হচ্ছিলো তাও দূর করেছেন ড. কামাল হোসেন এ কথা বলে যে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বয়কট করবে না। মাঠ দখলের প্রতিযোগিতা শুরু হবে মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত হওয়ার পরে। আর ৩০ ডিসেম্বর প্রমাণ হবে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে!

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ