প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেরুকরণ না স্খলন?

অনলাইন ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের রাজনীতি এখন মোটা দাগে দুই ধারায় বিভক্ত। বিএনপিকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করেছে একসময়ের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন নেতা। বিএনপি একই সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে রয়েছে, যেখানে তাদের বড় মিত্র স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী। অন্যদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী আওয়ামী লীগের সঙ্গে মহাজোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সমালোচনা আছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্ক নিয়ে। এর আগে দলটি সমালোচনার মুখে পড়েছিল সাবেক স্বৈরাচারী শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টিকে নিয়ে মহাজোট গঠন নিয়ে।

জামায়াতকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার জন্য একসময় যাঁরা বিএনপির সমালোচনা করতেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে জামায়াতের বিরোধিতায় সরব ছিলেন, তাঁরা এখন এ দুটি দলের সঙ্গে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। ঠিক তেমনই আওয়ামী লীগ তথা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঠেকাতে মিথ্যা অপপ্রচারেও ক্ষান্ত হননি যাঁরা, তাঁরাই আবার এখন আওয়ামী লীগের পক্ষে সোচ্চার। প্রস্তুতি নিচ্ছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার। বিষয়টি দেশের বিজ্ঞজনরা কিভাবে দেখছেন? এটা রাজনৈতিক মেরুকরণ, নাকি স্খলন? এই প্রশ্নে তাঁরা বলেছেন, দেশের রাজনীতি থেকে নীতি-আদর্শ বিতাড়িত হয়েছে। এটা তারই প্রতিফলন। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে হবে, সংসদ সদস্য হতে হবে। তাঁদের মতে, এই রাজনীতিবিদদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি নেই। নেই নিজের ওপর আস্থা।

তবে দুই পক্ষই আত্মপক্ষ সমর্থন করে তাদের বর্তমান অবস্থানকে সঠিক বলে দাবি করছে। এক পক্ষের দাবি দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য তাদের এই প্রয়াস। আরেক পক্ষের দাবি, তারা দীর্ঘ সময় বিএনপি থেকে দূরে ছিল।

শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা ও অনুসারীদের বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে এক হয়ে যাওয়া—এটা বুর্জোয়া রাজনীতি। এখানে কোনো আদর্শ নেই। এদের লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া, ক্ষমতার ভাগ নেওয়া। এ রাজনীতি অন্তঃসারশূন্য।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, “এটা করে তারাই, যাদের শক্তিশালী ‘প্রিন্সিপল’ নেই। যখন যেটা সুযোগ পায় সেটাই করে।” তিনি আরো বলেন, ‘কাদের সিদ্দিকী গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন বলে দাবি করছেন। বদরুদ্দোজা চৌধুরী স্বার্থের জন্য করেছেন। ১০টা আসনে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতাও তাঁদের নেই।’

কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রে বিভিন্ন দলের জোট করা স্বাভাবিক রীতি। সব দল একই নীতি-আদর্শে বিশ্বাসী হবে তা-ও নয়। রক্ষণশীলদের সঙ্গে বামপন্থীরাও থাকতে পারে। কিন্তু আজীবন যে দলের বিরুদ্ধে ছিল, একটি-দুটি আসন পাওয়ার আশায় সেখানে শুধু যাচ্ছেই না, নিজের প্রতিষ্ঠিত দলের সমালোচনায়ও মুখর।’ তিনি আরো বলেন, “বিকল্পধারার নেতা আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে ‘শাবাশ বাংলাদেশ’ বানিয়েছিলেন, সেটা তিনি ভুলে গেলেও মানুষ মনে রেখেছে। আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক দল, রাজনীতি থেকে ধর্মকে আলাদা রাখার ওয়াদা তাদের, তারা হেফাজতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে তাদের ভোট পাওয়ার আশায়। বিএনপির রাজনীতির ঘোর সমালোচক ছিলেন যাঁরা, তাঁরা বিএনপির সঙ্গে ফ্রন্ট গড়েছেন। এতে রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। আদৌ কারো কোনো নীতি আছে কি না মানুষ বুঝতে পারছে না। তবে আওয়ামী লীগের মধ্য বাম থেকে ডানে ঝুঁকে পড়া এবং সাম্প্রদায়িক ও নারীবিদ্বেষী গোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত, অন্যদিকে বিএনপির ডান থেকে সরে আসা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি মেরুকরণ ঘটাতে পারে।”

আবুল মকসুদ মনে করেন, এ অবস্থায় ভোটাররা দলীয় রাজনীতির নীতি-আদর্শ বিবেচনা করবে না, প্রার্থীর যোগ্যতাই নির্বাচনে প্রাধান্য পাবে। ছোট দলগুলো নিজেদের প্রতীকে নয়, বড় দলের প্রতীকে নির্বাচন করবে, তাতে ছোট দলগুলোর নীতি-আদর্শ মূল্যহীন হয়ে পড়বে। নির্বাচনের পর তাদের অবস্থান কী দাঁড়ায় সেটাই এখন দেখার বিষয়। এতে প্রমাণিত হয় যে নিজের দলের প্রতি তাঁদের আস্থা নেই।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের রাজনীতিতে যে শেষ কথা বলতে কিছু নেই, এটা তারই প্রতিফলন। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে হবে, সংসদ সদস্য হতে হবে। ক্ষমতায় গেলে সংসদ সদস্য হলে অনেক রকম সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে।’

গত মাসে বিএনপি, গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য মিলে গঠন করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পরে এই জোটে যোগ দেয় কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। জাতীয় ঐক্য গড়ার প্রক্রিয়ায় বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিকল্পধারা থাকলেও পরে তারা পিছিয়ে যায়। দলটির নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে যুক্তফ্রন্ট নামের একটি জোট। এর মধ্যে বিকল্পধারায় যোগ দিয়েছেন বিএনপি ও জাতীয় পার্টির কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য। জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে মহাজোট গঠন করেছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করে নির্বাচন করে। তারাই বর্তমানে সংসদ বিরোধী দল। পার্টির প্রধান এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টি মহাজোট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা বলেছে, জোট ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবে। অন্যদিকে বিএনপির মিত্র জামায়াতও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা বিএনপির ধানের শীষ নাকি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী দেবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি দলটি। তবে তারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে বলে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী মুক্তিযুদ্ধের পরে পরিচিত হন বঙ্গবীর নামে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন এই মুক্তিযোদ্ধা। পরবর্তী সময়ে ভারতে স্বেচ্ছানির্বাসনে যান। সেখান থেকে দেশে ফিরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে টাঙ্গাইল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ছিলেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের এক নম্বর সদস্য। ১৯৯৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করেন। এবার নির্বাচন করলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন রব। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম এই নেতা আসন্ন সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান। তিনি নির্বাচন করবেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু পঁচাত্তর-পরবর্তী দুঃসময়ে ঢাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আওয়ামী যুবলীগের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি ছাড়াও পরবর্তী সময়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি। বর্তমানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম এই নেতা ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসন থেকে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরাজিত হন। এবার নির্বাচন করলে ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। সেখানে সক্রিয় অংশ নেন তিনি। ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের (ওয়ান-ইলেভেন) সময়কার ভূমিকার কারণে আওয়ামী লীগ থেকে ছিটকে পড়ার পর মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে নাগরিক ঐক্য গড়ে তোলেন। বর্তমানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা নিজ এলাকা থেকে নির্বাচন করতে চান। নির্বাচন করলে তিনিও বিএনপির প্রতীক নিয়ে করবেন।

জানতে চাইলে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি মনে করি দেশের মালিক জনগণ। এ দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত, এই গণতন্ত্র উদ্ধারের স্বার্থে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে উঠেছে। ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। তবে জনগণ ভোট দেবে মানুষ দেখে। জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বর্তমানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতা। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এবং পরে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নৌকা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি। জানা গেছে, এবারও তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চান। সে ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।

আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলের অর্থমন্ত্রী ড. শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া গণফোরামে যোগ দিয়েছেন। তিনি হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চান। ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করলে তাঁকেও বিএনপির প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। বিএনপির বিগত শাসনামলে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন কিবরিয়া। এই মামলায় বিএনপির কয়েকজন নেতাও আসামি।

বিকল্পধারার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরী। তাঁর বাবা বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এর আগে বিএনপি শাসনামলে মন্ত্রীও ছিলেন। সংসদ উপনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ছেলে মাহী বি চৌধুরী। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে বদরুদ্দোজা চৌধুরী বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলায় ‘শাবাশ বাংলাদেশ’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজক ও উপস্থাপক ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়েছিল। সেই বি চৌধুরীর ছেলে মাহী বি চৌধুরী এবার মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।

বিকল্পধারার প্রধান বদরুদ্দোজা চৌধুরীও ঢাকার কোনো আসনে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করতে চান বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে মাহী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা কখনোই ২০ দলে ছিলাম না। বিএনপি ছেড়েছি ১৪ বছর হলো। ২০০৬ সাল থেকে মহাজোটে ছিলাম। মাঝে ২০০৯ সালে মহাজোটের বাইরে আসি।’ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘জামায়াতবিরোধীদের হঠাৎ করে বিএনপির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়া অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজনীতির মার্কা পরিবর্তন বা বিপরীত মেরুতে অবস্থান নেওয়া নতুন কিছু নয়। এই উপমহাদেশের রাজনীতিতে এ রকম উদাহরণ আছে। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে যাঁরা নির্বাচন করবেন, এটাকে সুবিধা বলা যাবে না। তাঁরা গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এ অবস্থান নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, এটা রাজনৈতিক মেরুকরণ বলার সুযোগ নেই। স্বাধীন বাংলাদেশে বাস করে কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি ফিরে আসে তাকে সাধুবাদ জানাই। আবার যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ত্যাগ করে বিরোধী শক্তির সঙ্গে হাত মেলায় তাঁকে নৈতিক স্খলন বলা যেতে পারে। সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ